Ajker Patrika

অভিযানের নামে রাজউকসহ সংস্থাগুলো চাঁদাবাজি করছে: রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
অভিযানের নামে রাজউকসহ সংস্থাগুলো চাঁদাবাজি করছে: রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি

রাজধানীর বেইলি রোডের গ্রিন কোজি ভবনে অগ্নিকাণ্ডের পর রাজউকসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো রাজধানীর রেস্তোরাঁগুলোতে চাঁদাবাজি করছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান। অবিলম্বে এই চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে অনির্দিষ্টকালের জন্য দেশের সকল রেস্তোরাঁ বন্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। 

আজ মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে সরকারি বিভিন্ন সংস্থা কর্তৃক অভিযানের নামে রেস্তোরাঁ সেক্টরে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টির প্রতিবাদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন তিনি। 

সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে ইমরান হাসান বলেন, বেইলি রোডের ঘটনার পর সকল সরকারি সংস্থাগুলো চাঁদাবাজি শুরু করেছে। মালিকদের হুমকি ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। কিছুদিন আগে পুলিশের এসআই পর্যন্ত রেস্তোরাঁয় গিয়ে চাঁদাবাজি করেছে। সকল সংস্থার লোকেরাই চাঁদাবাজি করছে। 

রাজউকের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আজকে রাজউকের ভুলের কারণে রাজধানী জঞ্জাল হয়ে গেছে। তাদের পরিকল্পনায় ভুল। রাজউকের ভুলের দায় আমরা কেন নেব?’ 

ইতিমধ্যে ২২০–২৩০টি রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানান ইমরান। তিনি আরও বলেন, অনেক রেস্তোরাঁয় বিদ্যুৎ এবং পানির লাইসেন্স আছে। এত দিন তাদের কাছ থেকে এসবের বিল নিলেন, এখন এসব রেস্তোরাঁও অবৈধ বলে সব বন্ধ করে দিচ্ছে। এ সময় তিনি রেস্তোরাঁ শিল্পের সংকটগুলোর স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে উচ্চ পর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠনের আহ্বান জানান। 

সংবাদ সম্মেলনে রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীদের ওপর অন্যায় চাঁদাবাজি ও হয়রানি বন্ধের আহ্বান জানান সংগঠনের নেতারা। অন্যথায় অনির্দিষ্টকালের জন্য সকল রেস্তোরাঁ বন্ধের হুঁশিয়ারি দেন তিনি। 

ইমরান হাসান বলেন, রমজান মাসে সিলগালা নাটক বন্ধ করুন। অন্যথায় আগামী বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করব। তাও দাবি মানা না হলে ১ দিনের জন্য সারা বাংলাদেশে রেস্তোরাঁ সমূহ বন্ধের কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে, প্রয়োজন হলে পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে অনির্দিষ্টকালের জন্য সকল রেস্তোরাঁসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হবে। 

সংবাদ সম্মেলনে নবাবী ভোজের স্বত্বাধিকারী কামরুল হাসান চৌধুরী বলেন, ‘আমার প্রত্যেকটি সংস্থার কাগজ রয়েছে। অথচ আমাকে এক মিনিটও সুযোগ না দিয়ে আমার বেইলি রোডের প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছে। আমরা সৎ ভাবে ব্যবসা করতে চাই কিন্তু সরকারি সংস্থার জন্য আমরা তা পারি না।’ 

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি হাজী ওসমান গনি বলেন, সাধারণ মানুষ যাতে রেস্তোরাঁ ব্যবসা করতে না পারে সরকার তাই চাচ্ছে। মানুষের পাঁচটি মৌলিক অধিকারের প্রথম হচ্ছে অন্ন। বর্তমানে দেশে খাওয়া নিয়ে ছিনিমিনি চলছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত