ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়ে দুশ্চিন্তায় এক কেন্দ্রের ২২৬ পরীক্ষার্থী

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৮ আগস্ট ২০২৩, ০০: ৩২

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে অনিয়মিত প্রশ্নে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। এখন পাস নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় ওই পরীক্ষা কেন্দ্রের ২২৬ পরীক্ষার্থী। উপজেলার ধুমাইটারী সিদ্দিকিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসা পরীক্ষা কেন্দ্রে এমন ঘটনা ঘটেছে।

রোববার (২৭ আগস্ট) আলিম পরীক্ষার প্রথম দিনে ইংরেজি প্রথম পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলার একমাত্র আলিম পরীক্ষা কেন্দ্র ধুমাইটারী সিদ্দিকিয়া ফাজিল মাদ্রাসা। সারা দেশের মতো এ কেন্দ্রেও যথারীতি সকাল ১০টায় ইংরেজি প্রথম পত্রের পরীক্ষা শুরু হয়। এ কেন্দ্রে উপজেলার চার মাদ্রাসার ২৩৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেওয়ার কথা ছিল। তবে অনুপস্থিত থাকে ৮ জন। বাকি ২২৬ পরীক্ষার্থীই নিয়মিত। কিন্তু তাদের দেওয়া হয় অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্র। বিষয়টি নজরে পড়ে পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর। 

এ কেন্দ্রের পরীক্ষার্থী মো. শাহিন মিয়া বলে, ‘আজ প্রথম পরীক্ষা ছিল। আমরা প্রশ্নপত্র পেয়ে পরীক্ষা দিয়েছি। প্রশ্নপত্রে যে ইরেগুলার লেখা ছিল তা খেয়াল করিনি। পরীক্ষা শেষে বিষয়টি নজরে আসলে শিক্ষকদের বলেছি। তাঁরা দুশ্চিন্তা করতে নিষেধ করেছেন।’ আরও দুই পরীক্ষার্থীও একই কথা বলে। তারা এ নিয়ে এখন দুশ্চিন্তায় আছে। 

এ বিষয়ে জানতে পরীক্ষা কেন্দ্রে দায়িত্বরত কেন্দ্র সচিব ও মাদ্রাসার অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) কেওয়াইএম আব্দুল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁকে কোনোভাবেই পাওয়া যায়নি। 

কেন্দ্রের নিয়োজিত ট্যাগ অফিসার ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. জাফর আহমেদ লস্কর বলেন, ‘পরীক্ষা চলাকালীন কেউ বিষয়টি আমাকে জানায়নি। যদি ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নিয়ে থাকে এ দায় আমার নয়। এর দায়-দায়িত্ব কেন্দ্র সচিবের।’ 

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবদুল মমিন মণ্ডল বলেন, ‘বোর্ড চাইলে এই প্রশ্নপত্রের আলোকে খাতা দেখার নির্দেশ দিতে পারে। তখন পরীক্ষার্থীদের ফলাফল আসবে হয়তোবা।’ 

এই পরীক্ষার্থীদের এখন কী হবে জানতে চাইলে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ-নূর-এ আলম বলেন, ‘এর পুরো দায় কেন্দ্র সচিবের ওপর বর্তায়। কেন্দ্র সচিবের সঙ্গে এখনো দেখা হয়নি। ওনাকে ডেকেছি, উনি আসলে বিস্তারিত জানতে পারব।’ 

বিষয়ে নিয়ে জানতে যোগাযোগ করা হয় বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক কায়সার আহমেদের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি অনিয়ম। এর দায় কেন্দ্র সচিবের। ইউএনওকে আমি বলেছি পুরো বিষয় জেনে আমাকে বিস্তারিত জানাতে। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ বিষয়টি প্রমাণিত হলে কেন্দ্র সচিবকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে বলেও জানান বোর্ড চেয়ারম্যান।

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
খুঁজুন

সম্পর্কিত