Ajker Patrika

খণ্ড বা পূর্ণকালীন চাকরি অভিজ্ঞতাকে সমৃদ্ধ করবে

আসিফ বায়েজিদ
খণ্ড বা পূর্ণকালীন চাকরি অভিজ্ঞতাকে সমৃদ্ধ করবে

বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিয়ে আমার লেখার তৃতীয় বা শেষ অংশ এটি। প্রথম দুটি অংশ গত ২৮ ও ৩০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হয়েছে। আজ থাকছে শিক্ষানবিশ বা কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা ও সুপারিশপত্র নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা।

শিক্ষানবিশি বা কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা
সহশিক্ষাক্রমিক কাজের পাশাপাশি শিক্ষানবিশি বা খণ্ডকালীন কাজের অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সাহায্য করে। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং গবেষণা সংস্থায় তাদের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম বা প্রকল্পে শিক্ষানবিশ কর্মী নিয়োগ দিয়ে থাকে। এই কাজগুলো শিক্ষার্থীকে বাস্তব কর্ম এবং কাজের প্রক্রিয়া সম্পর্কে পরিপূর্ণ ধারণা দিয়ে থাকে। এতে শিক্ষার্থীর অভিজ্ঞতার ঝুলিও সমৃদ্ধ হয়। অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করা যায় খণ্ড বা পূর্ণকালীন চাকরি করে। বিভাগীয় কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা প্রতিটি বৃত্তির আবেদনপত্রকে একধাপ এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করে।

সুপারিশপত্র
বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় বা বৃত্তির আবেদনে গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হলো, আপনার বর্তমান বা পূর্ববর্তী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা কর্মপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক বা তত্ত্বাবধায়কের পক্ষ থেকে সুপারিশপত্র। প্রোগ্রামভেদে চাহিদাকৃত সুপারিশপত্রের সংখ্যা ভিন্ন হতে পারে। সুপারিশপত্র আপনার নতুন বিশ্ববিদ্যালয়কে সাবেক বা বর্তমান তত্ত্বাবধায়কের পক্ষ থেকে আপনার সম্পর্কে গুণবাচক নিশ্চয়তা দেয়। সুপারিশ নেওয়ার ক্ষেত্রে এমন শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত, যিনি আপনাকে দীর্ঘ সময় ধরে চেনেন। যার সঙ্গে আপনি বেশ কিছু কোর্স করেছেন (এবং যেগুলোতে ভালো নম্বরও এসেছে)। আর কর্মক্ষেত্রের সুপারিশপত্র নেওয়া উচিত আপনার সরাসরি তত্ত্বাবধায়কের কাছ থেকেই। তবে কিছু ক্ষেত্রে সুযোগ সাপেক্ষে আপনার বিভাগীয় প্রধানের কাছ থেকেও সুপারিশপত্র নিতে পারেন।

 শেষ মুহূর্তে তাড়াহুড়ো করে করতে গেলে অনেক কাজই শ্রীহীন হয়ে যায়, অসম্পূর্ণ থাকে। পরিকল্পনাটি যদি সাত সমুদ্র পাড়ি দিয়ে পড়তে যাওয়া হয়, তবে আগে থেকেই স্বপ্ন দেখুন। হাতে বেশ খানিকটা সময় নিয়ে প্রস্তুতি নিন।

আবেদনের সংখ্যা 
শিক্ষার্থী যদি যৌক্তিকভাবে প্রমাণ করতে পারেন যে তিনি একাডেমিক প্রোগ্রামটির জন্য যথেষ্ট আগ্রহী এবং অভিজ্ঞতার অধিকারী, তবেই কেল্লা ফতে। কিন্তু তার পরও কিছু গোপন কথা থেকে যায়। আন্তর্জাতিক বৃত্তিগুলোতে অনেক সময় অঞ্চল বা দেশভিত্তিক কোটা থাকে। কোটাগুলো পূরণ হয়ে গেলে আপনার আবেদনপত্র সব শর্ত পূরণ করলেও পড়ার সুযোগ না-ও হতে পারে। এখন কোন প্রোগ্রামটি আপনার কপালে জুটবে, আপনি তা জানেন না। তাই বিচক্ষণতার কাজ হবে মান বজায় রেখে যত বেশিসংখ্যক প্রোগ্রামে আবেদন করা যায়। পরিসংখ্যানও বলে, অধিক আবেদন সাফল্যের সম্ভাবনা বৃদ্ধি করে।

সংক্ষিপ্ত বক্তব্য অজান্তেই দীর্ঘ রূপ নিয়েছে, তবে সেই সঙ্গে বেশ কিছু কথা ভাগাভাগিও করে নেওয়া গেল। তবে সবকিছু বলা হয়নি। অব্যক্ত কথার প্রথমটি হলো–শেষ মুহূর্তে তাড়াহুড়ো করে করতে গেলে অনেক কাজই শ্রীহীন হয়ে যায়, অসম্পূর্ণ থাকে। পরিকল্পনাটি যদি সাত সমুদ্র পাড়ি দিয়ে পড়তে যাওয়া হয়, তবে আগে থেকেই স্বপ্ন দেখুন। হাতে বেশ খানিকটা সময় নিয়ে প্রস্তুতি নিন।

দ্বিতীয়ত, কিছু যোগ্যতা অবশ্যপূরণীয়, তবে সব যোগ্যতারই কিছু সম্পূরক রয়েছে। প্রোগ্রামের চাহিদা এবং আপনার সক্ষমতা অনুযায়ী সেগুলো আপনার খুঁজে বের করতে হবে। আর শেষ কথাটি হলো, হার মানা যাবে না। আপনি কোন কাজে ব্যর্থ হননি মানে আপনি নতুন কোনো পথে হাঁটেননি। আপনার কাজ হলো সর্বোচ্চটি দেওয়া, বাকিটা মহাকাল বলে দেবে। তাই, ‘হাল ছেড়ো না বন্ধু; বরং কণ্ঠ ছাড়ো জোরে!’ বাংলাদেশের নামটি আপনার অবদানে বিশ্বে গবেষণার ময়দানে আরও একবার, বারবার উচ্চারিত হোক–এ কামনা রইল।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত