Ajker Patrika

ঈদে চলবে ১০ ফেরি

সাগর হোসেন তামিম, মাদারীপুর
আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০২২, ১২: ৫৬
ঈদে চলবে ১০ ফেরি

বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌপথে ঈদে ঘরমুখী যাত্রীদের ভোগান্তি কমছে না। গত বছর ঈদে এই নৌপথে চলে ১৭টি ফেরি। এবার চলবে সাতটি ফেরি। বর্তমানে চলছে সাত ফেরি। একই সঙ্গে সকাল-সন্ধ্যা ফেরি চালু থাকায় বিপাকে পড়তে পারেন এই নৌপথে চলাচল করা যাত্রীরা। অন্যদিকে পদ্মা নদীতে পানি বাড়তে থাকায় পদ্মা সেতুর নিচ দিয়ে চালকেরা ফেরি চালাতে অনীহা প্রকাশ করছেন।

রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের স্বল্প দূরত্বের এই নৌপথে ঈদে ফেরির সংখ্যা বাড়ানো এবং ২৪ ঘণ্টা ফেরি চালু রাখার দাবি যাত্রীদের।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থার (বিআইডব্লিউটিসি) বাংলাবাজার ঘাটে কর্মরত ব্যবস্থাপক মো. সালাউদ্দিন জানান, গত বছরের জুলাই ও আগস্ট মাসে পদ্মায় তীব্র স্রোতের কারণে কয়েক দফায় পদ্মা সেতুর তিনটি পিলারে ফেরির ধাক্কা লাগে। এতে আহত হন বেশ কয়েকজন যাত্রী। ফেরির ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় সেতুর পাইল ক্যাপ। এ পরিস্থিতিতে নৌপথে দুর্ঘটনা এড়াতে গত বছরের ১৮ আগস্ট থেকে ফেরি চলাচল পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এরপর কয়েক দফায় সীমিত আকারে ফেরি চালু ও বন্ধ করা হয়।

শরীয়তপুরের জাজিরার মাঝিরকান্দি ঘাটে স্থানান্তর করা হয় ফেরিঘাট। তখন দিনের বেলা মাত্র তিনটি ফেরি চলে এ রুট দিয়ে। পরে গত বছরের ৭ নভেম্বর থেকে বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌপথে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ছোট ছোট ৫টি ফেরিতে অ্যাম্বুলেন্স, ব্যক্তিগত গাড়ি ও যাত্রী পারাপার শুরু করা হয়।

বিআইডব্লিউটিসির বাংলাবাজার ঘাটে সরেজমিনে দেখা গেছে, বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌপথে বর্তমানে শুধু দিনের বেলায় ফেরি সার্ভিস চালু রয়েছে। সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত রো রোসহ মাত্র ৪টি ফেরি চলে। এ ছাড়া মাঝিরকান্দি-শিমুলিয়া রুটে চলে ৩টি ফেরি। দুই নৌরুটে মোট ৭টি ফেরি চলাচল করছে। গাড়ির চাপ বাড়লে বাংলাবাজার ঘাট এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়। টার্মিনালে সিরিয়ালে থাকতে হয় যানবাহনগুলো। তবে নৌপথে ব্যক্তিগত যানবাহন, অ্যাম্বুলেন্সসহ ছোট যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। পণ্যবাহী ট্রাক ও যাত্রীবাহী বাস পারাপার বন্ধ রয়েছে এ নৌপথে। নৌপথে ৮৭টি লঞ্চ ও শতাধিক স্পিডবোট চলাচল করছে। ঈদ সামনে রেখে ইতিমধ্যে লঞ্চগুলো প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে ঈদে দুই ঘাটে ১০টি ফেরি চলাচলের কথাও রয়েছে।

বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌপথে চলছে ফেরি। গতকাল তোলা ছবি। আজকের পত্রিকাআকরাম বেপারী নামের এক যাত্রী বলেন, ‘গত বছর বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌপথে ১৭টি ফেরি চলেছে। এবার নাকি দুই রুটে ১০টি ফেরি চলবে। এতে দুর্ভোগ কয়েক গুণ বেড়ে যাবে। তাই কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি, দিনের বেলায় সতর্কতার সঙ্গে সব ফেরিই চালু রাখা হোক। রাতে সব না চললেও তত সমস্যা হবে না। তবে ফেরি যদি কম চলে, তাহলে দুর্ভোগের সীমা থাকবে না।’

অন্যদিকে পদ্মায় পানি বেড়ে যাওয়ায় সেতুর নিচ দিয়ে ফেরি চালাতে অনীহা ফেরির মাস্টারদের। রো রো ফেরি বেগম সুফিয়া কামালের মাস্টার ইনচার্জ মো. জয়নাল আবেদিন বলেন, ‘পদ্মা নদীতে পানি বেড়েছে। এতে স্রোতের কারণে অনেক সময় ফেরি নিয়ন্ত্রণ রাখা কঠিন হয়ে যায়। যে কারণে সেতুর পিলারে ধাক্কার লাগারও শঙ্কা থাকে। অনেক সময় ঘূর্ণমান স্রোতের কারণে ফেরি সেতুর পিলারের দিকে চলে যায়। দিনের বেলায় কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা গেলেও রাতে তা সম্ভব হয় না। তাই ঈদের কারণে কর্তৃপক্ষ বললেও আমাদের অনীহা রয়েছে।’

বিআইডব্লিউটিসির বাংলাবাজার ঘাটের ব্যবস্থাপক মো. সালাউদ্দিন আরও বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাবাজার ও শরীয়তপুরের মাঝিরকান্দি দুই ঘাট মিলে ৭টি ফেরি চলছে। গত বছর ঈদে ১৭টি ফেরি চললেও এবার ১০টি ফেরি চলাচল করবে। এবার বরং যাত্রীদের দুর্ভোগ একটু কমার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এবার দুই নৌপথেই লঞ্চ ও স্পিডবোট চলাচল করছে। অন্যদিকে বরিশাল-ঢাকা লঞ্চ চলবে, দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীরা সেখান দিয়েই যাতায়াত করবেন। ফলে গতবারের চেয়ে ফেরিতে চাপ কম হবে। তারপরে রাতে ফেরি চলাচলের বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সিদ্ধান্ত হলে রাতেও ফেরি চলবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এখন টিভির ঘটনা সমঝোতার চেষ্টা করবেন তথ্যমন্ত্রী

ড. ইউনূস এখন কোথায় আছেন, নতুন প্রধানমন্ত্রী উঠবেন কোথায়?

২৬ ফেব্রুয়ারি বসতে পারে সংসদের প্রথম অধিবেশন, সভাপতিত্ব করবেন কে

বৈধ সুবিধাকে অস্বীকার করে জনগণের সামনে সাধু সাজা হচ্ছে: নাহিদ ইসলাম

প্রধানমন্ত্রীর গবেষণা কর্মকর্তা হলেন আবদুস সাত্তার পাটোয়ারী

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত