Ajker Patrika

খনন নেই এক যুগেও তালমার বুকে ফসল

ফাহিম হাসান, পঞ্চগড়
পঞ্চগড় সদর উপজেলার তালমা এলাকায় নদী দখল করে ধান চাষ। ছবিটি সম্প্রতি তোলা। ছবি: আজকের পত্রিকা
পঞ্চগড় সদর উপজেলার তালমা এলাকায় নদী দখল করে ধান চাষ। ছবিটি সম্প্রতি তোলা। ছবি: আজকের পত্রিকা

খননের পরও পঞ্চগড় জেলায় অধিকাংশ নদী জলশূন্য হয়ে পড়েছে। আর যেগুলো এক যুগের বেশি সময় ধরে খনন করা হয়নি সেগুলোর অবস্থা আরও করুণ। দখলদারদের দখলে দুপার চেপে গেছে। এসব নদী দখল করে করা হচ্ছে চাষাবাদ। নদীগুলোতে আবাদ করার ফলে ব্যবহার করা হচ্ছে অতিরিক্ত সার ও কীটনাশক। সার-কীটনাশকের প্রভাবে মাছের প্রজনন হচ্ছে না। হারিয়ে যাচ্ছে নানা প্রজাতির মাছ। ফলে একসময়ের খরস্রোতা নদীগুলোও এখন মৃতপ্রায় অবস্থা হয়ে আছে। দখল-দূষণে অনেক নদী বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এক যুগের বেশি সময় ধরে খনন না হওয়া তালমা নদীসহ বিভিন্ন নদী সরেজমিনে দেখা গেছে, ভরাট হওয়া নদীগুলোর বুক দখল করে বোরো ধানের চাষ করেছেন কৃষকেরা। পাশাপাশি তাঁরা নদীতীরে করছেন বাদাম ও শীতকালীন সবজির খেত। তালমা নদী ভারতীয় সীমান্তবর্তী পঞ্চগড় সদর উপজেলার অমরখানা ইউনিয়ন দিয়ে প্রবেশ করেছে বাংলাদেশে। নদীর কিছু অংশ ব্যতীত পুরোটাই চলে গেছে দখলদারদের কবলে। দুপারে করা হচ্ছে বোরো ধানের আবাদ। স্থানীয়রা বলছেন, এক যুগ আগেও এসব নদীতে সারা বছর পানি থাকত।

তালমা তীরে পঞ্চগড় সদর উপজেলার কাজিরহাট এলাকায় ধান রোপণ করছিলেন আমেনা বেগম নামে এক নারী। তিনি বলেন, ‘বালুতে চর জেগেছে। তাই ধান চাষ করছি। অনেকেই করছে। কেউ বাধা দেয়নি।’ ডিয়াবাড়ী এলাকার কৃষক হানিফ বলেন, ‘এ বছর এক বিঘা জমিতে বোরোর চারা রোপণ করেছি। নদীর বুকে বোরো উৎপন্ন করতে সেচের পানি লাগে না।’ কৃষক আমিনার বলেন, গত বছরগুলোর তুলনায় এ বছর দ্বিগুণ জমিতে বোরোর চারা রোপণ করা হয়েছে।’

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৯৬ লাখ ৮৮ হাজার ৫৫০ টাকা ব্যয়ে জেলার ১৭৮ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী পুনঃখনন করা হয়। তাছাড়া এক দশক ধরে প্রবাহ কমতে থাকা নদীগুলো খননের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ইতিমধ্যে নতুন করে জেলার ছয়টি নদীর দৈর্ঘ্যে ২০ দশমিক ৩৩ কিলোমিটার খননের প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন পঞ্চগড় শাখার সাধারণ সম্পাদক আজহারুল ইসলাম জুয়েল বলেন, এখন নদীর চিহ্ন হারিয়ে পরিণত হয়েছে রোপা ধানের খেত। এখন নদীগুলোর বুকে চাষ হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের ফসল। দখলে দূষণে অনেক নদী বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

১০-১২ বছরে তালমা নদী খনন করা হয়নি বলে জানান পঞ্চগড় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আশুতোষ বর্মণ। তবে জেলার নদীগুলো পুনঃখননের আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, ‘নদীতে চাষাবাদের বিষয়টি শুনেছি। সেগুলো শিগগির দখলমুক্ত করা হবে। পুনঃখনন করা হবে। নদীগুলো পূর্বের রূপে ফিরিয়ে আনতে আমরা কাজ করছি।’

জেলা প্রশাসক (ডিসি) সাবেত আলী। তিনি বলেন, দখল হওয়া জায়গায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে। নদী রক্ষায় সরকারের নানামুখী পরিকল্পনা রয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পরিবারের সামনে পুলিশ কর্মকর্তা লাঞ্ছিত, স্বেচ্ছাসেবক দলের ৩ নেতা-কর্মী আটক

নয়াদিল্লি হাসিনা আমলের দৃষ্টিভঙ্গিই ধরে রেখেছে: ভারতীয় গণমাধ্যমকে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

বিমসটেক সম্মেলনে ড. ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদি বৈঠক হচ্ছে

গ্রেপ্তার আসামিকে ছিনিয়ে নিতে পুলিশের ওপর হামলা, বিএনপির ১৭ নেতা-কর্মী আটক

তখন অন্য একটা সংগঠন করতাম, এখন বলতে লজ্জা হয়: জামায়াতের আমির

এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত