Ajker Patrika

স্যুটকেসে মিলল রাহুল গান্ধীর সান্নিধ্যে আসা কংগ্রেস তরুণীর মরদেহ

আপডেট : ০২ মার্চ ২০২৫, ২১: ২১
কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে হিমানি নারওয়াল। ছবি: সংগৃহীত
কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে হিমানি নারওয়াল। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের রোহতক জেলায় স্যাম্পলা বাসস্ট্যান্ড ফ্লাইওভারের কাছে একটি স্যুটকেস থেকে কংগ্রেসের তরুণ কর্মী হিমানি নারওয়ালের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল শনিবার এই ঘটনা জানাজানি হলে রাজ্যজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশের ধারণা, শ্বাসরোধে হিমানিকে হত্যা করা হয়েছে এবং হত্যার পর তাঁর মরদেহটি স্যুটকেসে ভরে ফেলে দেওয়া হয়।

রোববার ইকোনমিক টাইমস জানিয়েছে, ২২ বছর বয়সী হিমানি ২০২৩ সালে রাহুল গান্ধীর ‘ভারত জড়ো যাত্রায়’ অংশ নিয়েছিলেন। সেই সময়ের একাধিক ছবি ও ভিডিওতে রাহুলের সঙ্গে তাঁকে হাস্যোজ্জ্বল ও স্বতঃস্ফূর্ত অবস্থায় দেখা গেছে। এ ছাড়া তিনি রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ভূপিন্দর সিং হুডার নির্বাচনী প্রচারে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছিলেন। তাঁর বাড়ি সোনিপাত জেলার রিন্দানা গ্রামে হলেও মৃত্যুর সময় তিনি রোহতকে বসবাস করছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা স্যুটকেসটি দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দিলে স্যাম্পলা থানার কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিজেন্দর সিং বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে এটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে মনে হচ্ছে। মরদেহ ফেলে রাখা হয়েছে এমন খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই এবং তদন্ত শুরু করি।’

পরে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নিশ্চিত করেন, মৃতদেহটি ২০-২২ বছর বয়সী এক তরুণীর। তাঁর গলায় ওড়না জড়ানো ছিল। হাতে মেহেদির রং থাকায় ধারণা করা হচ্ছে, সম্প্রতি তিনি কোনো অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য রোহতকের পিজিআইএমএস হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এই হত্যাকাণ্ডকে ‘আইনশৃঙ্খলার চরম ব্যর্থতা’ আখ্যা দিয়ে কংগ্রেস নেতারা কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। হরিয়ানার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ভূপিন্দর সিং হুডা বলেন, ‘একজন তরুণীকে এভাবে হত্যা করা অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও নিন্দনীয়। উচ্চপর্যায়ের একটি নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন এবং অপরাধীদের দ্রুত কঠোর শাস্তি দেওয়া উচিত।’

বিজেপি সরকারের সমালোচনা করে ভূপিন্দর বলেন, ‘রাজ্যে এখন কার্যত জঙ্গল-রাজ চলছে, যেখানে আইনশৃঙ্খলা বলে কিছু নেই।’

কংগ্রেস বিধায়ক ভারত ভূষণ বাত্রা হিমানির মরদেহটি শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় তিনি একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠনের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি তার আত্মার শান্তি কামনা করছি এবং পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। সে ছিল কংগ্রেসের একজন অত্যন্ত সক্রিয় কর্মী।’

এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। কংগ্রেস নেতারা বিজেপি সরকারকে নারীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য দায়ী করছেন।

এখন পর্যন্ত পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করেনি। তবে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, অপরাধীদের শনাক্ত করতে এবং দ্রুত গ্রেপ্তার করতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত