Ajker Patrika

মুমূর্ষু

রাজীব কুমার সাহা
মুমূর্ষু

আমাদের নিত্যদিনের ভাষিক সংশ্রয়ে একটি অতি পরিচিত শব্দ হলো ‘মুমূর্ষু’। পরিস্থিতির প্রসঙ্গভেদে শব্দটির উপস্থিতি মানেই হলো কোনো বিপদাপন্ন অবস্থা। হয়তো কেউ মুমূর্ষু বা মরণাপন্ন অবস্থায় রাস্তায় পড়ে আছে বা কোনো মুমূর্ষু রোগীকে এখনই হাসপাতালে ভর্তি করাতে হবে। দুটোই বিপদগ্রস্ত অবস্থা। আবার বেতার, টেলিভিশন বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমরা আরেকভাবে মুমূর্ষু শব্দটির সাক্ষাৎ পাই—সেটি হলো, ‘একজন মুমূর্ষু রোগীর জন্য রক্তের প্রয়োজন। রক্তের গ্রুপ...’ এমন ঘোষণায়। সুতরাং সহজেই অনুধাবনযোগ্য যে শব্দটি ব্যবহারিকভাবে আমাদের কাছে কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এর অর্থ কী? এখন আমরা মুমূর্ষু শব্দটি যে অর্থে পাই এর মূল অর্থ কিন্তু সেটি নয়। তবে চলুন, আজ মুমূর্ষু শব্দের ময়নাতদন্ত করি।

‘মুমূর্ষু’ শব্দটির বর্তমান অর্থ হলো মৃত্যুকাল আসন্ন এমন, মরণাপন্ন, মৃতপ্রায় প্রভৃতি। এটি বিশেষণ পদ। এর ব্যুৎপত্তি হলো মুমূর্ষু= [√মৃ+সন্+উ]। যেমন মুমূর্ষু রোগী। আর মুমূর্ষু রোগীদের বাঁচাতে হাসপাতালের শেষ আশ্রয় হলো ‘লাইফ সাপোর্ট’ব্যবস্থা। মুমূর্ষু শব্দের মূল অর্থ ছিল ‘যে মরতে বা প্রাণত্যাগ করতে ইচ্ছুক, অর্থাৎ মৃত্যু-আকাঙ্ক্ষী বা আত্মহত্যাকারী। সংস্কৃত থেকে বাংলায় শব্দটির অর্থ যদি বিবর্তিত না হতো তাহলে হাসপাতালের বদলে পাগলাগারদেই স্থান হতো ‘মুমূর্ষু’ শব্দের। কেননা কোনো স্বাভাবিক মানুষ মৃত্যু-আকাঙ্ক্ষী বা আত্মহত্যায় ইচ্ছুক হলে আমাদের প্রচলিত সমাজব্যবস্থায় তাকে অপ্রকৃতিস্থ হিসেবেই বিবেচনা করা হয়। প্রকৃতভাবে ভাষিক ক্রমবিবর্তনে মুমূর্ষু শব্দটির নেতিবাচক অর্থ পরিবর্তিত হয়ে এর অর্থের উন্নতিই সাধিত হয়েছে।

‘মুমূর্ষু’ বানানটি লিখতে আমরা প্রায়ই ভুল করি। কখনো কখনো মুমূর্ষু শব্দটিকেই ভুল বানানে লিখে মুমূর্ষু করে তুলি। এটি মূলত ঘটে ঊ-কারের ভুল ব্যবহারের কারণে। আমরা এভাবে মনে রাখতে পারি, মুমূর্ষু শব্দের অর্থ হলো মরণাপন্ন অবস্থা; অর্থাৎ রোগীকে মাঝখানে রেখে দুদিক থেকে যখন যমে আর মানুষে টানাটানি শুরু হয়, তখনই তো মুমূর্ষু অবস্থার তৈরি হয়। সে হিসেবে মনে রাখি এভাবে—মু (যম), মূ (রোগী), র্ষু (মানুষ)। এ চিত্রকল্পটি মনে রাখলে মুমূর্ষু বানানটি আর দ্বিতীয়বার ভুল হওয়ার আশঙ্কা নেই। অথবা আরেকটি সূত্রে মুমূর্ষু বানানটি মনে রাখতে পারি। ‘মুমূর্ষু’ শব্দে প্রথম বর্ণে উ-কার, দ্বিতীয়তে ঊ-কার এবং তৃতীয়তে উ-কার। বর্ণমালার ক্রম অনুসারে উ-কার এক (১) ও ঊ-কার দুই (২) দ্বারা চিহ্নিত করা হয়; অর্থাৎ সংখ্যাগতভাবে ১২১। তাহলে বানানক্রমটি হয়: উ ঊ উ = ১২১; অর্থাৎ প্রথমে উ-কার, দ্বিতীয়ত, ঊ-কার এবং তৃতীয়ত, আবার উ-কার= ১২১ = মুমূর্ষু। 

সুতরাং যমে মানুষে টানাটানি করুন আর সংখ্যাগত ১২১ সূত্র মনে রাখুন, যা-ই করুন না কেন মুমূর্ষু বানান লিখতে মুমূর্ষু না হয়ে মুমূর্ষুকে আক্ষরিক এবং আভিধানিকভাবে সেবা করে সুস্থ করে তুলুন। কেননা সেবাই পরম ধর্ম।

বিষয়:

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

‘ভবঘুরেকে যৌনাচারে লিপ্ত দেখলেই সানডে মানডে ক্লোজ করে দিতাম’, পুলিশকে ‘সাইকো’ সম্রাট

অভিজ্ঞতা ছাড়াই সিটি ব্যাংকে চাকরি, নিয়োগ ১৫ জেলায়

‘বাসররাতে মুখ ধোয়ার পর নববধূকে চেনা যাচ্ছে না’, কনে ফেরত, বর কারাগারে

ফের তাপমাত্রা কমবে, কবে থেকে জানাল আবহাওয়া অধিদপ্তর

সাবেক গভর্নর ড. আতিউরসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত