আপনার জিজ্ঞাসা

প্রশ্ন: আমাদের দেশে দেখা যায়, ধর্মীয় বা সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বা বাসাবাড়িতে শিক্ষক ও অভিভাবকেরা শিশু-কিশোরদের নির্দয়ভাবে পেটান। অনেকে বেত, লাঠি, তার, এমনকি লোহার শিকলও এসব কাজে ব্যবহার করেন। আবার অনেক শিক্ষককে বলতে শোনা যায়, শিক্ষকদের প্রহারের স্থানটি জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করবে না। এ বিষয়ে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি কী জানতে চাই।
ফারিহা ফেরদাউস, চট্টগ্রাম
উত্তর: শিশুদের নির্দয়ভাবে পেটানো এবং জখম করা প্রথমত, দেশীয় আইনে অপরাধ। ইসলামের দৃষ্টিতেও গুরুতরভাবে আহত করে মারধর করার কোনো সুযোগ নেই। শিক্ষকের প্রহার করা স্থান জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করবে না—এমন কোনো হাদিস পাওয়া যায় না। কোনো নির্ভরযোগ্য ইসলামি বইয়েও এমন কোনো কথা পাওয়া যায় না। বরং নবী (সা.) বেত ইত্যাদি দিয়ে শিশুদের আঘাত করতে নিষেধ করেছেন।
হাদিসে এসেছে, মহানবী (সা.) শিশুদের শিক্ষক ও বিশিষ্ট সাহাবি হজরত মিরদাসের উদ্দেশে বলেছেন, ‘খবরদার, বাচ্চাদের তিনবারের বেশি পেটাবে না। কেননা যদি তুমি তিনবারের বেশি পেটাও, তাহলে আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন তোমার কাছ থেকে তার বদলা নেবেন।’ (আহকামুস সিগার)
এ হাদিসের আলোকে ফকিহগণ বলেন, শিষ্টাচার শেখানোর জন্য শিক্ষক হাত দিয়ে হালকা ও মোলায়েমভাবে শিশু-কিশোরদের পিট চাপড়ে দিতে পারেন। তবে একই সময়ে তিনবারের বেশি মারা যাবে না। বেত, লাঠি, ডান্ডা, কোড়া, চামড়ার বেল্ট, তার ইত্যাদি দিয়ে মোটেও মারা যাবে না। শরিয়তে এর অনুমতি নেই। চাই ধর্মীয় জ্ঞান শেখার ক্ষেত্রে হলেও।
দুররুল মুখতারে উপরিউক্ত হাদিসের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, শিষ্টাচার শেখাতে মা-বাবা সন্তানদের হাত দিয়ে মামুলিভাবে প্রহার করতে পারেন। তবে তা তিনবারের বেশি নয়। শিক্ষকের জন্যও একই বিধান। দুররুল মুখতারে আরও বলা হয়েছে, এই প্রহার যেন কোনোভাবেই লাঠি দিয়ে না হয়। এখানে লাঠি বলতে বিভিন্ন উপকরণে ব্যাপক মারধরকে বোঝানো হয়েছে। তাই লাঠি, দোররা, শিকল, তার ইত্যাদি দিয়ে মারাও নিষেধ সাব্যস্ত হয়। (হাশিয়া ইবনে আবিদিন, রদ্দুল মুহতার, ১ / ৩৫১; ইলাউস সুনান, ১০ / ২৫২)
মাওলানা আশরাফ আলি থানভি বলেন, ‘রাগের মাথায় কখনো শিশুকে প্রহার করবে না। রাগ প্রশমিত হওয়ার পর চিন্তাভাবনা করে শাস্তি দেবে। উত্তম শাস্তি হলো ছুটি মওকুফ করে দেওয়া। শিশুর ওপর জুলুম বেশি হয়, কারণ শিশুরা বড়দের প্রশ্ন করতে পারে না। তাই তারা কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে না বা শিক্ষকদের জবাবদিহি করার কেউ থাকে না। তবে মনে রাখবে, যার অধিকার সম্পর্কে প্রশ্ন করার কেউ থাকে না, তার সম্পর্কে প্রশ্নকারী স্বয়ং আল্লাহ।’ (আনফাসে ইসা: পৃ. ১৭৩)
অতএব, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা পরিবারে শিশুদের প্রহারের ব্যাপারে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সতর্ক থাকতে হবে।
উত্তর দিয়েছেন: মুফতি ইশমাম আহমেদ, ইসলামবিষয়ক গবেষক

শাশ্বত চেতনাবোধের বিনির্মাণ ও অনুপম মনুষ্যত্ব অর্জনের এক কার্যকর প্রশিক্ষণের বার্তা নিয়ে আগমন করে রমজান। শাবান মাসের শেষে পশ্চিম আকাশে বাঁকা চাঁদ উঁকি দিতেই ধরণির বুকে রহমতের ফল্গুধারা নেমে আসে। শুরু হয় মুমিন হৃদয়ের দীর্ঘ প্রতীক্ষার স্নিগ্ধ প্রহর—পবিত্র মাহে রমজান।
৭ ঘণ্টা আগে
দিন শেষে রাত নেমে এসেছে মক্কার আকাশে। ধীরে ধীরে রাত গভীর হচ্ছে। বাড়ছে নিস্তব্ধতা। কমছে কোলাহল। এসবের মাঝেই নতুন এক আলোর আগমনের অপেক্ষা। মক্কার এক প্রান্তে বসে অপেক্ষা করছেন এক ইহুদি পণ্ডিত। তাঁর চোখ আকাশের দিকে স্থির। মনোযোগ গভীর। দীর্ঘ অপেক্ষার পর তিনি তাঁর কাঙ্ক্ষিত বস্তু পেয়েছেন বলেই চেহারায়...
৭ ঘণ্টা আগে
মানুষের অস্তিত্বের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে ভাষা। এটি মানুষের চিন্তাচেতনা, নিজস্ব সংস্কৃতি, অনুভূতি প্রকাশ ও আত্মপরিচয়ের প্রধান বাহক। বিশেষত মাতৃভাষা মানুষের হৃদয় ও আবেগের ভাষা। যে ভাষায় মানুষ প্রথম কথা বলতে শেখে, শিক্ষা ও সংস্কৃতি চর্চায় তা অপরিহার্য ভূমিকা রাখে।
৮ ঘণ্টা আগে
রমজানের স্নিগ্ধ আমেজ আর আনন্দের জোয়ারে মিসরের পুরোনো কায়রোর সমকক্ষ আর কোনো জনপদ নেই বললেই চলে। এখানকার প্রতিটি রাস্তা, অলিগলি দিয়ে হাঁটার সময় আপনার চোখে পড়বে পবিত্র মাসকে বরণ করে নেওয়ার একেকটি জীবন্ত দৃশ্য। কেউ হয়তো নিজের বাড়ির আঙিনায় বা দোকানের সামনে বসে লোহা কিংবা...
৮ ঘণ্টা আগে