Ajker Patrika

‘আপনাদের ভালোবাসা ছাড়া আমি তামিম ইকবাল কিছুই না’

ক্রীড়া ডেস্ক    
আপডেট : ২৫ মার্চ ২০২৫, ১৬: ৪৫
অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি তামিম ইকবাল। ছবি: ফাইল ছবি
অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি তামিম ইকবাল। ছবি: ফাইল ছবি

তামিম ইকবালকে উৎকণ্ঠা গতকাল থেকেই। পরিবার-পরিজন, সতীর্থ থেকে শুরু করে ভক্ত-সমর্থক সবাই চিন্তিত তামিমকে নিয়ে। যে যেভাবে পেরেছেন বাংলাদেশের এই বাঁহাতি ব্যাটারের খোঁজ নিয়েছেন। দুঃসময়ে সকলের এমন ভালোবাসা পেয়ে আবেগী হয়ে উঠেছেন তামিম।

তামিম অসুস্থ হয়ে কেপিজে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরই সামাজিকমাধ্যমে পোস্ট দিয়েছেন সাকিব আল হাসান, মাশরাফি বিন মর্তুজা, লিটন দাস, সৌম্য সরকার, তাসকিন আহমেদরা। লাসিথ মালিঙ্গা, যুবরাজ সিং, হার্শা ভোগলেরাও তামিমকে নিয়ে আবেগী বার্তা দিয়েছেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কর্মকর্তা, সাকিবের মা-বাবা হাসপাতালে গিয়ে দেখা করেছেন তামিমের সঙ্গে। এমনকি কলকাতা নাইট রাইডার্স, করাচি কিংসের মতো বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো তামিমের আরোগ্য কামনা করে পোস্ট করেছে। এগুলো যেন তাঁকে অনেক বেশি মুগ্ধ করেছে। তামিমের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে আজ বিকেলে করা এক পোস্টে বলা হয়েছে,‘আপনাদের সবাইকে জানাই আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা। সবাই আমার জন্য এবং আমার পরিবারের জন্য দোয়া করবেন। আপনাদের ভালোবাসা ছাড়া আমি তামিম ইকবাল কিছুই না।’

শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাবের অধিনায়ক রায়ান রাফসান রহমানের সঙ্গে টস করার সময়ও তামিম ছিলেন সুস্থ। তবে ফিল্ডিংয়ের সময়ই হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করেন তামিম। এমনকি হেলিকপ্টারে ওঠার মতো অবস্থায় ছিলেন না বিকেএসপির কাছাকাছি কেপিজে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এই তারকা ক্রিকেটারকে। হাসপাতালে যাওয়ার সময় অ্যাম্বুলেন্সে মোহামেডানের ট্রেনার ইয়াকুব চৌধুরী ডালিম কৃত্রিমভাবে শ্বাসপ্রশ্বাস চালু রাখতে সিপিআর (কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন) দিয়েছিলেন। সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তামিম লিখেছেন, ‘এই স্পন্দন যে কোন ঘোষণা না দিয়েই থেমে যেতে পারে — এই কথাটি আমরা বার বার ভুলে যাই। গতকাল দিনটি শুরু করার সময় কি আমি জানতাম, আমার সাথে কী হতে যাচ্ছে? আল্লাহতা’আলার অশেষ রহমত আর সকলের দোয়ায় আমি ফিরে এসেছি।’

ডা. মনিরুজ্জামান মারুফের তত্ত্বাবধানে জরুরি ভিত্তিতে গতকাল কেপিজে হাসপাতালে তামিমের এনজিওগ্রাম, এনজিওপ্লাস্টি ও স্টেন্টিং করা হয়। মারুফকে আজ অভিনন্দন জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. মোহাম্মদ আবু জাফর। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের মতে সিপিআর দেওয়া না হলে তামিমের মস্তিষ্কে ব্যাঘাত ঘটার সম্ভাবনা ছিল।

দুর্দিনে তামিম যাঁদের পাশে পেয়েছেন, সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছেন। বাংলাদেশের বাঁহাতি ব্যাটার লিখেছেন, ‘আমার সৌভাগ্য, এই বিপদের সময়ে আমি পাশে কিছু অসাধারণ মানুষকে পেয়েছিলাম, যাদের বিচক্ষণতা ও আপ্রাণ প্রচেষ্টায় আমি এই সংকট কাটিয়ে ফিরে এসেছি। কিছু ঘটনা আমাদের বাস্তবতা মনে করিয়ে দেয়, জানিয়ে দেয় যে জীবন আসলে কতটা ছোট। আর এই ছোট জীবনে আর কিছু করতে না পারি, সবাই যেন একে অপরের বিপদে পাশে দাঁড়ায়— এটিই আমার অনুরোধ।’

তামিমকে আজ সকালে কেপিজে হাসপাতালের সিসিউ থেকে কেবিনে নেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে তামিমের অবস্থা নিয়ে আজ দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ব্রিফ করেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. মোহাম্মদ আবু জাফর বলেন, ‘তাঁর স্বাভাবিক কাজে ফিরতে তিন মাস সময় দিতে হবে। মানে খেলাধুলায়। এছাড়া তিনি বাসায় স্বাভাবিক কাজকর্ম করবেন সপ্তাহখানেক এবং বিশ্রামেই থাকতে হবে। তিন মাস পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। তাঁর শারীরিক অবস্থা কী, উন্নতি হচ্ছে নাকি অবনতি হচ্ছে, এগুলো দেখে নিশ্চয়ই মেডিকেল বোর্ড অনুমতি দেবে তামিমকে মাঠে খেলার।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত