মহানবী (সা.)-এর নবুওয়তপ্রাপ্তির পর থেকে মক্কার কুরাইশ কাফেররা তাঁকে এবং তাঁর সাহাবিদের নানা রকম অত্যাচারে অতিষ্ঠ করে তোলে। ক্রমেই সাহাবিদের ওপর শারীরিক নির্যাতন শুরু হয়। অত্যাচারের মাত্রা ক্রমে বাড়তে বাড়তে একপর্যায়ে মহানবী (সা.) ও তাঁর সাহাবিদের বন্দী জীবনযাপন করতে বাধ্য করা হয়। এরপরও নিস্তার মেলেনি মুসলমানদের। এভাবে দীর্ঘ ১৩ বছর চরম নির্যাতন সহ্য করে মহানবী (সা.) ও তাঁর সাহাবিরা আল্লাহর হুকুমে মদিনায় হিজরত করেন।
ষষ্ঠ হিজরিতে মহানবী (সা.) সাহাবিদের নিয়ে হজব্রত পালনের উদ্দেশে মক্কায় গমন করেন। মক্কার কাফেরদের চরম বৈরিতা ও বাধার মুখে হজ না করেই হুদায়বিয়ার সন্ধি করে ফিরে আসতে হয় এবং এ সন্ধির ধারামতেই অষ্টম হিজরিতে রাসুলুল্লাহ (সা.) মক্কা বিজয় করেন। অষ্টম হিজরির রমজান মাসে মহানবী (সা.) ১০ সহস্রাধিক সাহাবি নিয়ে মক্কা অভিমুখে রওনা করেন। মক্কার কিছু দূরের পর্বতে তাঁরা সেনা ছাউনি গড়ে তোলেন। কৌশলগত কারণে রান্নার চুলা বেশি এবং টয়লেট তৈরি করা হয় কম।
কুরাইশদের মনে ভীতির সঞ্চার ঘটে। মহানবী (সা.) ঘোষণা দিলেন, যে ব্যক্তি নিরস্ত্র অবস্থায় নিজ গৃহে বসে থাকবে, যে ব্যক্তি কাবাঘরে আশ্রয় নেবে অথবা যে ব্যক্তি আবু সুফিয়ানের ঘরে প্রবেশ করবে, সে নিরাপদ। মহানবী (সা.) ২০ রমজান বিশাল বাহিনী নিয়ে মক্কায় প্রবেশ করেন। প্রথমেই কাবার মূর্তি অপসারণ করেন এই আয়াত তিলাওয়াত করতে করতে—‘সত্য সমাগত, মিথ্যা বিতাড়িত। মিথ্যার পরাজয় নিশ্চিত।’ (সুরা বনি ইসরাইল, আয়াত: ৮১)
মক্কায় প্রবেশ করতেই কুরাইশ কাফেরদের আত্মা কেঁপে ওঠে। মহানবী (সা.) বলেন, ‘আজ তোমরা আমার কাছে কেমন ব্যবহার প্রত্যাশা করো?’ বৃদ্ধরা সাহসের সঙ্গে বললেন, ‘আমরা তোমার কাছে স্নেহশীল বাবা, শ্রদ্ধাবান পুত্র, প্রেমময়ী নেতা ও দয়ালু ভাইয়ের আচরণ কামনা করি।’ তিনি বললেন, ‘আজ তোমাদের প্রতি আমার কোনো প্রতিশোধ নেই। চিহ্নিত কয়েকজন ছাড়া সবাইকেই মহানবী (সা.) সাধারণ ক্ষমা করে দিলেন। মুসলমানদের এই আচরণে দলে দলে কুরাইশ ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় নিল। বিনা রক্তপাতেই হয়ে গেল ঐতিহাসিক মক্কা বিজয়।
মক্কা বিজয়ের এ শিক্ষা আমাদের মধ্যে আজ অনুপস্থিত। পরাজিত ও দুর্বলদের প্রতি বিজয়ীদের খড়গকৃপাণ আমরা দেখে আসছি অহরহ। এ যেন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হচ্ছে। অথচ মক্কা বিজয়ের শিক্ষা আমাদের মধ্যে থাকলে চিরশত্রুকেও আমরা ক্ষমা করে দিতে পারতাম। বাস করতে পারতাম একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে। তৈরি হতো ভারসাম্যপূর্ণ সমাজব্যবস্থা।
লেখক: সভাপতি, বাংলাদেশ ইসলামি লেখক ফোরাম

শাশ্বত চেতনাবোধের বিনির্মাণ ও অনুপম মনুষ্যত্ব অর্জনের এক কার্যকর প্রশিক্ষণের বার্তা নিয়ে আগমন করে রমজান। শাবান মাসের শেষে পশ্চিম আকাশে বাঁকা চাঁদ উঁকি দিতেই ধরণির বুকে রহমতের ফল্গুধারা নেমে আসে। শুরু হয় মুমিন হৃদয়ের দীর্ঘ প্রতীক্ষার স্নিগ্ধ প্রহর—পবিত্র মাহে রমজান।
১০ ঘণ্টা আগে
দিন শেষে রাত নেমে এসেছে মক্কার আকাশে। ধীরে ধীরে রাত গভীর হচ্ছে। বাড়ছে নিস্তব্ধতা। কমছে কোলাহল। এসবের মাঝেই নতুন এক আলোর আগমনের অপেক্ষা। মক্কার এক প্রান্তে বসে অপেক্ষা করছেন এক ইহুদি পণ্ডিত। তাঁর চোখ আকাশের দিকে স্থির। মনোযোগ গভীর। দীর্ঘ অপেক্ষার পর তিনি তাঁর কাঙ্ক্ষিত বস্তু পেয়েছেন বলেই চেহারায়...
১০ ঘণ্টা আগে
মানুষের অস্তিত্বের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে ভাষা। এটি মানুষের চিন্তাচেতনা, নিজস্ব সংস্কৃতি, অনুভূতি প্রকাশ ও আত্মপরিচয়ের প্রধান বাহক। বিশেষত মাতৃভাষা মানুষের হৃদয় ও আবেগের ভাষা। যে ভাষায় মানুষ প্রথম কথা বলতে শেখে, শিক্ষা ও সংস্কৃতি চর্চায় তা অপরিহার্য ভূমিকা রাখে।
১০ ঘণ্টা আগে
রমজানের স্নিগ্ধ আমেজ আর আনন্দের জোয়ারে মিসরের পুরোনো কায়রোর সমকক্ষ আর কোনো জনপদ নেই বললেই চলে। এখানকার প্রতিটি রাস্তা, অলিগলি দিয়ে হাঁটার সময় আপনার চোখে পড়বে পবিত্র মাসকে বরণ করে নেওয়ার একেকটি জীবন্ত দৃশ্য। কেউ হয়তো নিজের বাড়ির আঙিনায় বা দোকানের সামনে বসে লোহা কিংবা...
১০ ঘণ্টা আগে