গুলিতে পা হারিয়েছেন ছাত্রদল নেতা, ৬ পুলিশের বিরুদ্ধে মায়ের মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২২, ২২: ১৪

চট্টগ্রামে ছাত্রদল নেতা সাইফুল ইসলাম ওরফে বার্মা সাইফুলকে তুলে নিয়ে হত্যা চেষ্টা, চাঁদা দাবি ও গুলি করে পঙ্গু করে দেওয়ার অভিযোগে বায়েজিদ থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ ছয় পুলিশ সদস্য ও এক সোর্সের বিরুদ্ধে আদালতে নালিশি মামলা হয়েছে। 

আজ রোববার দ্বিতীয় মুখ্য মহানগর হাকিম মো. অলি উল্লাহর আদালতে এই অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী সাইফুল ইসলামের মা ছেনোয়ারা বেগম। 

আদালত সূত্রে জানা গেছে, আদালত নালিশি অভিযোগ পেয়ে সহকারী পুলিশ সুপার পদমর্যাদার নিচে না, এমন একজন কর্মকর্তা দিয়ে অভিযোগটি তদন্তপূর্বক প্রাথমিক সত্যতা আছে কি না তাঁর প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সিএমপি পুলিশ কমিশনারকে নির্দেশ দিয়েছেন। 

মামলায় অভিযুক্তরা হলেন—   বায়েজিদ থানার সাবেক ওসি মো. কামরুজ্জামান, উপপরিদর্শক মেহের অসীম দাশ, উপপরিদর্শক মো. সাইফুল ইসলাম, উপপরিদর্শক কেএম নাজিবুল ইসরাম তানভীর, উপপরিদর্শক মো. নুর নবী, সহকারী উপপরিদর্শক মো. রবিউল হোসেন ও থানার সোর্স মো. শাহজাহান ওরফে আকাশ। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও দুই পুলিশ সদস্যকে আসামি করা হয়েছে। 

ভুক্তভোগী সাইফুল ইসলাম নগর ছাত্রদলের সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক ছিলেন বলে জানা গেছে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত বছরের ১৬ জুন রাতে পুলিশের সোর্স আকাশের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর থেকে কল পেয়ে অক্সিজেন মোড়ে যান সাইফুল। এ সময় অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি আরও দুই পুলিশ সদস্য তাঁকে ঘিরে ধরেন। তাঁকে তাঁরা একটি সাদা রঙের প্রাইভেট কারে তুলে নিয়ে যান। সাইফুলকে দুই ঘণ্টা গাড়িতে করে ঘুরিয়ে বায়েজিদ লিংক রোডে নিয়ে যান। সেখানে গাড়ি থেকে নামার পর উপপরিদর্শক মেহের অসীম দাশ সাইফুলকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘ওপর থেকে তোমার ক্রসফায়ারের অর্ডার আছে, ৫ লাখ টাকা দিলে আমরা ছেড়ে দিব।’

সাইফুল টাকা দিতে অস্বীকার করলে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা তাঁর মুখ বেঁধে লিংক রোডের নির্জন স্থানে নিয়ে যান। পরে বাম পায়ে দু’জন পুলিশ কর্মকর্তা দুই রাউন্ড গুলি করেন। এ সময় আরও কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়। সাইফুল ঘটনাস্থলে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। 

জ্ঞান ফিরে সাইফুল নিজেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দেখতে পান। চিকিৎসকের পরামর্শে তাঁকে পঙ্গু হাসপাতালে নেওয়া হলে তাঁর বাম পা কেটে ফেলা হয়।

ওই ঘটনার পর সাইফুলের কাছ থেকে অস্ত্র পাওয়া গেছে বলে মামলা দেয় বায়েজিদ থানা পুলিশ। 

মামলার বাদী ছেনোয়ারা অভিযোগ করেন, তাঁর দ্বিতীয় ছেলে পাঁচলাইশ থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সবুজকেও কয়েকটি মিথ্যা ও গায়েবি মামলায় আসামি করা হয়েছে। বর্তমানে তাঁর পরিবার রাজনৈতিক হয়রানির শিকার বলে জানান তিনি। 

ঘটনার পর বিভিন্ন প্রতিকূল অবস্থা ও পুলিশের হুমকির কারণে অভিযোগ দিতে বিলম্ব হয়েছে বলে নালিশি মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। 

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট কাজী মফিজুর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘বিবাদীদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি ১৪৯ / ৩৬৪ / ৩২৪ / ৩২৬ / ৩০৭ / ৩৮৫ / ৩৯৫ / ১০৯ / ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। ভুক্তভোগী সাইফুল ইসলাম বর্তমানে জামিনে রয়েছে।’

এর আগে গত ২৭ জুন দিবাগত রাতে নগরের পাঁচলাইশ থানার রহমান নগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে বার্মা সাইফুলসহ পাঁচজনকে আটক করা রয়েছে। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে পাঁচটি ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সিএমপি পুলিশের উপকমিশনার(উত্তর) মোখলেছুর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘ওনারা আদালতে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন শুনেছি। কী অভিযোগ দায়ের করেছেন ওনারা বলতে পারবেন। এটা নিয়ে তদন্ত হবে। দোষী প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তারপরই মামলা হবে।’

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
খুঁজুন

সম্পর্কিত