বাদাম কারও কাছেই অপরিচিত নয়। আঁশ ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ বাদামে যেমন আছে বিভিন্ন খাদ্যপ্রাণ অর্থাৎ ভিটামিন, তেমনি আছে অনেক খনিজ উপাদান। সেগুলো আমাদের দেহের বিভিন্ন জটিল বিপাকীয় কাজকে সহজ করে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়, ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়। চুল ও ত্বকের যত্নের সঙ্গে প্রাণোচ্ছলতা আর স্মৃতিশক্তিও ধরে রাখে। আমিষ এবং উপকারী স্নেহ পদার্থ বা ফ্যাটি অ্যাসিডের চমৎকার উৎস হচ্ছে বাদাম। এটি বহুমূত্র নিয়ন্ত্রণে এবং হৃদ্রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। নিয়মিত ৬০ গ্রাম বাদাম খেলে সহজে মুটিয়ে যাওয়ার ভয় থাকে না। যাঁরা সুস্বাস্থ্যের সঙ্গে রূপলাবণ্যসচেতন, তাঁদের পছন্দের খাবারের তালিকায় বাদাম না থাকলেই নয়।
চিনাবাদাম
জনপ্রিয় ও সহজলভ্য এই বাদাম পুষ্টিগুণে অন্যান্য বাদামের থেকে কম যায় না। আমিষ ও অপরিহার্য ফ্যাটি অ্যাসিড, অর্থাৎ উপকারী স্নেহ পদার্থসমৃদ্ধ এই বাদামে আছে প্রচুর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, আয়রন, পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম। চিনাবাদাম কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে হৃদ্রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। তবে যাঁদের চিনাবাদামে এলার্জি আছে, তাঁদের অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে।
হ্যাজেলনাট
অদ্রবণীয় ও দ্রবণীয় আঁশসমৃদ্ধ এই বাদামে আছে প্রচুর ম্যাংগানিজ, কপার, আয়রন, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট আর ভিটামিন ই, বি১ এবং বি৬। এ কারণে একে সুপার ফুড বললেও অত্যুক্তি হবে না। প্রদাহ ও রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা কমাতে সহায়তা করে এটি। হৃদ্রোগ প্রতিরোধে এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে হ্যাজেলনাট। আমিষ ও উপকারী স্নেহ পদার্থের ঘাটতি নেই বলেই নিরামিষভোজীরা খেতে পছন্দ করেন এটি।
চিলগোজা বা পাইন নাট
চিলগোজা উপকারী স্নেহ পদার্থসমৃদ্ধ। তা ছাড়া ফসফরাস, আয়রন, পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়ামের খুব ভালো উৎস। বহুমূত্র নিয়ন্ত্রণে এবং হৃদ্রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে এটি। আর ভিটামিন ই ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ চিলগোজা ক্ষুধানাশক হরমোন কোলেসিস্টোকিনিন নিঃসরণ করে অতিরিক্ত খাওয়ার ইচ্ছাকে কমিয়ে দেয়।
কাঠবাদাম বা আলমন্ড
এটি যেমন খুব জনপ্রিয়, তেমনি উপকারী। সব বাদামের মতোই ভিটামিন ও খনিজসমৃদ্ধ কাঠবাদাম রোগ প্রতিরোধ ও ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। বিশেষ করে ম্যাগনেশিয়ামসমৃদ্ধ এই বাদাম হৃদরোগ প্রতিরোধ ও উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। ডায়াবেটিস টাইপ-২ রোগীর রক্তে চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে কাঠবাদাম বেশ উপকারী।
আখরোট
প্রায় সব বাদামের মতোই এতে আছে পর্যাপ্ত ম্যাগনেশিয়াম, ভিটামিন ই এবং বি। পাশাপাশি আয়রন, ক্যালসিয়াম, খনিজ, সূক্ষ্ম উপাদান এবং আঁশও আছে এতে। হৃদ্রোগ প্রতিরোধে আখরোট বেশ উপকারী। আখরোটে থাকা ওমেগা-৩ স্মৃতিশক্তি ও একাগ্রতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। আর আঁশসমৃদ্ধ বলেই কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে রেহাই পাওয়া যাবে আখরোট খেলে।
বর্তমান বিশ্বের অন্যতম প্রধান ঘাতক রোগ ‘হৃদ্রোগ’ প্রতিরোধে বাদাম যেমন আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় রাখতে হবে, তেমনি আজকের পৃথিবীর অসংক্রামক মহামারি বহুমূত্র বা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে বাদামকে মোটেই অবহেলা করা উচিত হবে না।
লেখক: ফ্রান্সপ্রবাসী গবেষক

চিকিৎসা সেবাকে সাধারণ মানুষের জন্য সহজলভ্য করার ওপর গুরুত্বারোপ করে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেছেন, ‘ভবিষ্যতে মানুষকে আর চিকিৎসার জন্য ডাক্তারের পেছনে ঘুরতে হবে না, বরং ডাক্তাররাই মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেবেন।
১ ঘণ্টা আগে
স্বাধীনতার পর পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। মাতৃ ও শিশুমৃত্যুর হার কমেছে, বেড়েছে গড় আয়ু। তবে অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ, জনস্বাস্থ্যের উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থাপনায় রয়েছে সীমাবদ্ধতা।
৪ দিন আগে
শীতকে বিদায় জানিয়ে চলে এসেছে ঋতুরাজ বসন্ত। প্রকৃতিতে ছড়াচ্ছে উষ্ণতা। এই অবস্থায় ঋতু পরিবর্তনজনিত কারণে অনেকেই এখন সর্দি-জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় অনুসরণ করলেই রোগীর কষ্ট কিছুটা কমানো সম্ভব।
৪ দিন আগে
প্যালিয়েটিভ কেয়ার সোসাইটি অব বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ নটর ডেম অ্যালামনাই অব নর্থ আমেরিকার উদ্যোগে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য প্যালিয়েটিভ কেয়ার সেনসিটাইজেশন অনুষ্ঠান হয়ে গেল। আজ ১৫ ফেব্রুয়ারি, নটর ডেম ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের সার্বিক সহায়তায় বিশ্ববিদ্যালয়টির ক্যাম্পাসে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়...
৫ দিন আগে