ইডির দাবি, আবগারি দুর্নীতির মূল হোতা কেজরিওয়াল, ৭ দিনের রিমান্ড

অনলাইন ডেস্ক
আপডেট : ২২ মার্চ ২০২৪, ২৩: ৪৬
Thumbnail image

দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর আজ শুক্রবার সাত দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে ভারতীয় একটি আদালত। আম আদমি পার্টির এই নেতাকে গতকাল বৃহস্পতিবার ভারতের আর্থিক অপরাধ তদন্ত সংস্থা আটক করেছে। 

এ বিষয়ে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কেজরিওয়াল। আর ভারতের বিরোধীদলীয় নেতারা এই গ্রেপ্তারকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আখ্যা দিয়েছে। ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল বলছে—কর্তৃপক্ষ দুর্নীতির বিরুদ্ধে কাজ করছে। 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আজ শুক্রবার বিকেলে কেজরিওয়ালকে দিল্লির বিচারিক আদালতে হাজির করা হয়। সেখানেই তাঁর রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন বিচারকেরা। 

আজ আদালতে ইডি দাবি করে, আবগারি দুর্নীতির মূল হোতা কেজরিওয়াল। অর্থ তছরুপ প্রতিরোধ আইনের নির্দিষ্ট ধারা মেনেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীকে। 

অরবিন্দ কেজরিওয়ালের জামিনের বিরোধিতা করে ইডি বলে, অপরাধে সরাসরি যুক্ত ছিলেন কেজরিওয়াল। আবগারি দুর্নীতির টাকা গোয়ার নির্বাচনে কাজে লাগিয়েছিল আপ। 

কেজরিওয়ালকে আটকের ঘটনায় তাঁর আইনজীবী শাদান ফারসাত বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, ‘আমরা আমাদের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে ভাবছি।’ 

কেজরিওয়ালকে গ্রেপ্তারের পর এর প্রতিবাদ জানিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ শুরু করেছে আম আদমি দলের নেতা-কর্মীরা। পাল্টা অ্যাকশনে যাচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনীগুলোও। ইতিমধ্যে দিল্লিতে আম আদমির কয়েক ডজন নেতাকে আটক করা হয়েছে। 

এ অবস্থায় আম আদমি দল ঘোষণা করেছে, তারা তাদের বিক্ষোভ চালিয়ে যাবে। দলের নেতা এবং দিল্লির অর্থমন্ত্রী অতীশি বলেছেন, ‘কেজরিওয়ালকে সাধারণ নির্বাচনের প্রচারণা থেকে বিরত রাখতেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’ এই গ্রেপ্তারকে নির্বাচনে জালিয়াতির একটি পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন অতীশি। 

কেজরিওয়ালের নেতৃত্বাধীন আম আদমি পার্টি আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ করা ২৭টি বিরোধী দলের একটি। আগামী মাসেই এই নির্বাচন অনুষ্ঠান শুরু হবে। এই জোটের প্রধান দল কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধী কেজরিওয়ালের গ্রেপ্তারের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ইঙ্গিত করে অ্যাক্সে একটি টুইট করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘একজন ভীত একনায়ক একটি মৃত গণতন্ত্র তৈরি করতে চান।’ 

নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রীদের গ্রেপ্তার করার মতো ঘটনা একটি ডালভাতে পরিণত করেছে সরকার—এমনটাই অভিযোগ করেছেন রাহুল। 

বিরোধী জোটের সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব মত দিয়েছেন—কেজরিওয়ালের গ্রেপ্তার একটি নতুন গণবিপ্লবের জন্ম দেবে। এক টুইটে যাদব বলেছেন, ‘বিজেপি জানে যে, তারা আর ক্ষমতায় আসবে না। এই ভয়ের কারণে তারা নির্বাচনের সময় যে কোনো উপায়ে বিরোধী নেতাদের জনগণের কাছ থেকে সরিয়ে দিতে চায়। গ্রেপ্তার কেবল একটি অজুহাত।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত