
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আরও কঠোর অবস্থানে ঠেলে দিতে নতুন করে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলতে যাচ্ছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তাঁর দাবি, কূটনৈতিক সমাধানের কথা বললেও গোপনে পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে পরমাণু কর্মসূচি পুনর্গঠন করছে তেহরান। এই অভিযোগের পক্ষে ট্রাম্পের সামনে নতুন গোয়েন্দা তথ্য তুলে ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। যদিও এর আগে ট্রাম্প নিজেই বলেছিলেন, ওই স্থাপনায় কোনো পরমাণু তৎপরতার গোয়েন্দা তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের হাতে নেই।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জেরুসালেম পোস্ট জানিয়েছে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে চলমান কর্মকাণ্ড এবং সেখানে দেশটির পরমাণু কর্মসূচি পুনরায় চালু করার প্রচেষ্টা সম্পর্কে অবহিত করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। গতকাল সোমবার নিউইয়র্ক পোস্ট এক ইসরায়েলি সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে বোঝানোর চেষ্টা করবেন যে, কূটনৈতিক সমাধানে আগ্রহী বলে ইরান যে দাবি করছে, তা সত্য নয়। এর প্রধান প্রমাণ হিসেবে তিনি দেখাবেন, ইরান সম্প্রতি তাদের পরমাণু অবকাঠামো পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে স্থানান্তর করেছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল প্রথম এ তথ্য প্রকাশ করে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের অল্প কিছুদিন পরই ইসরায়েল প্রমাণ পায় যে, ইরান তাদের সেন্ট্রিফিউজগুলো ওই পাহাড়ি কমপ্লেক্সে স্থানান্তর করেছে।
ইরান ২০২০ সালে গোপনে এই কমপ্লেক্স নির্মাণ শুরু করে। এটি ইরানের নাতাঞ্জ পরমাণু স্থাপনা থেকে প্রায় ১ দশমিক ৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত। গত ইরান যুদ্ধের সময় নাতাঞ্জ স্থাপনায় একাধিকবার হামলা চালানো হয়েছিল।
এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, যুদ্ধের সময় পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে হামলা চালানো হয়নি, কারণ সেখানে ইরান পরমাণু কর্মসূচি পরিচালনা করছে, এমন পর্যাপ্ত প্রমাণ তখন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে ছিল না। তবে গত সপ্তাহে লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের সঙ্গে এক বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘খুব শিগগিরই’ পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে হামলা চালাবে। তিনি আরও বলেন, তেহরান আলোচনায় বসতে ‘মরিয়া’ হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরান এখনো ‘কিছুই দেখেনি।’
এরও আগে, ১৩ জুলাই হিউ হিউইট শো-তে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে হামলার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেন। তিনি বলেন, ‘আমরা পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন ধ্বংস করে দেব। ইরানকে প্রস্তুত থাকতে বলুন।’ তবে পরে ট্রাম্প আবার দাবি করেন, পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে কোনো ধরনের কার্যক্রম চলছে বা সেখানে সেন্ট্রিফিউজ স্থানান্তর করা হয়েছে, এমন কোনো গোয়েন্দা তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নেই।
এদিকে, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বারবার দাবি করে আসছেন যে, ইরান অচিরেই পরমাণু বোমা তৈরি করবে। ১৯৯২ সালে তিনি প্রথম বলেন, ৩ থেকে ৫ বছরের মধ্যে ইরান বোমা বানাতে সক্ষম হবে। এরপর ২০০৯ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে তিনি একাধিকবার সতর্ক করেন যে, ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির একেবারে কাছাকাছি। ২০১২ সালে জাতিসংঘে ‘কার্টুন বোমা’ দেখিয়ে তিনি বিশ্বকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। এরপর, ২০১৫ সালে ইরান পরমাণু চুক্তির বিরোধিতা করেন এবং ২০১৮ সালে ইরানের ‘গোপন পরমাণু আর্কাইভ’ উদ্ধারের দাবি তোলেন।
সর্বশেষ ২০২৬ সালে তিনি অভিযোগ করছেন, ইরান গোপনে পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে পরমাণু অবকাঠামো স্থানান্তর করেছে। তবে তার বহু আগের পূর্বাভাস বাস্তবে সত্য প্রমাণিত হয়নি এবং সর্বশেষ এই দাবির সঙ্গেও ট্রাম্পের বক্তব্যের অসঙ্গতি রয়েছে। ট্রাম্প নিজেই বলেছেন, পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে পরমাণু কার্যক্রমের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে নিশ্চিত গোয়েন্দা তথ্য নেই।

উত্তর কোরিয়ার একটি ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিট রাশিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে মোতায়েন শুরু হয়েছে। ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওই ইউনিটে ইউক্রেনে হামলা চালানোর জন্য ১২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ছয়টি লঞ্চার থাকতে পারে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
২ ঘণ্টা আগে
রাশিয়া ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও এর আশপাশের অঞ্চলে কয়েক ডজন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। আজ বুধবারের এই হামলায় অন্তত ১৭ জন নিহত এবং বড় বড় খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের গুদাম ও লজিস্টিকস কেন্দ্র ধ্বংস হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা।
৩ ঘণ্টা আগে
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, গতকাল মঙ্গলবার দিনভর ইরানের সঙ্গে তাঁর প্রশাসনের ‘খুবই ভালো আলোচনা’ হয়েছে। তাঁর এই মন্তব্যে পাঁচ মাস ধরে চলা সংঘাত শিগগিরই শেষ হতে পারে বলে প্রত্যাশা জোরালো হয়েছে। তবে একইসঙ্গে হুমকি দিয়ে তিনি বলেছেন, হরমুজ খুলে না দিলে ইরানকে ‘খুব মার দেওয়া হবে।’
৫ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্রের ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন বিদেশি দক্ষ কর্মীদের এইচ-১বি এবং এল-১ ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর প্রক্রিয়াটি আরও ব্যয়বহুল করার পরিকল্পনা করছে। মার্কিন প্রশাসনের এই পদক্ষেপে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন সেদেশে কর্মরত হাজার হাজার ভারতীয় পেশাদার এবং তাদের ওপর নির্ভরশীল প্রযুক্তি...
৫ ঘণ্টা আগে