Ajker Patrika

গাজায় ‘মানবাধিকারের প্রতি নজিরবিহীন অবজ্ঞা’ দেখিয়েছে ইসরায়েল: ভলকার তুর্ক

গাজায় ইসরায়েলের হামলায় ৪৮ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়েছে। ছবি: এএফপি
গাজায় ইসরায়েলের হামলায় ৪৮ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়েছে। ছবি: এএফপি

গাজায় চালানো সামরিক অভিযানে ইসরায়েল মানবাধিকারকে নজিরবিহীনভাবে অবজ্ঞা করেছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক। তিনি বলেন, ‘ইসরায়েল যেভাবে গাজায় সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে, তা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের একটি ধ্বংসাত্মক উপায়।’ এ সময় তুর্ক হামাসের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ আনেন।

গতকাল বুধবার জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদে গাজা, ইসরায়েল-অধিকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন তুর্ক।

প্রতিবেদনটিতে হামাসকে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গুরুতরভাবে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের জন্য অভিযুক্ত করেছে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় (ওএইচসিএইচআর)। তুর্ক বলেন, ‘হামাস ইসরায়েলি অঞ্চলে বেপরোয়াভাবে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে—যা যুদ্ধাপরাধের শামিল।’

ইসরায়েলের হিসাব অনুযায়ী, দক্ষিণ ইসরায়েলে হামাসের হামলায় ১ হাজার ২০০ জনের মৃত্যু এবং ২৫০ জনের বেশি মানুষকে জিম্মি করে নেওয়া হয়। এর জবাবে ইসরায়েল গাজাকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে। গাজা উপত্যকার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, গাজায় ইসরায়েলের হামলায় ৪৮ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়েছে।

ইসরায়েল পূর্বে গাজা ও পশ্চিম তীরের যুদ্ধাপরাধ এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তারা বলেছে, ইসরায়েলের অভিযান হামাস যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে এবং সাধারণ মানুষের ক্ষতি কমানোর উদ্দেশ্যে।

তুর্ক বলেন, ‘গাজার ধ্বংসস্তূপের পরিমাণ বিশাল। বাড়ি, হাসপাতাল থেকে শুরু করে স্কুল পর্যন্ত ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। ইসরায়েলের আরোপিত নিষেধাজ্ঞাগুলো গাজায় মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে।’

তুর্ক ৫৮ তম কাউন্সিলকে বলেন, প্রতিবেদনে গুরুতর উদ্বেগ তুলে ধরা হয়েছে, হামাস গাজায় মানবিক আইন লঙ্ঘন করতে পারে, যার মধ্যে সামরিক লক্ষ্য এবং ফিলিস্তিনি বেসামরিকদের ইচ্ছাকৃতভাবে একসঙ্গে রাখা অন্তর্ভুক্ত।’

তিনি সব লঙ্ঘনগুলোর স্বাধীনভাবে তদন্ত করার আহ্বান জানান। তবে, আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী ইসরায়েলি বিচারব্যবস্থার পূর্ণ জবাবদিহি প্রদানের ইচ্ছা সম্পর্কে সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি। তুর্ক বলেন, হামাস ও অন্যান্য গোষ্ঠীগুলো অধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি দেওয়ার জন্য কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার কথা তিনি জানেন না।

ওএইচসিএইচআর রিপোর্টে বলা হয়েছে, ইসরায়েল তাদের অনুরোধের প্রতি কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি, যেখানে তারা ইসরায়েল এবং দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে পূর্ণ প্রবেশাধিকার চেয়েছিল যাতে সব পক্ষের লঙ্ঘনগুলো তদন্ত করা যায়।

কাউন্সিলে ফিলিস্তিনি প্রতিনিধি ইসরায়েলকে যুদ্ধাপরাধ এবং ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে জাতিগত নির্মূল অভিযান চালানোর জন্য অভিযুক্ত করেছেন, পাশাপাশি গাজার জন্য সহায়তা প্রত্যাখ্যান করার জন্যও। ইসরায়েল এই ধরনের অভিযোগ বারবার অস্বীকার করেছে।

জাতিসংঘে জেনেভায় ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইব্রাহিম খ্রায়িশি কাউন্সিল পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারী সহিংসতা এবং ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের তীব্র নিন্দা জানান।

কাউন্সিলে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিনিধি ফ্রাঙ্কি ব্রনওয়েন লেভি বলেন, ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অযোগ্য অস্বাভাবিক নৃশংসতার দীর্ঘ তালিকা নজিরবিহীন।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রতিবেদনটির স্বাধীন তদন্তের আহ্বানকে সমর্থন জানিয়েছে, হামাসের আক্রমণের নিন্দা করেছে এবং পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ইসরায়েলি উত্তেজনারও নিন্দা করেছে। আরব দেশগুলো, যার মধ্যে সৌদি আরব, কুয়েত এবং ইরাক অন্তর্ভুক্ত, যুদ্ধের সমাপ্তি এবং একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য তাদের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

বাসভাড়া বেশি নেওয়ার অভিযোগ করায় যাত্রীকে মারধর, অভিযানে গিয়ে ম্যাজিস্ট্রেট লাঞ্ছিত

বগুড়ায় জামিনে মুক্তি পাওয়া আ.লীগ নেতাকে পিটিয়ে আহত করেছে দুর্বৃত্তরা

‘সেভেন সিস্টার্স’ নিয়ে বিমসটেকে যা বললেন প্রধান উপদেষ্টা

সাবেক মেয়রের ভাইয়ের রগ কাটল দুর্বৃত্তরা

ব্যাংককে মোদি-ইউনূস বৈঠক: শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চাইল বাংলাদেশ

এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত