
গর্ভধারণ নারীজীবনের খুব কাঙ্ক্ষিত বিষয়। এর প্রথম থেকে কিছু লক্ষণ দেখা যায়, যেগুলো গর্ভধারণের প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে বিবেচিত।
কোনো মাসে পিরিয়ড না হওয়াকে গর্ভধারণের লক্ষণ বলে মনে করেন অধিকাংশ বিবাহিত নারী। কিন্তু পিরিয়ড মিস হওয়াই গর্ভধারণের একমাত্র লক্ষণ নয়। দেখা গেছে, পিরিয়ড নিয়মিত হওয়া সত্ত্বেও গর্ভধারণ করেছেন অনেকে। পিরিয়ড মিস হওয়া ছাড়াও শরীরের কিছু পরিবর্তন দেখে এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়।
বমিভাব বা গা গোলানো গর্ভধারণের প্রথম দিকের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। গর্ভধারণের চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ পর্যন্ত এ লক্ষণ বেশি দেখা যায়। এ সময় শরীরে ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোনের স্তর বাড়ায় এই সমস্যা হয়। সাধারণত সকালবেলা ঘুম থেকে ওঠার পর বমিভাব বা বমি বেশি হয় বলে একে মর্নিং সিকনেস বলা হয়।
গর্ভধারণের প্রথম সপ্তাহে অথবা তার পর থেকে স্তন ফুলে যাওয়া, ভারী হওয়া অথবা স্তনে ব্যথা অনুভূত হওয়া ইত্যাদি লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
গর্ভধারণের প্রাথমিক লক্ষণগুলোর মধ্যে একটি হলো ভ্যাজাইনাল ডিসচার্জ। সাধারণত গর্ভবতীদের শরীরে হরমোনের পরিবর্তনের জন্য এমনটা হয়। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে সংক্রমণের কারণেও এমন হতে পারে।
গর্ভধারণকালে শরীরে প্রোজেস্টেরন হরমোনের মাত্রা বাড়ায় শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। তবে সর্দি, কাশি কিংবা অন্যান্য রোগের সংক্রমণের কারণেও শরীরের তাপমাত্রা বাড়তে পারে।
অস্বাভাবিক রকম ক্লান্তি ও দুর্বলতা গর্ভধারণের প্রাথমিক লক্ষণগুলোর অন্যতম। শরীরে বিভিন্ন হরমোনের তারতম্য, ক্ষুধামান্দ্য এবং পরিমাণে অল্প খাবার খাওয়ার কারণেও এই দুর্বলতা হতে পারে।
গর্ভাবস্থায় কখনো অনিয়মিত রক্তপাত, স্পটিং এবং তলপেটে ব্যথা হতে পারে। এই লক্ষণগুলো অনেক সময় নানা গুরুত্বপূর্ণ রোগ; যেমন গর্ভপাত, এক্টপিক প্রেগনেন্সি ও মোলার প্রেগনেন্সির ক্ষেত্রেও দেখা যায়। তাই এ ধরনের সমস্যা দেখা দিলে দ্রুততম সময়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে ক্ষুধামান্দ্য ও অরুচির সমস্যায় ভোগেন অধিকাংশ গর্ভবতী। পছন্দের খাবারগুলোও আর আগের মতো খেতে পারেন না অনেকে। আবার দিনের বিশেষ কোনো সময়ে বিশেষ কোনো খাবার অথবা অস্বাভাবিক কিছু খাবার খাওয়ার ইচ্ছা জাগে। সাধারণত শরীরে হরমোনের পরিবর্তনের কারণে এ ধরনের সমস্যা হয়।
ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া গর্ভধারণের অন্যতম প্রধান লক্ষণ। ওভুলেশন প্রক্রিয়ার পর গর্ভধারণ হলে দিনে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশিবার প্রস্রাব হতে পারে অনেকের। গর্ভাবস্থায় শরীরের রক্তের পরিমাণ বাড়ে। এ সময় কিডনি বেশি তরল নিঃসরণ করা শুরু করে। সে তরল প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। অন্যদিকে জরায়ুর আয়তন বৃদ্ধির সঙ্গে প্রস্রাবের থলির ওপর চাপ পড়ে। ফলে ঘন ঘন প্রস্রাব হয়।
কোষ্ঠকাঠিন্য গর্ভাবস্থার অন্যতম লক্ষণ। শরীরে হরমোনের প্রভাবে পরিপাকের কাজের ধীরগতি, অপর্যাপ্ত পানি পান, শাকসবজি ও খাদ্য গ্রহণ এর উল্লেখযোগ্য কারণ।
গর্ভধারণের শুরুর দিন থেকে মাথাব্যথা অনুভব হতে পারে কারও কারও। গর্ভাবস্থার প্রাথমিক পর্যায়ে রক্তসঞ্চালন এবং হরমোনের মাত্রা বাড়ার কারণে এমনটি হয়। মাথাব্যথার পাশাপাশি মাথা ঘোরানো অনুভব হতে পারে।
করণীয়
লেখক: স্ত্রীরোগ, প্রসূতিবিদ্যা ও বন্ধ্যাত্ব রোগ বিশেষজ্ঞ এবং সার্জন, চেম্বার: আলোক হেলথ কেয়ার লি., মিরপুর ১০, ঢাকা

চিকিৎসা সেবাকে সাধারণ মানুষের জন্য সহজলভ্য করার ওপর গুরুত্বারোপ করে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেছেন, ‘ভবিষ্যতে মানুষকে আর চিকিৎসার জন্য ডাক্তারের পেছনে ঘুরতে হবে না, বরং ডাক্তাররাই মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেবেন।
১ ঘণ্টা আগে
স্বাধীনতার পর পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। মাতৃ ও শিশুমৃত্যুর হার কমেছে, বেড়েছে গড় আয়ু। তবে অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ, জনস্বাস্থ্যের উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থাপনায় রয়েছে সীমাবদ্ধতা।
৪ দিন আগে
শীতকে বিদায় জানিয়ে চলে এসেছে ঋতুরাজ বসন্ত। প্রকৃতিতে ছড়াচ্ছে উষ্ণতা। এই অবস্থায় ঋতু পরিবর্তনজনিত কারণে অনেকেই এখন সর্দি-জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় অনুসরণ করলেই রোগীর কষ্ট কিছুটা কমানো সম্ভব।
৪ দিন আগে
প্যালিয়েটিভ কেয়ার সোসাইটি অব বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ নটর ডেম অ্যালামনাই অব নর্থ আমেরিকার উদ্যোগে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য প্যালিয়েটিভ কেয়ার সেনসিটাইজেশন অনুষ্ঠান হয়ে গেল। আজ ১৫ ফেব্রুয়ারি, নটর ডেম ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের সার্বিক সহায়তায় বিশ্ববিদ্যালয়টির ক্যাম্পাসে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়...
৫ দিন আগে