Ajker Patrika

আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে ঢাবিতে বিক্ষোভ

ঢাবি সংবাদদাতা
আপডেট : ২১ মার্চ ২০২৫, ১৬: ৪৯
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীবৃন্দ ব্যানারে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে বিক্ষোভ সমাবেশ। ছবি: আজকের পত্রিকা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীবৃন্দ ব্যানারে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে বিক্ষোভ সমাবেশ। ছবি: আজকের পত্রিকা

আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধে অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো পরিকল্পনা নেই—প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের এমন বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবিতে এবং আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণার দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন ছাত্র-জনতা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীবৃন্দের ব্যানারসহ, ইনকিলাব মঞ্চ ও বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের ব্যানারে তাঁরা এ কর্মসূচি পালন করেন।

আজ শুক্রবার জুমার নামাজের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন তাঁরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীবৃন্দের ব্যানারে শুক্রবার বিকেল পৌনে ৪টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন শিক্ষার্থীরা। বিকেল সাড়ে তিনটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো থেকে একটি মিছিল নিয়ে আসেন শিক্ষার্থীরা। পরে ভিসি চত্বর ঘুরে মিছিলটি রাজু ভাস্কর্যে আসে।

এর আগে ইনকিলাব মঞ্চের মিছিলটি কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিন, শ্যাডো, সূর্য সেন হল, ভিসি চত্বর হয়ে রাজু ভাস্কর্যে আসে। অন্যদিকে গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের মিছিলটি মধুর ক্যানটিন, শ্যাডো, হলপাড়া, রাজু ভাস্কর্য হয়ে কেন্দ্রীয় মসজিদের দিকে যায়।

এ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতা আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবি তুলে নানা স্লোগান দেন। পাশাপাশি ফিলিস্তিনে যুদ্ধবিরতির চুক্তি লঙ্ঘন করে ইসরায়েলের হামলার প্রতিবাদেও নানা স্লোগান দিতে দেখা যায়।

তারা ‘আওয়ামী লীগের বিচার চাই’, ‘আওয়ামী লীগের গদিতে, আগুন জ্বালো একসাথে’, ‘একটা একটা লীগ ধর, ধইরা ধইরা জেলে ভর’, ‘ইউনূস সাহেবের বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে’, ‘গণহত্যার বিচার চাই’, ‘অবিলম্বে আওয়ামী লীগকে, নিষিদ্ধ করতে হবে’, ‘আওয়ামী লীগের বিষদাঁত, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’, ‘শহীদের দিচ্ছে ডাক, আওয়ামী লীগ নিপাত যাক’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।

ইনকিলাব মঞ্চের মিছিলে ‘খুনি লীগের পুনর্বাসন, রুখে দাও জনগণ’, ‘জুলাইয়ের বাংলায়, গণহত্যাকারীদের ঠাঁই নাই’ ইত্যাদি লেখা সংবলিত প্ল্যাকার্ডও আন্দোলনকারীদের হাতে দেখা যায়।

মিছিল থেকে তাঁরা আওয়ামী লীগকে গণহত্যাকারী সংগঠন হিসেবে অবিলম্বে নিষিদ্ধ করার দাবি জানান।

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদী বলে, ইসরায়েল এবং এশিয়ার ইসরায়েল ভারতের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে নিয়ে নির্বাচন করতে চাইলে বাংলাদেশে রক্তের বন্যা বয়ে যাবে। দুই হাজারের অধিক শহীদ এবং হাজার হাজার আহতের রক্তের শপথ, আমাদের দেহে এক বিন্দু রক্ত থাকতে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করতে দেব না। আওয়ামী লীগ মানেই খুনি।’

হাদী বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে নির্বাচন করতে দিলে আড়াই থেকে তিন বছর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকবে। তারপর ভারতের সাহায্যে ষড়যন্ত্র করে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা নিয়ে নেবে। তারপর দেশে আবার নারকীয় তাণ্ডব চালাবে।’

আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণার দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ। ছবি: আজকের পত্রিকা
আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণার দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ। ছবি: আজকের পত্রিকা

এর আগে বৃহস্পতিবার রাত দেড়টায় প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য ‘আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পরিকল্পনা নেই’ প্রত্যাহারের দাবিতে এবং আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন শিক্ষার্থীরা।

গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যসচিব জাহিদ আহসান বলেন, ’যারা জুলাই আগস্টের গণহত্যার বিরোধিতা করেনি, তারা কখনো ভালো হতে পারে না। ভালো আওয়ামী লীগ বলতে কিছু হয় না।’

সংগঠনটির কেন্দ্রীয় মুখপাত্র আশরেফা খাতুন বলেন, ‘আমরা ৫ আগস্টের পররাষ্ট্র কাঠামোতে যে পরিবর্তন আশা করেছি তা হয়নি। ৫ আগস্টে রাজপথে যে আওয়ামী লীগের ফয়সালা হয়ে গেছে, সে আওয়ামী লীগের ব্যাপারে এখনো আমাদের রাস্তায় নামতে হচ্ছে। আমাদের যেহেতু রাস্তায় নামতে হয়েছে, আমরা বিচার নিশ্চিত করে ছাড়ব। এর আগে রাজপথ ছেড়ে যাব না।’

আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণার দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ। ছবি: আজকের পত্রিকা
আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণার দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ। ছবি: আজকের পত্রিকা

তিনি বলেন, ‘জুলাইয়ে যখন রাজপথে রক্তের বন্যা বইছিল, তখন আওয়ামী লীগের একটা নেতা-কর্মীও তার বিরোধিতা করেনি। এখন তাদের মধ্য থেকে রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ খোঁজা হচ্ছে। আওয়ামী লীগের মধ্যে সবাই গণহত্যার দোসর। ভালো সাজিয়ে তাদের কাউকে পুনর্বাসন করার সুযোগ নেই। অনতিবিলম্বে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি গণহত্যার বিচার করতে হবে।’

গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্যসচিব মহির আলম বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তিনটা মৌলিক দাবি পূরণের জন্য দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। সংস্কার, নির্বাচন এবং আওয়ামী লীগের বিচার—এ তিন লক্ষ্য পূরণের কথা ছিল। সংস্কার এবং নির্বাচন নিয়ে নানা আলোচনা এবং কাজ চলমান থাকলেও আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ নিয়ে কোনো কাজ হচ্ছে না। ছাত্র-জনতা আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ না হলে রাজপথ ছাড়বে না।’

এ সময় শিক্ষার্থীরা শুক্রবার বেলা ৩টায় আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি ঘোষণা করে। একই দাবিতে গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ একই কর্মসূচি ঘোষণা দিয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত