Ajker Patrika

অগ্নিঝুঁকি কমাতে সংস্থাগুলো মিলে অভিন্ন গাইডলাইন করতে হবে: মেয়র আতিক

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০২৪, ২০: ৫৭
Thumbnail image

ভবনে অগ্নিঝুঁকি কমাতে ও প্রয়োজনীয় লাইসেন্স প্রদানে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর অভিন্ন গাইডলাইনের কথা জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘সংস্থাগুলো মিলে একটা গাইডলাইন করতে হবে। ডিএনসিসি, ফায়ার সার্ভিস ও রাজউকের আলাদা আলাদা গাইডলাইন থাকলে ভবন মালিকেরা দিশেহারা হয়ে যাবে। তখন তাঁরা ম্যানেজ করে চলতে চেষ্টা করবে।’ 

আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে ‘অগ্নি প্রতিরোধ ও নিরাপত্তা: আমাদের সম্প্রদায়ের সুরক্ষা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকের আয়োজন করে গুলশান সোসাইটি, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ও রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। 

মেয়র আতিক বলেন, ‘একটা যখন সমন্বিত গাইডলাইন হবে তখন সবকিছু সহজ হয়ে যাবে। না হলে দেখা যাবে আকাশে যত তারা, বিভিন্ন সংস্থার লাইসেন্স দিতে তত ধারা। এটার মধ্যে সিটি করপোরেশনও রয়েছে। আমাদের চেষ্টা থাকবে মানুষ যাতে দ্রুত ভবন ঝুঁকিমুক্ত করতে পারে।’ 

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাইন উদ্দিন বলেন, ‘তিনটি কারণে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা বেশি ঘটছে। কারণগুলো হচ্ছে বিদ্যুতের শর্টসার্কিট, গ্যাস লিগেজ ও ধূমপান। আমরা কাজ করছি। তবে কমসংখ্যক লোকবল দিয়ে অগ্নিঝুঁকি কমিয়ে আনা কঠিন। কারণ ফায়ার সার্ভিসের মাস্টারপ্ল্যানে আছে এক হাজার মানুষের জন্য একজন ফায়ার ফাইটার। বর্তমানে ১২ হাজার জনের জন্য একজন ফায়ার ফাইটার রয়েছে।’ 

তিনি বলেন, ‘ডিজি হিসেবে গুলশান সোসাইটির জন্য একটা উপহার দিতে চাই। যদি মেয়র মহোদয় আমাকে ছোট একটি জায়গা দেন, তাহলে একটা স্যাটেলাইট স্টেশন করে দিতে চাই।’ 

রাজউকের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘এফ আর টাওয়ার ও বেইলি রোডে তদন্ত কমিটির সদস্য ছিলাম। বনানীর এফ আর টাওয়ার ফায়ার এক্সিট ছিল, কিন্তু ব্যবহারের উপযোগী ছিল না। সাধারণ মানুষ নামার সুযোগ পেলে এত মৃত্যুর ঘটনা ঘটত না। বেইলি রোডে গ্রিন কোজি কটেজ ভবন আবাসিক ও বাণিজ্যিক ছিল। সেখানে অগ্নিঝুঁকি কমানোর কোনো সুরক্ষা ব্যবস্থা ছিল না। সমস্যা হচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো আমরা নিয়মিত তদারকি করছি না।’ 

রাজউকের প্রধান প্রকৌশলী উজ্জ্বল মল্লিক বলেন, ভবন নির্মাণ প্রক্রিয়া নজরদারি করার জন্য রাজউক থার্ড পার্টি নিয়োগ করতে যাচ্ছে। এক–দুই সপ্তাহের মধ্যে থার্ড পার্টি নিয়োগে গাইডলাইন প্রস্তুত হয়ে যাবে। ২০০৮ সালের পরে রাজধানীতে ৬ তলার ওপরে ভবন নির্মাণ শুরু হয়। এতে করে অনেকে অনুমোদন নিয়ে ভবন নির্মাণ করে সেটি বহুমাত্রিক ব্যবহার শুরু করে। কিন্তু আবাসিক কাম–ব্যবসায়িক ভবন নির্মাণ করতে হলে ফায়ার এক্সিট সিঁড়ি নির্মাণ করতে হবে। 

তিনি বলেন, অনেকে নির্মাণাধীন ভবন ভাড়া নিয়ে বসবাস করেন। এতে করে ঝুঁকি বাড়ে। একটি ভবনে বাণিজ্যিক ব্যবহার করতে হলে ট্রেড লাইসেন্স ও ফায়ার সার্টিফিকেট নিতে হয়। কিন্তু সিটি করপোরেশন ও ফায়ার সার্ভিস অনুমোদন দেওয়ার সময় রাজউকের নকশা না দেখেই অনুমোদন দিয়ে থাকেন। আবার অনেক ভবনে পার্কিংয়ের জায়গায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হচ্ছে। 

গোলটেবিল বৈঠকে আরও আলোচনায় অংশ নেন—গুলশান সোসাইটির সভাপতি ব্যারিস্টার ওমর সাদাত, সহসভাপতি সৈয়দ আলমাস কবির, মহাসচিব আহসান হাবীব প্রমুখ।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

নারী সহকর্মীর সঙ্গে রাতযাপন: হাইটেক পার্কের ডিডি আতিক বরখাস্ত

বাংলাদেশসহ ৩ দেশে উন্নয়ন সহায়তা বন্ধের সিদ্ধান্ত সুইজারল্যান্ডের

পদ্মা সেতু ও ড. ইউনূসকে নিয়ে ভারত থেকে শেখ হাসিনার ভাষণ! ভাইরাল ভিডিওর পেছনের ঘটনা জানুন

বিচারপতি শাহেদ নূরউদ্দিনের পদত্যাগ

২৫ ক্যাডারের কর্মকর্তাদের ফেসবুক প্রোফাইল পিকচার পরিবর্তন কর্মসূচি শুরু

এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত