Ajker Patrika

পয়লা বৈশাখে পান্তা-ইলিশ আমাদের সংস্কৃতির অংশ নয়: উপদেষ্টা ফরিদা আখতার

অনলাইন ডেস্ক
‘বাংলাদেশ শেফ সম্মেলনে’ প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। ছবি: আজকের পত্রিকা
‘বাংলাদেশ শেফ সম্মেলনে’ প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। ছবি: আজকের পত্রিকা

পয়লা বৈশাখে পান্তা-ইলিশ বাঙালি সংস্কৃতির অংশ নয় বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। আজ শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বনানী মোস্তফা কামাল আতাতুর্ক পার্কে ‘বাংলাদেশ শেফ সম্মেলনে’ প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তিনি। এ সময় তিনি দেশের ঐতিহ্যবাহী খাবার ও সংস্কৃতির বিষয়ে নানা মন্তব্য করেন।

উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, ‘পয়লা বৈশাখে পান্তা-ইলিশ আমাদের সংস্কৃতির অংশ নয়। বৈশাখে ইলিশের ব্যান পিরিয়ড থাকে আর তখন ব্যাপকভাবে ইলিশ খাওয়ার প্রতি আগ্রহ দেখা যায়। আমাদের সংস্কৃতি হলো চৈত্র সংক্রান্তি। এ সময় মাছ-মাংস ছাড়া বিভিন্ন রকমের শাক দিয়ে রান্না করা হয়, আর এগুলোই বাঙালি সংস্কৃতি।’

এই উৎসবের আয়োজন করে ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ইন্ডাস্ট্রি স্কিলস কাউন্সিল। অনুষ্ঠানে আয়োজনে সহযোগিতা করে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং শিল্প মন্ত্রণালয়। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

মায়ের হাতের রান্নার বিষয়ে উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, ‘আজকের অনুষ্ঠানে অনেক শেফের কথা বলা হলেও কিন্তু আমি মনে করি প্রতিটি বাড়িতে একেকজন শ্রেষ্ঠ শেফ রয়েছে। প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, মায়ের ওপর বড় কোনো শেফ হয়? কিন্তু অনেক সময় বিজ্ঞাপনে যখন দেখানো হয় মায়ের রান্নার মতো স্বাদ, মায়ের রান্না যখন পণ্য হিসেবে উপস্থাপন করে তখন তা অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।’

দেশীয় খাবারকে সংস্কৃতির অংশ উল্লেখ করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা বলেন, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আমাদের কাছে নতুন বাংলাদেশ এসেছে; আর নতুন দেশে তরুণেরা আমাদের পথ দেখিয়েছে। এই তরুণদের সঙ্গে দেশীয় খাবারের পরিচয় করে দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগামী প্রজন্ম যদি দেশীয় খাবারের সঙ্গে পরিচিত না হয়; তখন মনে হবে তরুণেরা দেশে থেকেও যেন দেশে নাই। তাই দেশীয় খাবারের প্রতি সন্তানদের আগ্রহ সৃষ্টি করার দায়িত্ব প্রতিটি অভিভাবকের।’

শেফদের শিল্পীর মর্যাদাদানের আহ্বান জানিয়ে ফরিদা আখতার বলেন, ‘প্রত্যেকটি শেফ একেকজন শিল্পী। তাদের নিজস্ব জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার ফলে রান্নার বৈচিত্র্য দেখা যায়। তাই তারা শিল্পীর মর্যাদা প্রাপ্তির যোগ্যতা রাখে।’ তবে ঘরে রান্না করলে রাঁধুনি আর ড্রেস পরে রান্না করলে শেফ বলা হয়, এই পার্থক্য দূর করার আহ্বান জানান তিনি।

উপদেষ্টা পরে ঢাকা রিজেন্সি হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট, লে মেরিডিয়ান, প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও, ক্রাউন প্লাজা, ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেল, ওয়েস্টিন, রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন ও সিক্স সিজনস হোটেলের এক্সিকিউটিভ শেফদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন।

ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ইন্ডাস্ট্রি স্কিলস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন হেলাল এতে সভাপতিত্ব করেন। এতে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী আবু তাহির মুহাম্মদ জাবের, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ইন্ডাস্ট্রি স্কিলস কাউন্সিলের সেক্রেটারি জেনারেল শাহিদ হোসেন শামীম।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

নবরাত্রির জন্য বছরজুড়ে অপেক্ষা, পিরিয়ডের কারণে পালন করতে না পেরে আত্মহত্যা

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন নিয়ে আরাকান আর্মির আপত্তি ও শর্ত

আ.লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, খই-মুড়ির মতো বোমা ফুটছে জাজিরায়

অটোতে ফেলে যাওয়া ১৮ ভরি স্বর্ণালংকার ফিরিয়ে দিলেন কলেজছাত্র

পরকীয়া নিয়ে ঝগড়া, স্ত্রীর কাঠের আঘাতে স্বামী নিহত

এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত