অনলাইন ডেস্ক
পাকিস্তানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাঞ্জাব প্রদেশে ১৩ বছর বয়সী গৃহকর্মীকে হত্যার অভিযোগে আটক করা হয়েছে এক দম্পতিকে। অভিযোগ উঠেছে, চকলেট চুরির সন্দেহে ওই গৃহকর্মীকে তাঁরা নির্মম নির্যাতন করে মেরে ফেলেছেন।
মঙ্গলবার বিবিসি জানিয়েছে, ইকরা নামের ওই কিশোরী গত বুধবার হাসপাতালে মারা যায়। তাকে ভয়ংকরভাবে নির্যাতনের বিষয়টি পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে বেরিয়ে এসেছে।
পাঞ্জাব প্রদেশের রাওয়ালপিন্ডিতে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ‘জাস্টিস ফর ইকরা’ হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে হাজার হাজার মানুষ সামাজিক মাধ্যমে ন্যায়বিচারের দাবি জানাচ্ছেন। ঘটনাটি পাকিস্তানে শিশু শ্রম ও গৃহকর্মীদের প্রতি অমানবিক আচরণের বিষয়টিকে আবারও আলোচনায় এনেছে।
পাকিস্তানের আইন অনুযায়ী, ১৫ বছরের নিচে কোনো শিশুকে গৃহকর্মী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া নিষিদ্ধ। কিন্তু বাস্তবে এই নিয়ম প্রায়ই লঙ্ঘিত হয়। ইকরার বাবা ৪৫ বছর বয়সী সানা উল্লাহ একজন কৃষক। তিনি বলেন, ‘তার (ইকরা) মৃত্যু আমার ভেতরটাকে চূর্ণ করে দিয়েছে।’
সানা উল্লাহ জানান, দারিদ্র্যের কারণেই ইকরাকে মাত্র ৮ বছর বয়স থেকেই গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতে পাঠাতে হয়েছিল। ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে পরিবার এই কঠিন সিদ্ধান্ত নেয়।
গত দুই বছর ধরে ইকরা অভিযুক্ত দম্পতির বাড়িতে কাজ করছিল। এই দম্পতির ৮টি সন্তান রয়েছে। সবার দেখভাল করেও পাকিস্তানি মুদ্রায় মাত্র ৩ হাজার রুপি পারিশ্রমিক পেত সে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা মাত্র ১৩০০ টাকা।
পুলিশ জানিয়েছে, ইকরাকে চকলেট চুরির অভিযোগে মারধর করা হয়। তার দেহে বারবার নির্যাতনের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
বিবিসির হাতে আসা ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, ইকরার পা ও হাতে একাধিক ভাঙা হাড় এবং মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল।
একজন কোরআন শিক্ষক ইকরাকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন। যদিও তিনি হাসপাতালে ইকরার সম্পর্কে ভুল তথ্য দিয়েছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, ইকরার বাবা মারা গেছেন এবং তার মা নেই। পুলিশ বলছে, ওই শিক্ষক ইকরা সম্পর্কে জেনে-শুনে মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলেন কিনা, তা এখনো পরিষ্কার নয়। বর্তমানে ইকরার মৃত্যুর পূর্ণ তদন্তের জন্য ময়নাতদন্ত চলছে।
এই বিষয়ে সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। একজন লিখেছেন, ‘সে কি সত্যিই চকলেটের জন্য মারা গেল?’
অন্য একজন মন্তব্য করেন, ‘এটি শুধু একটি অপরাধ নয়। এটি আমাদের সেই ব্যবস্থাকে প্রতিফলিত করে, যেখানে ধনীরা গরিবদের একবার ব্যবহার করে ফেলে দেয়।’
ইকরার গৃহকর্তা রাশিদ শফিক ও তাঁর স্ত্রী সানা-সহ মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে পাকিস্তানে এমন ঘটনার বিচার হওয়া বিরল। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ভুক্তভোগী পরিবারকে টাকার বিনিময়ে মামলা মিটিয়ে নিতে বাধ্য করা হয়।
২০১৮ সালে দেশটির এক বিচারক ও তাঁর স্ত্রী ১০ বছর বয়সী গৃহকর্মী তৈয়বাকে নির্যাতনের অভিযোগে তিন বছরের কারাদণ্ড পান। কিন্তু পরে তাঁদের সাজা কমিয়ে মাত্র এক বছরে নামিয়ে আনা হয়েছিল।
পাকিস্তানের আইনে গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রেও ভুক্তভোগীর পরিবার ‘আল্লাহর নামে’ আসামিকে ক্ষমা করতে পারেন। বাস্তবে এই ক্ষমার পেছনে বেশির ভাগ সময়ই আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি জড়িত থাকে।
জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা (ইউনিসেফ) অনুসারে, পাকিস্তানে ৩৩ লাখ শিশু শ্রমিক রয়েছে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) তথ্যানুযায়ী, পাকিস্তানের ৮৫ লাখ গৃহকর্মীর বেশির ভাগই নারী ও কিশোরী মেয়ে।
পাকিস্তানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাঞ্জাব প্রদেশে ১৩ বছর বয়সী গৃহকর্মীকে হত্যার অভিযোগে আটক করা হয়েছে এক দম্পতিকে। অভিযোগ উঠেছে, চকলেট চুরির সন্দেহে ওই গৃহকর্মীকে তাঁরা নির্মম নির্যাতন করে মেরে ফেলেছেন।
মঙ্গলবার বিবিসি জানিয়েছে, ইকরা নামের ওই কিশোরী গত বুধবার হাসপাতালে মারা যায়। তাকে ভয়ংকরভাবে নির্যাতনের বিষয়টি পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে বেরিয়ে এসেছে।
পাঞ্জাব প্রদেশের রাওয়ালপিন্ডিতে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ‘জাস্টিস ফর ইকরা’ হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে হাজার হাজার মানুষ সামাজিক মাধ্যমে ন্যায়বিচারের দাবি জানাচ্ছেন। ঘটনাটি পাকিস্তানে শিশু শ্রম ও গৃহকর্মীদের প্রতি অমানবিক আচরণের বিষয়টিকে আবারও আলোচনায় এনেছে।
পাকিস্তানের আইন অনুযায়ী, ১৫ বছরের নিচে কোনো শিশুকে গৃহকর্মী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া নিষিদ্ধ। কিন্তু বাস্তবে এই নিয়ম প্রায়ই লঙ্ঘিত হয়। ইকরার বাবা ৪৫ বছর বয়সী সানা উল্লাহ একজন কৃষক। তিনি বলেন, ‘তার (ইকরা) মৃত্যু আমার ভেতরটাকে চূর্ণ করে দিয়েছে।’
সানা উল্লাহ জানান, দারিদ্র্যের কারণেই ইকরাকে মাত্র ৮ বছর বয়স থেকেই গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতে পাঠাতে হয়েছিল। ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে পরিবার এই কঠিন সিদ্ধান্ত নেয়।
গত দুই বছর ধরে ইকরা অভিযুক্ত দম্পতির বাড়িতে কাজ করছিল। এই দম্পতির ৮টি সন্তান রয়েছে। সবার দেখভাল করেও পাকিস্তানি মুদ্রায় মাত্র ৩ হাজার রুপি পারিশ্রমিক পেত সে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা মাত্র ১৩০০ টাকা।
পুলিশ জানিয়েছে, ইকরাকে চকলেট চুরির অভিযোগে মারধর করা হয়। তার দেহে বারবার নির্যাতনের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
বিবিসির হাতে আসা ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, ইকরার পা ও হাতে একাধিক ভাঙা হাড় এবং মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল।
একজন কোরআন শিক্ষক ইকরাকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন। যদিও তিনি হাসপাতালে ইকরার সম্পর্কে ভুল তথ্য দিয়েছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, ইকরার বাবা মারা গেছেন এবং তার মা নেই। পুলিশ বলছে, ওই শিক্ষক ইকরা সম্পর্কে জেনে-শুনে মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলেন কিনা, তা এখনো পরিষ্কার নয়। বর্তমানে ইকরার মৃত্যুর পূর্ণ তদন্তের জন্য ময়নাতদন্ত চলছে।
এই বিষয়ে সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। একজন লিখেছেন, ‘সে কি সত্যিই চকলেটের জন্য মারা গেল?’
অন্য একজন মন্তব্য করেন, ‘এটি শুধু একটি অপরাধ নয়। এটি আমাদের সেই ব্যবস্থাকে প্রতিফলিত করে, যেখানে ধনীরা গরিবদের একবার ব্যবহার করে ফেলে দেয়।’
ইকরার গৃহকর্তা রাশিদ শফিক ও তাঁর স্ত্রী সানা-সহ মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে পাকিস্তানে এমন ঘটনার বিচার হওয়া বিরল। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ভুক্তভোগী পরিবারকে টাকার বিনিময়ে মামলা মিটিয়ে নিতে বাধ্য করা হয়।
২০১৮ সালে দেশটির এক বিচারক ও তাঁর স্ত্রী ১০ বছর বয়সী গৃহকর্মী তৈয়বাকে নির্যাতনের অভিযোগে তিন বছরের কারাদণ্ড পান। কিন্তু পরে তাঁদের সাজা কমিয়ে মাত্র এক বছরে নামিয়ে আনা হয়েছিল।
পাকিস্তানের আইনে গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রেও ভুক্তভোগীর পরিবার ‘আল্লাহর নামে’ আসামিকে ক্ষমা করতে পারেন। বাস্তবে এই ক্ষমার পেছনে বেশির ভাগ সময়ই আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি জড়িত থাকে।
জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা (ইউনিসেফ) অনুসারে, পাকিস্তানে ৩৩ লাখ শিশু শ্রমিক রয়েছে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) তথ্যানুযায়ী, পাকিস্তানের ৮৫ লাখ গৃহকর্মীর বেশির ভাগই নারী ও কিশোরী মেয়ে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত শুল্কের পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে চীন যুক্তরাষ্ট্র থেকে নিজ দেশে আমদানি করা সব পণ্যের ওপর ৩৪ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। এই ঘোষণা বিশ্বকে পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যযুদ্ধের দিকে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে গেছে। আজ শুক্রবার চীনের এই ঘোষণার পর বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারে পতন আরও ত্বরান্বিত হয়েছে।
১ ঘণ্টা আগেকানাডার ক্রমশ উদার হয়ে ওঠা আইনের অধীনে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্স ইন ডায়িং (মেইড) প্রক্রিয়ায় মৃত্যুবরণ করবেন তিনি। দুই বছর আগে ২০২৩ সালের মার্চে মেইডের জন্য আবেদন করেছিলেন এপ্রিল। জন্ম থেকেই মেরুদণ্ডের জটিল রোগ ‘স্পাইনা বিফিডা’য় আক্রান্ত এপ্রিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও জটিলতা বেড়েছে। মেরুদণ্ডের গোড়ায়
২ ঘণ্টা আগেভারত বাংলাদেশের সঙ্গে একটি গঠনমূলক ও জনকেন্দ্রিক সম্পর্ক চায়। প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে এক বৈঠকের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আজ শুক্রবার নিজে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে শেয়ার করা এক পোস্টে এ কথা বলেন।
২ ঘণ্টা আগেকংগ্রেসের এমপি এবং দলের সাধারণ সম্পাদক (যোগাযোগ) জয়রাম রমেশ বলেছেন, বিজেপি সরকারের নেতৃত্বে ভারতীয় পার্লামেন্টে যে ওয়াক্ফ বিল পাস হয়েছে তা সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করবে তাঁর দল। তিনি বলেন, স্থানীয় আজ শুক্রবার ভোরে পার্লামেন্টে পাস হওয়া ওয়াক্ফ (সংশোধনী) বিল সংবিধান সম্মত কি না তা জানতে সুপ্রিম...
৬ ঘণ্টা আগে