Ajker Patrika

প্রাণিসম্পদের পণ্য শেষ এক ঘণ্টায়, ক্রেতারা ফিরছেন খালি হাতে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা            
আপডেট : ০৩ মার্চ ২০২৫, ১৮: ২৭
আজ সোমবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর সচিবালয়ের পাশের আব্দুল গণি রোডে দাঁড়ানো প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ভ্রাম্যমাণ বিক্রয়কেন্দ্রে ক্রেতাদের ভিড়। ছবি: আজকের পত্রিকা
আজ সোমবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর সচিবালয়ের পাশের আব্দুল গণি রোডে দাঁড়ানো প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ভ্রাম্যমাণ বিক্রয়কেন্দ্রে ক্রেতাদের ভিড়। ছবি: আজকের পত্রিকা

সোমবার বেলা ১১টা। রাজধানীর সচিবালয়ের পাশের আব্দুল গণি রোডে দাঁড়ানো প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ভ্রাম্যমাণ বিক্রয়কেন্দ্রের গাড়ি। সুলভ মূল্যে মাংস, দুধ, ডিম কিনতে কাউন্টারে ক্রেতাদের লাইন। তখন গাড়ি থেকে এক বিক্রয়কর্মী জানালেন, কয়েক লিটার দুধ ছাড়া বাকি সব শেষ।

তখনো লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন রাজধানীর মানিকনগর থেকে আসা গৃহকর্মী আসমা বেগম। তিনি ভ্রাম্যমাণ বিক্রয়কেন্দ্র থেকে বয়লার মুরগি ও ডিম কিনতে চেয়েছিলেন। আসমা জানান, ২০ মিনিট লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পর তাঁকে জানানো হলো, ডিম, মুরগি, গরুর মাংস কিছুই নেই।

আরেক ক্রেতা জাহানারা বেগম শেষ মুহূর্তে এক লিটার দুধ কিনতে পেরেছেন। তবে ডিম কিনতে না পেরে তিনি আক্ষেপের কথা জানিয়েছেন। এ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও খালি হাতে ফিরতে দেখা গেছে অনেককে।

গণি রোডের ভ্রাম্যমাণ বিক্রয়কেন্দ্রে মনিটরিংয়ের দায়িত্বে থাকা প্রাণিসম্পদের ভেটেরিনারি সার্জন নিলাদ্রী শিকদার জানান, এই বিক্রয়কেন্দ্রে ১৪০ লিটার দুধ, ৯০০টি ডিম, বয়লার মুরগির মাংস ৫৫ কেজি আর গরুর মাংস ৩৭ কেজি আনা হয়েছে। সকাল ১০টায় বিক্রয় কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর গরুর মাংস শেষ হয়েছে প্রথম ২০-৩৫ মিনিটেই। এক ঘণ্টার মধ্যে মুরগি মাংস, ডিম দুটোই শেষ।

নিলাদ্রী শিকদার বলেন, সচিবালয়ের পাশে হওয়ায় গরুর মাংসের চাহিদা বেশি। ক্রেতারা প্রথম এসে জিজ্ঞেস করেন গরুর মাংস আছে কিনা।

আজ সোমবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর খামারবাড়ী মোড়ে দাঁড়ানো প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ভ্রাম্যমাণ বিক্রয়কেন্দ্রে ক্রেতাদের ভিড়। ছবি: আজকের পত্রিকা
আজ সোমবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর খামারবাড়ী মোড়ে দাঁড়ানো প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ভ্রাম্যমাণ বিক্রয়কেন্দ্রে ক্রেতাদের ভিড়। ছবি: আজকের পত্রিকা

শুধু আব্দুল গণি রোডের ভ্রাম্যমাণ বিক্রয় কেন্দ্র নয়, প্রাণিসম্পদের অন্য বিক্রয়কেন্দ্রগুলোতেও একই দশা। পৌনে ১২টার সময় এসে রাজধানীর খামারবাড়ি চত্বরে মানুষের জটলা দেখা গেছে। মণিপুরী পাড়ার গৃহিণী ইসরাত আফরিন লাইনে দাঁড়িয়ে মুরগি, গরুর মাংস আর দুধ কিনেছেন। তিনি জানান, গরুর মাংস আরেকটু দাম কম হলে ভালো হতো। মুরগির মাংসের দাম দু’শ হলে ভালো হতো।

বিক্রয়কেন্দ্রে কথা হয় আরেক ক্রেতা গ্রিন রোডের বাসিন্দা মো. সেলিম মোল্লার সঙ্গে। তিনি ৪০ মিনিট লাইনে দাঁড়িয়ে দুই ডজন ডিম, দুই লিটার দুধ ও এক কেজি গরুর মাংস কিনেছেন। গরুর মাংসের মান নিয়ে সেলিম মোল্লা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, মাংসে চর্বি ও হাড় বেশি। মাংসের মান নিয়ে খামারবাড়িতে ভ্রাম্যমাণ বিক্রয় কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. লিয়াকত হোসেন জানান, গরু স্বাস্থ্যবান হওয়ায় কিছু চর্বি আছে। সেটা একটু মেনে নিতে হবে।

রমজান উপলক্ষে ঢাকার ২৫টি এলাকায় গরু ও মুরগির মাংস, ডিম ও দুধ বিক্রি করছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। বিক্রয়কেন্দ্রগুলোতে এবার গরুর মাংস প্রতি কেজি ৬৫০ টাকা, ড্রেসড (চামড়া ছাড়া) ব্রয়লার প্রতিকেজি ২৫০ টাকা, দুধ প্রতি লিটার ৮০ টাকা ও ডিম প্রতি ডজন ১১৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্য বছর দৈনিক প্রায় ৫ হাজার কেজি গরুর মাংস বিক্রি হলেও এবার বিক্রি হচ্ছে এক হাজার কেজিরও কম।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ভ্রাম্যমাণ বিক্রয়কেন্দ্র থেকে পণ্য কিনতে পেরে খুশি এক ক্রেতা। ছবি: আজকের পত্রিকা
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ভ্রাম্যমাণ বিক্রয়কেন্দ্র থেকে পণ্য কিনতে পেরে খুশি এক ক্রেতা। ছবি: আজকের পত্রিকা

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর জানিয়েছে, সোমবার (৩ মার্চ) ২৫টি বিক্রয়কেন্দ্রে তিন হাজার লিটার দুধ, ২৫ হাজার ডিম, ব্রয়লার মুরগি ১২০০ কেজি ও ৯০৬ কেজি গরুর মাংস বিক্রি করা হয়েছে।

কয়েকটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিক্রয় কার্যক্রমে সহযোগিতা করছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্প (এলডিডিপি)। প্রকল্পটির পরিচালক ডা. মো. জসিম উদ্দিন বলেন, এবার ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। বিক্রয়কেন্দ্রগুলোতে পণ্যের পরিমাণের চেয়ে চাহিদা অনেক বেশি রয়েছে।

জানা গেছে, এ বছর বিক্রয় কেন্দ্রের আওতা কমেছে। গত বছর রাজধানীর ৩০টি স্থানে সুলভ মূল্যে মাছ, দুধ, ডিম, মুরগি, গরু ও খাসির মাংস বিক্রি হয়েছে। এবার মৎস্য অধিদপ্তরের ব্যবস্থাপনায় রমজানে সুলভ মূল্যে মাছ বিক্রির কোনো কার্যক্রম নেওয়া হয়নি।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘সুলভ মূল্যে পণ্য বিক্রি করলে চাহিদা অনুপাতে দেওয়া সম্ভব নয়। আমরা আর পরিমাণ বাড়াব না, যেটা দেওয়া হচ্ছে সেটার ধারাবাহিকতা রাখার চেষ্টা করব।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত