Ajker Patrika

‘ঘুমিয়ে যদি প্রেসিডেন্ট হওয়া যায়, তবে ঘুমই ভালো’

আমিনুল ইসলাম নাবিল
আপডেট : ০৩ নভেম্বর ২০২১, ১৯: ৪৮
‘ঘুমিয়ে যদি প্রেসিডেন্ট হওয়া যায়, তবে ঘুমই ভালো’

প্রখর রোদ কিংবা ঝুম বৃষ্টি কিংবা কনকনে হিমেল হাওয়া—কোনো কিছুই যেন বাধা হয়ে দাঁড়ায় না একজন ঘুমকাতুরের জীবনে। বরং সকল অনুকূল ও প্রতিকূল প্রতিবেশে ঘুমের জয়গান গেয়ে যান তাঁরা। কখনো কখনো সেই গান গাইতে গাইতে বিজ্ঞানের প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষার মতো ঘুমিয়ে দেখিয়েও দেন! ঘড়ির কাঁটায় দুপুর ১২টা কিংবা সন্ধ্যা ৬টা যেকোনো সময় যেকোনো পরিস্থিতিতেই ঘুমিয়ে পড়ার বৈশিষ্ট্যের অধিকারী এ জাতীয় মানুষ। এ যেন এক বিরল প্রতিভা। 

তবে ঘুম নিয়ে বিড়ম্বনাও কম নয়। একজন ঘুমকাতুরে জীবনে অনেক কিছুই মিস করে ফেলেন। তিনি চাইলেও ঠিক সময়ে পরীক্ষার হলে পৌঁছাতে পারেন না। হরহামেশাই অফিসে দেরি হওয়ায় আটকে যায় পদোন্নতি, শুনতে হয় বসের খোঁটা। সবচেয়ে বড় বিষয় একজন ঘুমকাতুরে মানবসন্তান জীবনের বড় একটা সময় পাড় করেন বকা শুনে। এই যেমন-ঘুম থেকে উঠেই মা-বাবার বকাঝকা—‘তোমাকে দিয়ে কিচ্ছু হবে না’। শিক্ষকের বাণী, ‘এমন দেরি করলে পরীক্ষায় গোল্লা পাবা’। আর অফিসের বসের কথা তো স্রেফ বুকে গিয়ে লাগে, ‘হয় চাকরি করুন না হয় ঘুমিয়ে জীবন পাড় করুন’। 

এত সব সুখ আর প্যারার মধ্যে এবার ঘুমকাতুরেদের জন্য মোটিভেশন নিয়ে হাজির হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। গত সোমবার গ্লাসগো কপ ২৬ জলবায়ু সম্মেলনে উদ্বোধনী বক্তব্য চলাকালে তিনি দুই দফায় ঘুমিয়েছেন। জো বাইডেনের ঘুমিয়ে পড়ার ভিডিও নিমেষেই ভাইরাল হয়েছে গোটা বিশ্বে। ঘুমকাতুরেরা অবশ্য এটিকে দেখছেন ইতিবাচক হিসেবেই। তাঁদের মনে বিরাজ করছে চাপা আনন্দ। বাইডেনের ঘুম থেকে মোটিভেশন পেয়ে তাঁদের ঠোঁটের ডগায় চলে আসছে এমন বক্তব্য—‘বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশের প্রেসিডেন্ট যদি বক্তব্য চলাকালে ঘুমাতে পারেন, তাহলে আমি ঘুমালেই কেন এত সমস্যা?’ 

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে কেউ কেউ বলছেন, জীবনে সফল হতে চাইলে বেশি বেশি ঘুমাও। আবার কেউ আরেক ধাপ এগিয়ে বলতে চাইছেন, ‘ঘুমিয়ে যদি প্রেসিডেন্ট হওয়া যায়, তবে ঘুমই ভালো’। 

জো বাইডেনকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে এরই মধ্যে ‘ঘুমকাতুরে সংঘ’ নামের ফেসবুক গ্রুপ খোলা হয়েছে বলে গোপন সূত্রে খবর পাওয়া গেছে। বাজারে জোর গুঞ্জন, এই গ্রুপের সদস্যরা নাকি কোনো কিছুর পরোয়া না করে যখন–তখন ঘুমিয়ে পড়া এবং সেই ঘুমের দৈর্ঘ্য ম্যারাথন দৌড়ের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার ‘মিশন’ নিয়েছেন। সেই গ্রুপে দেওয়া এক পোস্টে নাকি লেখা হয়েছে, ‘এসো সবাই দলে দলে, ঘুমের ছায়াতলে’।  

উল্লেখ্য, শুধু বাইডেন নয় এ দেশের স্থানীয় অঙ্গনেও অনুষ্ঠান চলাকালে ঘুমিয়ে পড়ার নজির আছে। বেশ কিছু বছর আগে বাংলাদেশের একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদ স্টেজেই ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। এ ছাড়া ২০১৯ বিশ্বকাপ টুর্নামেন্টে পাকিস্তান ক্রিকেট দলের অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদের খেলা চলার সময় মাঠেই হাই তোলার ভিডিও এখন নতুন করে শেয়ার করছেন অনেকেই। 

মোদ্দা কথা, ঘুমকাতুরেদের আত্মপক্ষ সমর্থনের জোয়ার উঠেছে। তাঁদের একটাই দাবি, সফল হতে চাইলে ঘুমাতে হবে, প্রচুর ঘুমাতে হবে। আর এ জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ সৃষ্টি এখন সময়ের দাবি!

আরও পড়ুন:

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এখন টিভির ঘটনা সমঝোতার চেষ্টা করবেন তথ্যমন্ত্রী

ড. ইউনূস এখন কোথায় আছেন, নতুন প্রধানমন্ত্রী উঠবেন কোথায়?

২৬ ফেব্রুয়ারি বসতে পারে সংসদের প্রথম অধিবেশন, সভাপতিত্ব করবেন কে

বৈধ সুবিধাকে অস্বীকার করে জনগণের সামনে সাধু সাজা হচ্ছে: নাহিদ ইসলাম

প্রধানমন্ত্রীর গবেষণা কর্মকর্তা হলেন আবদুস সাত্তার পাটোয়ারী

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত