Ajker Patrika

মেলাজুড়ে জুলাইয়ের আবহ

শরীফ নাসরুল্লাহ, ঢাকা
স্টলে দাঁড়িয়ে প্রিয় লেখকের বই পড়ছে এক খুদে পাঠক। গতকাল অমর একুশে বইমেলা প্রাঙ্গণে। ছবি: আজকের পত্রিকা
স্টলে দাঁড়িয়ে প্রিয় লেখকের বই পড়ছে এক খুদে পাঠক। গতকাল অমর একুশে বইমেলা প্রাঙ্গণে। ছবি: আজকের পত্রিকা

‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান: নতুন বাংলাদেশ নির্মাণ’ এবারের বইমেলার মূল প্রতিপাদ্য। এই বিষয়ের প্রকাশনার প্রাধান্যের পাশাপাশি মেলা প্রাঙ্গণের সাজসজ্জায়ও যেন অভ্যুত্থানের আবহ। রাস্তার পাশে, মেলার ভেতরে দেখবেন জুলাই অভ্যুত্থানের নানা পোস্টার। আছে ‘জুলাই চত্বর’ আর ছবি তোলার জন্য ‘৩৬ জুলাই বুথ’। জুলাই অভ্যুত্থান নিয়ে প্রকাশনার সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। দিনলিপি, কবিতা, উপন্যাস ছাড়াও বেরিয়েছে নজরকাড়া, ভাবনা জাগানো বর্ণিল গ্রাফিতি নিয়ে অ্যালবাম।

গণ-অভ্যুত্থানকালীন ৩৬ দিনের ডায়েরি নিয়ে ‘জুলাইয়ের দিনলিপি’ লিখেছেন মো. মেহেদী হাসান। চিলেকোঠা প্রকাশিত বইটির পৃষ্ঠাগুলো ডায়েরির মতোই রুল টানা নকশার। এতে ছাপা হয়েছে দিন-তারিখ ধরে লেখকের অভিজ্ঞতার কথা। আছে ঘটনাসংশ্লিষ্ট ছবিও।

জুলাই আন্দোলনকে উপজীব্য করে লেখা ইসমাইল হোসেন ইসমীর থ্রিলার ‘দূরের আলো’ বের হয়েছে নালন্দা থেকে।

২০২৪-এর আগস্ট এবং ২০১৩ সালের হেফাজতে ইসলামের আন্দোলন ও পরের বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার হত্যাসহ নানা ঘটনা নিয়ে লেখা ‘জুলাই ৩৬’ উপন্যাস বের করেছে দাঁড়িকমা। লিখেছেন মোহাম্মদ শিবলু।

জুলাই আন্দোলনসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর আরও কিছু কবিতা নিয়ে সাজানো হয়েছে ‘কোটা থেকে স্বাধীনতা’ কাব্যগ্রন্থটি। মো. জাহিদ রানার লেখা বইটি পাওয়া যাবে দাঁড়িকমায়।

জুলাই অভ্যুত্থানের দিনগুলোর সাক্ষী হয়ে আছে দেশজুড়ে অসংখ্য দেয়াল। দেয়ালে দেয়ালে আঁকা জুলাইয়ের গ্রাফিতিগুলো নিয়ে বের হয়েছে ‘দ্রোহের গ্রাফিতি চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান’। এটি গ্রন্থনা করেছেন জি এম রাজিব হোসেন। পাওয়া যাবে অনন্যার প্যাভিলিয়নে।

জুলাই নিয়ে বেশ কয়েকটি বই বের করেছে ঐতিহ্য প্রকাশনী। এর মধ্যে রয়েছে ড. আহমদ আরমান সিদ্দিকীর ‘৩৬ জুলাই ২০২৪’, জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের নিয়ে ফরিদ উদ্দিন রনির লেখা বই ‘আত্মনিবেদন’, গল্পের বই মঈন শেখের ‘জুলাইয়ের অশেষ পাখিরা’, কবিতা সংকলন ‘রক্তলাল’, অনুপম দেবাশীষ রায়ের ‘বিদ্রোহ থেকে বিপ্লব’, হাসান রোবায়েতের কবিতার বই ‘আমরা কথা বলি কেননা নীরবতা ফ্যাসিস্টের ভাষা’।

ঐতিহ্য প্রকাশনীর বিক্রয়কর্মী মোস্তাক খান বললেন, ‘জুলাইয়ের বই ভালোই কিনছে পাঠক।’

জুলাই আন্দোলনে সংবাদপত্রের ভূমিকা দেখা যাবে ‘সংবাদপত্রে জুলাই অভ্যুত্থান’ বইটিতে। ২৫টি শীর্ষ দৈনিকের প্রথম পৃষ্ঠা নিয়ে বইটি সংকলন করেছেন আহম্মদ ফয়েজ। চলচ্চিত্র বিশেষজ্ঞ ও অ্যাকটিভিস্ট ফাহমিদুল হক জুলাই অভ্যুত্থান নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা লিখেছেন দিনলিপি আকারে। নাম ‘জুলাই জাগরণের দিনলিপি’। বই দুটি পাওয়া যাবে আদর্শ প্যাভিলিয়নে। প্রতিষ্ঠানের বিক্রয়কর্মী জানান, বই দুটি তাঁদের সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়ার তালিকায় রয়েছে। জুলাই-আগস্টের ‘না জানা গল্প’ নিয়ে আশীফ এন্তাজ রবি লিখেছেন উপন্যাস ‘ট্রেন টু ঢাকা’। পাওয়া যাবে জ্ঞানকোষ প্যাভিলিয়নে। শহীদদের আত্মীয় বন্ধুদের বয়ান নিয়ে বই ‘লেখা আছে অশ্রুজলে’। সংগ্রহ, সংকলন ও সম্পাদনায় মুনা হাফসা ও ছন্দা মাহবুব। পাওয়া যাবে উজানের স্টলে।

বই ছাড়াও মেলায় জুলাইকেন্দ্রিক নানা স্টল চোখে পড়ে। মন্দিরের ফটক দিয়ে ঢুকেই বাঁ পাশে আছে ‘৩৬ জুলাই’ নামে বুথ। আন্দোলনের নানা গ্রাফিতি দিয়ে সাজানো স্টলটি তৈরি করা হয়েছে পাঠকদের ছবি তোলার জন্য।

মেলার বাংলা একাডেমি অংশেও দেখা গেল, জুলাই বিপ্লব পরিষদের স্টল। সংগঠনটি বাংলাদেশব্যাপী কাজ করছে জুলাই নিয়ে। ঢাকার যাত্রাবাড়ীর শহীদদের নামের তালিকা সাঁটানো স্টলজুড়ে। এখানে আছে জুলাই নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রকাশনীর বই।

শিল্পকলা একাডেমির প্রযোজনা বিভাগের ব্যবস্থাপনায় করা হয়েছে দেবাশিস চক্রবর্তীর ‘পোস্টারে জুলাই অভ্যুত্থান’ শীর্ষক পোস্টার প্রদর্শনী।

ইনকিলাব মঞ্চ বের করেছে জুলাই অভ্যুত্থান নিয়ে বিভিন্ন স্মারক। এর মধ্যে রয়েছে ছোট শিল্পকর্ম, চা-কফির মগ, চাবির রিং, কলম, পোস্টার, চাদর ইত্যাদি।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনেরও স্টল রয়েছে মেলায়। তারা বিভিন্ন প্রকাশনী থেকে জুলাই বিষয়ে প্রকাশিত বই বিক্রি করছে। এ ছাড়া রয়েছে জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের স্টল।

আয়োজন

মেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘বেলাশেষের শহীদ কাদরী’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন তারানা নূপুর। আলোচনায় অংশ নেন শামস আল মমীন ও আহমাদ মাযহার। সভাপতিত্ব করেন হাসান হাফিজ।

তারানা নূপুর বলেন, ‘বাংলা কবিতায় শহীদ কাদরী সমকালতাড়িত, সংবেদনশাসিত, স্বল্পপ্রজ এবং সত্য সন্ধিৎসু একজন কবি। সমকাল ও চলমান বাস্তবতার মধ্যে নিজের অস্তিত্ব ও কথামালাই তাঁর কবিতার বিষয়।’

সভাপতির বক্তব্যে হাসান হাফিজ বলেন, বাংলা সাহিত্যের উজ্জ্বল ও প্রতিভাবান কবি শহীদ কাদরী স্বতন্ত্র কাব্যভাষা নির্মাণের ক্ষেত্রে একজন পথিকৃতের ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁর কবিতার বিষয় ও আঙ্গিক উভয়ই সমান গুরুত্বপূর্ণ।

লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন কবি হাসান হাফিজ ও গবেষক খান মাহবুব। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ করেন কবি মো. ফজলুল হক ও আশিকুল কাদির। গতকাল ছিল মো. মিজানুর রহমানের পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা’ এবং সবুজ শামীম আহসানের পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘কৃষ্টিবন্ধন’-এর পরিবেশনা। সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী নোশিন তাবাসসুম স্বরণ, মো. মমিনুল ইসলাম, মনিরুল ইসলাম, মো. আলতাফ হোসেন, রুশিয়া খানম ও আজিজুল হক খান।

মেলায় গতকাল নতুন বই এসেছে ৭৯টি। মোট বই এসেছে ১ হাজার ৭২৩টি।

আজ বুধবার বিকেলে বইমেলার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে ‘জন্মশতবর্ষ: রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন জুলফিকার শাহাদাৎ। আলোচনায় অংশ নেবেন শাহাবুদ্দীন নাগরী। সভাপতিত্ব করবেন সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত