Ajker Patrika

খেলার মাঠ যেন জলাশয়

টঙ্গিবাড়ী (মুন্সিগঞ্জ) প্রতিনিধি
আপডেট : ২৩ মার্চ ২০২২, ১৫: ২০
খেলার মাঠ যেন জলাশয়

মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার পুরা ডিসি (দুর্গাচরণ) উচ্চবিদ্যালয়ের খেলার মাঠ জলাশয়ে পরিণত হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী এই মাঠে প্রতিবছর জমজমাট বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হতো। পাশাপাশি স্থানীয়দেরও খেলাধুলার অন্যতম কেন্দ্র ছিল মাঠটি। কয়েক বছর ধরে মাঠটি ডুবে থাকায় সেই চিত্র আর দেখা যায় না। খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়রা।

গতকাল মঙ্গলবার গিয়ে দেখা যায়, চার বছর আগে মাঠের চারপাশে বাঁধ দিয়ে উঁচু করে রাখলেও ভরাট কাজ করা হচ্ছে না। সেখানে এখন ঘাস জন্মে আছে। মাঠের পাশের সড়কটিতে পানি অপসারণের জন্য একটি ছোট কালভার্ট রয়েছে। কিন্তু সেটি বন্ধ থাকায় পানি সরতে পারছে না। কর্তৃপক্ষের অবহেলায় খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

স্থানীয়রা বলেন, বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৩৩ সালে। এই মাঠে প্রতিদিন ক্রিকেট, ফুটবল খেলায় মজে থাকত পাড়ামহল্লার কিশোর, যুবক এমনকি বৃদ্ধরাও। সকাল থেকে রাত অবধি এই মাঠে খেলোয়াড়দের আনাগোনা হইহুল্লোড় দেখা যেত। বিকেল হলেই কিশোর থেকে শুরু করে যুবক ও বয়স্কদের দেখা যেত ফুটবল খেলার আসর জমাতে। মাঠের রাস্তায় ভিড় জমিয়ে খেলা উপভোগ করতেন দর্শনার্থীরা। প্রতিদিন খেলার মাঠের চারপাশে বসত বিভিন্ন রকমের ভাসমান দোকান। সেই মাঠ কয়েক বছর ধরে অবহেলা-অযত্নে পড়ে আছে। মাঠটি মূল রাস্তা থেকে সাত-আট ফুট নিচু হওয়ায় বর্ষার পানিতে ডুবে যেত, তাই রাস্তার সমান ভরাট করার জন্য চারপাশ বেঁধে রাখলেও এর সংস্কারকাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে না। স্থানীয় ও শিক্ষার্থীদের দাবি মাঠের পানি অন্যত্র সরিয়ে অন্তত আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে পারলে শিক্ষার্থীরা বিনোদনের জন্য মাঠটি ফিরে পেতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দা সুমন মৃধা বলেন, ‘আমরা যখন বিদ্যালয়টিতে লেখাপড়া করতাম, তখন এই মাঠটি সকাল-সন্ধ্যা সরগরম থাকত। পড়ার ফাঁকে যে সময়টুকু পেতাম, এই মাঠে খেলাধুলা করতাম। কিন্তু বর্তমান খেলাধুলার জায়গা না থাকায় ছেলে-মেয়েরা মোবাইল ফোনে বেশি আসক্ত হচ্ছে; যা তাঁদের মেধা বিকাশে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র শান্ত হালদার জানান, স্কুলের মাঠে প্রতি বৃহস্পতিবার ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে খেলার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হতো। ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে টিম গঠন করে খেলার আয়োজন করা হতো। কয়েক বছর ধরে সেই আনন্দ উপভোগ করতে পারছে না শিক্ষার্থীরা।

যশলং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইসমাঈল হোসেন বাবু খান বলেন, স্কুল কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন কমিটি গঠন হয়নি। নতুন কমিটি গঠন করা হলে মাঠের কাজ ধরা হবে। বর্তমানে তিন সদস্যের অ্যাডহক কমিটির মাধ্যমে স্কুলের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

পুরা ডিসি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. কামরুল ইসলাম জানান, মাঠের চারপাশ বাঁধাই করা হয়েছে, মাঠটি ভরে রাস্তা পরিমাণ উঁচু করা হবে, যাতে করে সারা বছর স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী খেলাধুলা করতে পারে। কিছুদিনের মধ্যে স্কুলের নতুন কমিটি গঠন করা হবে, কমিটি গঠন করার পর খেলার মাঠের কাজ শুরু হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খালেদা পারভীন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘স্কুলের কমিটি না থাকায় মাঠের ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।’ নতুন কমিটি হওয়ার আগ পর্যন্ত মাঠের কোনো কাজ করা সম্ভব হবে না বলে জানান তিনি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এখন টিভির ঘটনা সমঝোতার চেষ্টা করবেন তথ্যমন্ত্রী

ড. ইউনূস এখন কোথায় আছেন, নতুন প্রধানমন্ত্রী উঠবেন কোথায়?

২৬ ফেব্রুয়ারি বসতে পারে সংসদের প্রথম অধিবেশন, সভাপতিত্ব করবেন কে

বৈধ সুবিধাকে অস্বীকার করে জনগণের সামনে সাধু সাজা হচ্ছে: নাহিদ ইসলাম

প্রধানমন্ত্রীর গবেষণা কর্মকর্তা হলেন আবদুস সাত্তার পাটোয়ারী

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত