Ajker Patrika

ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের ঘোষণায় চীনে বেড়েছে ভোগ্যপণ্যের দাম

চীনা পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ছবি: নিউইয়র্ক টাইমস
চীনা পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ছবি: নিউইয়র্ক টাইমস

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচনে দাঁড়ানোর সময় থেকে চীনের ওপর শুল্ক আরোপ করবেন বলে অনেকবার হুমকি দেন। পরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে চীনের সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধ আরও জটিল করছেন। যার প্রভাবে গত পাঁচ মাসের মধ্যে ২০২৫ সালের প্রথম মাসে চীনে ভোগ্যপণ্যের দাম সবচেয়ে দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে উৎপাদন পর্যায়ে মূল্য কমা অব্যাহত রয়েছে, যা দেশটির মিশ্র ভোক্তা ব্যয় এবং দুর্বল কারখানার চিত্র তুলে ধরে।

আজ রোববার চীনের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) জানুয়ারিতে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে, যা ডিসেম্বরের শূন্য দশমিক ১ শতাংশ বৃদ্ধির তুলনায় অনেক দ্রুত গতিতে। এটি রয়টার্সের অর্থনীতিবিদদের জরিপে অনুমান করা শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধির চেয়ে বেশি। খাদ্য ও জ্বালানির মতো পণ্যের অস্থিতিশীল দাম বাদ দিয়ে জানুয়ারিতে মূল মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ হয়েছে, যা আগের মাসে ছিল শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ।

এ বছর জানুয়ারিতে চীনের লুনার নিউ ইয়ার উপলক্ষে সবচেয়ে বড় বার্ষিক ছুটি ছিল। এ সময় ভোক্তারা বড় পারিবারিক অনুষ্ঠানের জন্য খাদ্য মজুদ করায় পণ্যের দাম বাড়ে। এই ছুটির সময় ভোক্তা ব্যয়ের চিত্র মজুরি ও চাকরির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রতিফলিত করে।

যদিও চীনারা সিনেমা হলে ভিড় করেছে এবং কেনাকাটা, খাবার ও অভ্যন্তরীণ ভ্রমণে বেশি ব্যয় করেছে। এমনকি বিমান টিকিটের দামও আগের বছরের তুলনায় ৮ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে, পর্যটন খাতে মুদ্রাস্ফীতি ৭ দশমিক শূন্য শতাংশ হয়েছে। সিনেমা ও পারফরম্যান্স টিকিটের দাম ১১ দশমিক শূন্য শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

কিন্তু ছুটির সময় মাথাপিছু ব্যয় আগের বছরের তুলনায় মাত্র ১ দশমিক ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যেখানে ২০২৪ সালে এই বৃদ্ধির হার ছিল ৯ দশমিক ৪ শতাংশ, বলে অনুমান করছেন বিশ্লেষকেরা।

জানুয়ারিতে ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) আগের মাসের তুলনায় শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে, যা পূর্বাভাস অনুযায়ী শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ বৃদ্ধির নিচে এবং ডিসেম্বরের স্থিতিশীল ফলাফলের তুলনায় কিছুটা বেশি। গত বছরের হিসাবে, সিপিআই শূন্য দশমিক ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সরকারি লক্ষ্য ৩ শতাংশের অনেক নিচে। এটি ইঙ্গিত দেয়, চীনে টানা ১৩ তম বছরের মতো মুদ্রাস্ফীতি বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।

জানুয়ারিতে চীনের উৎপাদন খাত অপ্রত্যাশিতভাবে সংকুচিত হয়েছে। পাশাপাশি পরিষেবা খাতের কার্যক্রমও দুর্বল হয়েছে। বেইজিং এই বছর প্রায় ৫ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ধরে রাখবে বলে ব্যাপকভাবে আশা করা হচ্ছে। তবে নতুন মার্কিন শুল্ক নীতির কারণে রপ্তানি খাতে চাপ পড়বে।

জানুয়ারিতে উৎপাদন মূল্যসূচক (পিপিআই) বার্ষিক ভিত্তিতে ২ দশমিক ৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, যা ডিসেম্বরের পতনের সমান ও পূর্বাভাসিত ২ দশমিক ১ শতাংশ হ্রাসের চেয়েও বেশি।

বিশ্লেষকদের মতে, যদি নীতিনির্ধারকেরা মন্থর অভ্যন্তরীণ চাহিদা পুনরুজ্জীবিত করতে না পারেন, তাহলে এই বছর চীনে মূল্যহ্রাসের চাপ অব্যাহত থাকতে পারে। ট্রাম্পের চীনা পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিকে প্রবৃদ্ধি বাড়াতে বেইজিংয়ের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করেছে।

ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ জু তিয়ানচেন বলেছেন, ভোগ্যপণ্যের দাম ধীরে ধীরে বাড়লেও উৎপাদন মূল্য স্বল্পমেয়াদে ইতিবাচক পর্যায়ে ফিরে আসার সম্ভাবনা কম। শিল্প খাতে অতিরিক্ত উৎপাদন ক্ষমতা অব্যাহত থাকায় দাম নিম্নমুখী থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

সিইউএইচকে বিজনেস স্কুলের অ্যাডজাঙ্ক্ট অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ব্রুস প্যাং বলেন, ২০২৫ সালে চীনের বিভিন্ন প্রদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রায় দেখা যায়, গড় মূল্যবৃদ্ধির লক্ষ্য ৩ শতাংশের নিচে নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি দেখায়, নীতিনির্ধারকেরা মূল্যস্তরের পরিবর্তন ও চাপে প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

পিনপয়েন্ট অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান অর্থনীতিবিদ ঝিইওয়েই ঝাং বলেন, সরকার বার্ষিক সংসদ অধিবেশন (মার্চ) পর্যন্ত আর্থিক বা রাজস্ব নীতিতে কোনো পরিবর্তন আনবে না বলে আশা করা হচ্ছে। নীতিনির্ধারকদের কাছে এই মুহূর্তে অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের তুলনায় বহিরাগত অনিশ্চয়তাই বড় উদ্বেগের বিষয় বলে মনে হচ্ছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত