পথেঘাটে চলতে গিয়ে অসাবধানতাবশত হঠাৎই পা মচকে যেতে পারে। জুতার সমস্যা, অসমতল পথ, খেলাধুলা, লাফঝাঁপ ইত্যাদি কারণে পা মচকে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
সাধারণত শরীরের প্রতিটি জয়েন্টের চারপাশে থাকে লিগামেন্ট। এগুলো জয়েন্টকে শক্ত করে ধরে রাখে। এ জন্য একটি নির্দিষ্ট কোণ পর্যন্ত নড়াচড়া করা যায় সহজে। কিন্তু তার বেশি করতে গেলে ব্যথা লাগে। কোনো কারণে সীমার বাইরে নড়াচড়া হলে লিগামেন্টে টান পড়ে বা কিছু অংশ ছিঁড়ে যায়। এটাকেই মচকে যাওয়া বলে।
পা যেহেতু আমাদের শরীরের পুরো ভার বহন করে, তাই পা মচকে গেলে খুবই ব্যথা লাগে। এমনকি পা ফুলে যায়। যন্ত্রণার চোটে ঠিক করে দাঁড়ানো যায় না। দেখা যায়, শুধু মচকে যাওয়ার পর হেলাফেলার কারণে সমস্যাটি আরও জটিল হয়।
শুরুতে করণীয়
মচকে গেলে গোড়ালিতে চাপ দিয়ে চলাফেরা করবেন না। এতে আরও বেশি ক্ষতি হতে পারে। আর তাই পা মচকে গেলে প্রথমেই কোথাও বসুন। হাতের সামনে ব্যান্ডেজ থাকলে ভালো করে জড়িয়ে নিন। খেয়াল রাখবেন, যাতে গোড়ালি বিশ্রাম পায়। এরপর যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের কাছে যান।
পা বিশ্রামে রাখুন
মচকে গেলে পা বিশ্রামে রাখতে হবে। এক সপ্তাহ বিশ্রাম নিন। যন্ত্রণা কমে গেলেও বিশ্রাম না নিয়ে যদি বেশি হাঁটাহাঁটি বা ভারী কাজ করেন তাহলেও গোড়ালি ফোলা থেকেই যাবে। পা এমনভাবে রাখবেন যাতে গোড়ালিতে কোনো চাপ না লাগে। কিছু একটার সাপোর্ট নিয়ে হাঁটাচলা করুন।
বরফ সেঁক
পায়ের যে কোনো ব্যথায় বরফ সেঁক খুবই ভালো উপায়। তবে বরফ কিন্তু সরাসরি দেবেন না। একটা সুতির কাপড়ে জড়িয়ে তবেই দিন। চোট পাওয়ার পর দু ঘণ্টা অন্তর এই সেঁক দিন। এতে ফোলা ভাব অনেকটাই কমে।
ক্রেপ ব্যান্ডেজ
বরফ সেঁক দেওয়ার ফলে যেমন ব্যথা কমে তেমনই ক্রেপ ব্যান্ডেজ বেঁধে রাখলে যন্ত্রণার উপশমও হয়।
* চোট পাওয়ার পর অন্তত দুই দিন শক্ত করে ক্রেপ ব্যান্ডেজ বেঁধে রাখুন। এতে ব্যথা নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
* পা ওপরে তুলে রাখুন
* পা যত নিচে ঝুলিয়ে বসবেন ব্যথা তত বাড়বে। আর তাই পা উঁচু জায়গায় রাখুন।
* ঘুমানোর সময় হার্টের লেভেল থেকে একটু উঁচুতে বালিশের ওপর পা রাখুন। এতে খুব দ্রুত ফোলা ভাব কমে আসবে।
চিকিৎসা
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যথানাশক ওষুধ গ্রহণ করা যেতে পারে। সমস্যার তীব্রতা অনুযায়ী প্লাস্টারের প্রয়োজনও হতে পারে। পা মচকানোর সমস্যায় ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আলট্রাসাউন্ড থেরাপি নেওয়া যেতে পারে। এক সপ্তাহ বিশ্রামের পর থেকে স্ট্রেচিং এবং তিন সপ্তাহ পর থেকে স্ট্রেংথেনিং এক্সারসাইজ খুবই উপকারী।
লেখক: জনস্বাস্থ্যবিষয়ক লেখক ও গবেষক এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক, খাজা বদরুদদোজা মডার্ন হাসপাতাল, সফিপুর, কালিয়াকৈর, গাজীপুর

স্বাধীনতার পর পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। মাতৃ ও শিশুমৃত্যুর হার কমেছে, বেড়েছে গড় আয়ু। তবে অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ, জনস্বাস্থ্যের উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থাপনায় রয়েছে সীমাবদ্ধতা।
৩ দিন আগে
শীতকে বিদায় জানিয়ে চলে এসেছে ঋতুরাজ বসন্ত। প্রকৃতিতে ছড়াচ্ছে উষ্ণতা। এই অবস্থায় ঋতু পরিবর্তনজনিত কারণে অনেকেই এখন সর্দি-জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় অনুসরণ করলেই রোগীর কষ্ট কিছুটা কমানো সম্ভব।
৪ দিন আগে
প্যালিয়েটিভ কেয়ার সোসাইটি অব বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ নটর ডেম অ্যালামনাই অব নর্থ আমেরিকার উদ্যোগে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য প্যালিয়েটিভ কেয়ার সেনসিটাইজেশন অনুষ্ঠান হয়ে গেল। আজ ১৫ ফেব্রুয়ারি, নটর ডেম ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের সার্বিক সহায়তায় বিশ্ববিদ্যালয়টির ক্যাম্পাসে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়...
৫ দিন আগে
দরজায় কড়া নাড়ছে মাহে রমজান, মুসলিম জাতির জন্য শ্রেষ্ঠ মাস। সুন্দরভাবে সিয়াম সাধনা করতে আগে থেকে মাসটি নিয়ে থাকে অনেক পরিকল্পনা। সেই পরিকল্পনার একটা বড় অংশ হচ্ছে মাহে রমজানের খাওয়াদাওয়া। কীভাবে খাবার খেলে কোনো ধরনের জটিলতা ছাড়াই রোজা রাখা যাবে, সেটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ।
৬ দিন আগে