Ajker Patrika

লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে রোগীর খাবারের জন্য স্বজনদের বিক্ষোভ

লালমনিরহাট প্রতিনিধি 
লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে রোগীর খাবারের জন্য স্বজনদের বিক্ষোভ
লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে রোগীর খাবারের জন্য স্বজনদের বিক্ষোভ। ছবি: আজকের পত্রিকা

লালমনিরহাট ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে রোগীর খাবার না পেয়ে বিক্ষোভ করেছেন স্বজনেরা ও স্থানীয়রা। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে এই ঘটনা ঘটে। পরে বিকেল ৩টার দিকে তড়িঘড়ি করে খাবার সংগ্রহ করে রোগীদের মাঝে বিতরণ করেছেন ঠিকাদারের লোকজন।

বিক্ষুব্ধ রোগীর স্বজনেরা বলেন, লালমনিরহাট সদর হাসপাতাল ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে বহির্বিভাগ ও আন্তবিভাগীয় চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন রোগীরা। হাসপাতালের আন্তবিভাগীয় ভর্তি করা রোগীরা সরকারিভাবে বিনা মূল্যে সকালে নাশতা, দুপুর ও রাতে খাবার পেয়ে থাকেন। রোগীদের খাবার পরিবেশনের জন্য পথ্যের ঠিকাদার নিয়োগ করে কর্তৃপক্ষ। ঠিকাদের কাছ থেকে খাবার বুঝে নেওয়ার দায়িত্বে থাকেন ডায়েট ক্লার্ক ও আবাসিক মেডিকেল অফিসার।

আজ দুপুরের খাবার ১২টা থেকে বেলা ১টার মধ্যে পরিবেশন করার নিয়ম থাকলেও হাসপাতালে মানা হয় না কোনো নিয়ম। ঠিকাদার ইচ্ছামতো সময়ে ও পরিমাণে খাবার বিতরণ করেন। পথ্যের অনিয়ম দীর্ঘদিনের হলেও নীরব কর্তৃপক্ষ। খাবারের মান খুব খারাপ বলে অভিযোগ রোগী ও তাঁদের স্বজনদের। তাঁরা জানান, অনেক রোগী হাসপাতালের খাবার না পেয়ে বাইরে থেকে খাবার কিনে এনে খান। যতগুলো রোগী ভর্তি থাকেন, তাঁদের প্রত্যেককে খাবার দেওয়ার নিয়ম থাকলেও অনেক সময় রোগীরা খাবার পায় না।

রোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আজ বেলা দেড়টার সময় খাবার দেওয়ার কথা থাকলেও খাবার দেওয়া হয় বিকেল ৩টায়। যার মধ্যে বেশ কয়েকজন রোগী খাবার পাননি। খাবার শেষ বলে জানালে যেসব রোগী খাবার পাননি তাঁদের স্বজনেরা হাসপাতাল চত্বরে খাবারের জন্য বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এ সময় ঠিকাদারের লোকজন তড়িঘড়ি করে বাইরে থেকে খাবার কিনে এনে রোগীদের মাঝে পরিবেশন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। একই দিন অনেক ভর্তি রোগী সকালের নাশতাও পাননি বলে রোগীদের অভিযোগ।

রোগী আমেনা বেওয়ার স্বজন জয়নুদ্দিন জেহাদি বলেন, খাবার কয়েকজন রোগীকে দেওয়ার পরে বলে যে খাবার শেষ। শুধু কি তাই টাকা ছাড়া হাসপাতালে বেড পাওয়া যায় না। ১০০ টাকা ঘুষ দিয়েও শতবর্ষী রোগীর জন্য একটা বেড মেলাতে পারিনি। হাসপাতালের নোংরা পরিবেশে বসে খাবার খাওয়া যায় না। চারদিকে শুধু দুর্গন্ধ ছড়িয়ে থাকে। হাতপালের টয়লেটের অবস্থা খুবই খারাপ। সব সময় ময়লা পানি জমে থাকে।

লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের বাবুর্চি ফিরোজ আহমেদ বলেন, আজ ঠিকাদার বাজার করে দিতে বিলম্ব করায় রান্নার কাজ করতে দেরি হয়েছে। ফলে রোগীদের খাবার দিতে বিলম্ব হয়েছে।

লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার সামিনা খাতুন বলেন, হাসপাতালের চতুর্থ তলায় ১১০ জন ভর্তি রোগীর মধ্যে ৮৪ জন রোগীর দুপুরের খাবার সময় মতো বুঝে পায়। বাকি রোগীদের খাবার বিকেল ৩টার দিকে ঠিকাদারের লোকজন এসে দিয়ে দিয়ে গেছে। রোগীদের খাবার পরিবেশনে কেন বিলম্ব হলো তদন্ত করে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত