
রাজশাহী বিভাগের ৩৯টি ও যশোর জেলার ছয়টি আসনে ভোটারদের তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সবগুলো ভোটকেন্দ্র পোলিং এজেন্ট দিতে পারেননি স্বতন্ত্র ও ছোট দলগুলোর প্রার্থীরা। এর কারণ হিসেবে অর্থসংকট ও সাংগঠনিক দুর্বলতার কথা জানিয়েছেন দলগুলোর নেতা ও প্রার্থীরা।
ভোটের আগের দিন গতকাল বুধবার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা একাধিক ছোট দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এই ভোট শুরু হবে।
জানা গেছে, রাজশাহী বিভাগের ৩৯টি আসনের সবগুলোতেই ভোটের মূল লড়াই হবে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের। রাজনৈতিক বড় এই দুই দল সবগুলো ভোটকেন্দ্রে পোলিং এজেন্ট দিয়েছে। রাজশাহীতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), গণঅধিকার পরিষদ, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি, বাংলাদেশ লেবার পার্টি ও নাগরিক ঐক্যের প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এসব দলের প্রার্থীদের অনেকে হাতে গোনা কয়েকটি কেন্দ্রে পোলিং এজেন্ট দিতে পেরেছেন। সব কেন্দ্রে পোলিং এজেন্ট দিতে পারেননি।
এ বিষয়ে রাজশাহী-১ আসনের গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মির মো. শাহজাহান বলেন, ‘আর্থিক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আমরা কোনো কেন্দ্রে পোলিং এজেন্ট দিতে পারিনি। সুষ্ঠু ভোট হলে পোলিং এজেন্টের প্রয়োজন নেই।’
রাজশাহী-২ আসনের লেবার পার্টির প্রার্থী মেজবাউল ইসলাম বলেন, সব কেন্দ্রে এজেন্ট দেওয়া সম্ভব হয়নি। রাজশাহী-৩ আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী আফজাল হোসেন ৪০টি কেন্দ্রে পোলিং এজেন্ট দিয়েছেন। আর আমজনতার দলের প্রার্থী সাঈদ পারভেজ কোনো কেন্দ্রেই পোলিং এজেন্ট দেননি।
রাজশাহী-৪ আসনের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী তাজুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমি পাঁচটি কেন্দ্রে পোলিং এজেন্ট দিয়েছি। বাকিগুলোতে আর্থিক সংকটের কারণে দিতে পারিনি।’ জাতীয় পার্টির প্রার্থী ফজলুল হক বলেন, ‘আমি কোনো কেন্দ্রেই পোলিং এজেন্ট দিতে পারিনি।’
নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী বিভাগের ৮ জেলায় মোট সংসদীয় আসন ৩৯টি। ভোটার রয়েছেন ১ কোটি ৬৩ লাখ ৭৭ হাজার ৯৬ জন।
এদিকে যশোর জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে বিভিন্ন দলের মোট ৩৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে বিএনপি, জামায়াত ও এক স্বতন্ত্র প্রার্থী ছাড়া অন্য দলের প্রার্থী সব ভোটকেন্দ্রে পোলিং এজেন্ট দিতে পারেননি। জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে সর্বনিম্ন ৪২৫টি বুথ বা ভোটকক্ষ রয়েছে। সবচেয়ে বেশি ভোটকক্ষ রয়েছে যশোর-৩ (সদর) আসনে ১ হাজার ২৪৪টি।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সব ভোটকেন্দ্রের জন্য পোলিং এজেন্টের তালিকা চূড়ান্ত করেছেন বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় পার্টির প্রার্থীরাও এজেন্টের তালিকা প্রস্তুত করেছেন। অন্য দলের অধিকাংশ প্রার্থী শুধু কিছু নির্বাচনী কেন্দ্রে এজেন্ট দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাঁরা ভোটারদের কাছেও অপরিচিত। সাংগঠনিকভাবে দুর্বল রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হওয়ায় তাঁদের এই সংকটের মুখোমুখি হতে হয়েছে। অনেকের জামানত হারানোর শঙ্কাও রয়েছে।
জানা গেছে, যশোর-১ (শার্শা) আসনে সব ভোটকেন্দ্রে পোলিং এজেন্টের তালিকা করতে পেরেছেন বিএনপির নুরুজ্জামান লিটন (ধানের শীষ) ও জামায়াতের মুহাম্মাদ আজীজুর রহমান (দাঁড়িপাল্লা) প্রার্থী। কিছু নির্বাচনী কেন্দ্রে এজেন্ট দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন জাতীয় পার্টির জাহাঙ্গীর আলম চঞ্চল (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলনের বক্তিয়ার রহমান (হাতপাখা)।
যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসনে শতভাগ কেন্দ্রে পোলিং এজেন্ট দিতে পেরেছেন বিএনপির সাবিরা সুলতানা (ধানের শীষ), জামায়াতের মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ (দাঁড়িপাল্লা)। যশোর-৩ (সদর) আসনে শতভাগ কেন্দ্রে তালিকা প্রস্তুত করেছেন বিএনপির অনিন্দ্য ইসলাম অমিত (ধানের শীষ), জামায়াতের আব্দুল কাদের (দাঁড়িপাল্লা)। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুহাম্মদ শোয়াইব হোসেন (হাতপাখা), জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) নিজামদ্দিন অমিত (চশমা), জাতীয় পার্টির খবির গাজী (লাঙ্গল), বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) রাশেদ খান (কাস্তে) কিছু কিছু কেন্দ্রে পোলিং এজেন্ট নিয়োগ দেবেন।
যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর) আসনেও শতভাগ কেন্দ্রে পোলিং এজেন্টের তালিকা প্রস্তুত করেছেন বিএনপির মতিয়ার রহমান ফারাজী (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর গোলাম রসুল (দাঁড়িপাল্লা)। যশোর-৫ (মনিরামপুর) আসনে শতভাগ পোলিং এজেন্ট দিতে পেরেছেন বিএনপির রশীদ আহমাদ (ধানের শীষ), জামায়াতের গাজী এনামুল হক (দাঁড়িপাল্লা), স্বতন্ত্র শহীদ মো. ইকবাল হোসেন (কলস)।
যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনেও শতভাগ দিতে তালিকা প্রস্তুত করতে পেরেছেন বিএনপির আবুল হোসেন আজাদ (ধানের শীষ), জামায়াতের মোক্তার আলী (দাঁড়িপাল্লা)।
জানতে চাইলে যশোর-২ আসনের বাসদ মনোনীত প্রার্থী ইমরান খান বলেন, ‘দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা ভোটকেন্দ্রে পোলিং এজেন্ট নিয়োগ দিচ্ছি না। ভোটের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার ক্ষেত্রে ভোট গ্রহণ কর্মকর্তার ওপরই আস্থা রাখছি।’

জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন না করার প্রতিবাদ জানিয়ে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির মতবিনিময় সভা মাঝপথে বর্জন (ওয়াকআউট) করেছে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন...
৪ ঘণ্টা আগে
গণভোটে জনগণের দেওয়া ম্যান্ডেট পাশ কাটিয়ে সংসদীয় বিশেষ কমিটির মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য। জুলাই জাতীয় সনদে অন্তর্ভুক্ত এবং গণভোটে অনুমোদিত সাংবিধানিক সংস্কার নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে জোটটি।
৭ ঘণ্টা আগে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) নতুন ছাত্র সংগঠন ‘জাতীয় ছাত্রসভা—ন্যাশনাল স্টুডেন্টস অ্যাসেম্বলি’র প্রস্তুতি কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল শনিবার রাতে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ১৪ সদস্যের এ কমিটি প্রকাশ করা হয়।
৮ ঘণ্টা আগে
জুলাই সনদে সই করা রাজনৈতিক দল ও জোটের নেতাদের সঙ্গে জাতীয় সংসদের সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির বৈঠকে অংশ নেবে না ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। আজ রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) এ বৈঠক বসবে।
১০ ঘণ্টা আগে