
গতকাল শুক্রবার ছিল ছুটির দিন। তাই রাজধানীর বাংলাবাজারের সৃজনশীল প্রকাশনীগুলো বন্ধ থাকার কথা। কিন্তু পরদিন থেকে বইমেলার শুরু; এ কারণে প্রকাশকদের ব্যস্ততার শেষ নেই। পিকআপ ও ভ্যানে ওঠানো হচ্ছে নতুন বই। ছাপা, বাঁধাইয়ের কর্মী, শ্রমিক সবাই ব্যস্ত প্রথম দিনে নতুন বই পাঠকের সামনে তুলে ধরার কাজে। গতকাল রাতভরও কাজ করার কথা অনেকের।
বইমেলার বড় অংশ থাকছে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে; সেখানে গতকাল বিকেলে ছিল অন্যরকম ব্যস্ততা। কোনো কোনো স্টল আর প্যাভিলিয়নে চলছিল শেষ মুহূর্তের কাজ। অনেক প্যাভিলিয়নের কাজ শেষ। এর মধ্যেই কয়েক প্রকাশকের সঙ্গে কথা হলো। বেশির ভাগই বললেন, মূলভাবসহ নানাভাবে এবারের মেলার কেন্দ্রে থাকবে ছাত্র-জনতার জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থান।
গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দীর্ঘ দেড় দশকের ক্ষমতার অবসান ঘটার পর বাংলাদেশের রাজনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সৃষ্টি হয়েছে এক নতুন আবহ। তার ছোঁয়া আছে ভাষাশহীদদের স্মরণে আয়োজিত অমর একুশে বইমেলায়ও। অনেক প্রকাশক গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে বই বের করেছেন। কোনো কোনো স্টলে দেখা গেল অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের ছবি। স্বৈরাচারবিরোধী স্লোগানও লেখা আছে কোনো কোনো স্টলে।
আনুষ্ঠানিকভাবেও এবারের বইমেলার প্রতিপাদ্য ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান: নতুন বাংলাদেশ নির্মাণ’। মেলার উদ্যোক্তা বাংলা একাডেমিও জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে আয়োজন সাজিয়েছে।
পুঁথিনিলয় প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী শ্যামল পাল বললেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান থাকছে এবারের মেলার আকর্ষণ। আমার প্রকাশনী থেকে এ বিষয়ে একটি বই বের হচ্ছে।’
মিজানুর রহমানের শোভা প্রকাশ জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে বই আনছে। অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট এবং ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত আন্দোলনের প্রতিটি বড় ঘটনার বিবরণ থাকবে বইটিতে।
আদর্শ প্রকাশনীর সমন্বয়কারী আদনান হোসেন রাফসান জানালেন, জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে তাঁদের একাধিক বই আসছে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে ‘সংবাদপত্রে জুলাই অভ্যুত্থান, ২৫টি শীর্ষ দৈনিকের প্রথম পৃষ্ঠা’ নামে সংকলনগ্রন্থ। এ ছাড়া আদর্শ আনছে গবেষক কল্লোল মোস্তফার ‘শেখ হাসিনার দুঃশাসনের খতিয়ান’। রাজনৈতিক পটপরিবর্তন না হলে দেশে এ ধরনের বই প্রকাশ করা সম্ভবই হতো না।
জনপ্রিয় প্রকাশনী জুলাই অভ্যুত্থান ও জেনজি প্রজন্ম নিয়ে বই প্রকাশ করেছে। প্রকাশক মোহাম্মদ সোলায়মান হোসেন জানালেন শহীদ মুগ্ধকে নিয়ে গল্পের বই এবং ‘অপরাজেয় জেনজি’ নামে অভ্যুত্থান করা প্রজন্মকে নিয়ে একটি বই আনছেন তাঁরা।
শিকড় প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী মিজানুর রহমান সরদার বললেন, ‘এবারের মেলায় আলাদা কোনো নতুনত্ব নেই। তবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে বই বেশি থাকছে।’
নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার বাংলাদেশে এবারের মেলায় অভ্যুত্থানের বাইরেও সার্বিকভাবে রাজনৈতিক বইয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব থাকছে। কয়েক প্রকাশক জানিয়েছেন, শেখ হাসিনার আমলের দুঃশাসনের খতিয়ান নিয়ে আসছেন তাঁরা। একদলকেন্দ্রিক ইতিহাসের বর্ণনার বাইরে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের অন্তর্ভুক্তিমূলক ইতিহাস নিয়ে বই প্রকাশ করেছেন তাঁরা।
জ্ঞানকোষ প্রকাশনীর প্রধান নির্বাহী ওয়াসী তরফদার জানালেন, তাঁদের স্টলে জনপ্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদসহ অনেকের বই থাকবে।
অমর একুশে বইমেলা ২০২৫-এর সদস্যসচিব সরকার আমিন বললেন, ‘লেখক বলছি’র আঙিনায় ‘জুলাইয়ের গল্প’ নামে একটি অংশ থাকবে। সেখানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা তাঁদের অভিজ্ঞতার কথা বলবেন।’
‘উসকানিমূলক’ বই যেন না আসে: ডিএমপি
একুশের বইমেলাকে কেন্দ্র করে অতীতে লেখকদের ওপর একাধিকবার উগ্রবাদীদের হামলার ঘটনা ঘটেছে। সে কারণে মেলায় জঙ্গি হামলার কোনো শঙ্কা রয়েছে কি না, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ব্রিফিংয়ে এ প্রশ্ন করা হয়েছিল ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলীকে। তিনি সেই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিলেও কারামুক্ত এবং পালিয়ে যাওয়া জঙ্গিদের বিষয়ে সতর্ক থাকার কথা বলেছেন।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সড়ক ও পরিবহন খাতে দীর্ঘদিনের চাঁদা সংস্কৃতিকে মালিক-শ্রমিক কল্যাণের যুক্তিতে বৈধতার আবরণ দেওয়ার চেষ্টা বিভ্রান্তিকর। এতে প্রকৃত সমস্যার সমাধান না হয়ে বরং বিদ্যমান বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্যকে টিকিয়ে রাখার প্রবণতা শক্তিশালী হতে পারে।
২৬ মিনিট আগে
চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার প্রসঙ্গে আমির খসরু বলেন, এখন বাণিজ্যিক রাজধানীর কাজ শুরু হবে। বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম আরও উন্নত করা—এসব লক্ষ্য নিয়েই সরকার এগোবে। বিনিয়োগের মাধ্যমেই তো বাণিজ্যিক রাজধানী হবে, মন্তব্য করেন তিনি।
১ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে টেলিফোন করে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। আজ শুক্রবার বেলা ৩টায় বাংলাদেশ সরকারের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীকে ফোন করেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী।
২ ঘণ্টা আগে
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার (ডিএমপি) শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেছেন, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মহান ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করবেন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ। এ ছাড়া শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন বিদেশি কূটনীতিকরা। এরপরই শহীদ মিনার সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের...
৩ ঘণ্টা আগে