ডা. ফরিদা ইয়াসমিন সুমি
প্রকৃতিগতভাবে যৌনমিলনের ফলে নারীদেহের অভ্যন্তরে পুরুষের শুক্রাণু ও নারীর ডিম্বাণু নিষেকের মাধ্যমে ভ্রূণ সৃষ্টি হয়। এই ভ্রূণ গর্ভাশয় বা জরায়ুর ভেতরের প্রাচীরে সংস্থাপিত হয়ে দীর্ঘ ৯ মাস ধরে বড় হওয়ার পর ভূমিষ্ঠ হয়। কিন্তু যেসব দম্পতির ক্ষেত্রে এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া কোনো কারণে বাধাগ্রস্ত হয় বা সফল হতে পারে না, তাঁদের ক্ষেত্রে প্রয়োজন হয় কৃত্রিম উপায়ে গর্ভধারণের। এ ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের যৌনমিলন বাদ দিয়ে শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলন ঘটানো হয়।
বেশির ভাগ মানুষের জীবনের কোনো না কোনো সময় সন্তানের মা-বাবা হওয়ার প্রবল আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়। প্রায় ৮৫ শতাংশ দম্পতি চেষ্টা করার এক বছরের মধ্যে গর্ভধারণ করতে সক্ষম হন। প্রায় ৭ শতাংশ চেষ্টা করার দ্বিতীয় বছরের মধ্যে গর্ভাবস্থা অর্জন করেন। সঠিক নিয়মে চেষ্টা করার ১২ মাসের মধ্যে গর্ভাবস্থা অর্জন করতে ব্যর্থ হলে তাকে বন্ধ্যত্ব হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
কৃত্রিম উপায়ে গর্ভধারণ যাঁদের প্রয়োজন
পুরুষের ক্ষেত্রে
নারীর ক্ষেত্রে
কৃত্রিম গর্ভধারণ পদ্ধতি বন্ধ্য দম্পতিদের জন্য আশার আলো হিসেবে কাজ করে। বর্তমানে এ উপায়ে অনেক বন্ধ্য নারী-পুরুষ সন্তান লাভে সমর্থ হয়েছেন।
এর বাইরে আরেকটি পদ্ধতি রয়েছে, আইইউআই বা ইন্ট্রাইউটেরাইন ইনসেমিনেশন। অবশ্য আইইউআই কৃত্রিম গর্ভধারণ পদ্ধতির অন্তর্ভুক্ত নয়। তবে এই পদ্ধতিতেও যৌনমিলন ছাড়া স্বামীর শুক্রাণু স্ত্রীর গর্ভে প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে গর্ভধারণ করানো হয়। এটি অত্যন্ত সহজে, কম খরচে ও কম সময়ে করা যায়। এর গ্রহণযোগ্যতা তাই বেশি।
মূলত একজন দম্পতির ইতিহাস এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর স্ত্রীরোগ ও বন্ধ্যত্বরোগ বিশেষজ্ঞ সিদ্ধান্ত নেবেন কোন পদ্ধতি কার জন্য উপযুক্ত হবে। কৃত্রিম গর্ভধারণের প্রতিটি পদ্ধতিতেই উর্বরতা বৃদ্ধির ওষুধ প্রয়োগ করা হয়।
কৃত্রিম উপায়ে গর্ভধারণ পদ্ধতিগুলোর মধ্যে আইভিএফ বা ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন বহুল ব্যবহৃত ও জনপ্রিয়। সাধারণত এটি ‘টেস্টটিউব’ পদ্ধতি হিসেবে বেশি পরিচিত। এই পদ্ধতিতে স্ত্রীর ডিম্বাণু বড় করার জন্য ঋতুচক্রের প্রথম ১৪ দিন নির্দিষ্ট কিছু ইনজেকশন দেওয়া হয়। তারপর ট্রান্সভ্যাজাইনাল সনোগ্রাম বা টিভিএস করে দেখা হয় ডিম্বাণুগুলো কাঙ্ক্ষিত আকার-আয়তন, অর্থাৎ ১৮ মিলিমিটার বা এর থেকে বড় হয়েছে কি না। যদি হয়ে থাকে, তখন ডিম্বাণুর পরিপক্বতার জন্য আরেকটি ইনজেকশন দেওয়া হয়। এই ইনজেকশন দেওয়ার ৩৪ থেকে ৩৬ ঘণ্টা পর স্ত্রীর ডিম্বাশয় থেকে ডিম্বাণু সংগ্রহ করা হয়। ডিম্বাণু সংগ্রহের প্রক্রিয়াটি অপারেশন থিয়েটারে সম্পূর্ণ অজ্ঞান করার মাধ্যমে করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় স্ত্রীর যোনিপথের পেছন অংশ দিয়ে নিডল প্রবেশ করিয়ে আলট্রাসনোগ্রাফির সহায়তায় ডিম্বাশয় থেকে ডিম্বাণু সংগ্রহ করা হয়। সংগৃহীত ডিম্বাণু ল্যাবরেটরিতে স্বামীর শুক্রাণুর সঙ্গে নিষেকের জন্য রাখা হয়। নিষিক্তকরণের পর পাঁচ থেকে ছয় দিনের ভ্রূণটি স্ত্রীর জরায়ুতে স্থাপন করা হয়। একে ইটি বা এমব্রায়ো ট্রান্সফার বলা হয়।
আইসিএসআই/ইকসি (ইন্ট্রাসাইটোপ্লাজমিক স্পার্ম ইনজেকশন) পদ্ধতিতে স্বামীর শুক্রাণু স্ত্রীর ডিম্বাণুর সাইটোপ্লাজম বা কোষের দেহে সরাসরি প্রবেশ করিয়ে নিষিক্তকরণকে ত্বরান্বিত করা হয়। সাধারণত পুরুষের শুক্রাণুর পরিমাণ কম বা শুক্রাণুর অন্যান্য সমস্যায় এই পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়।
কৃত্রিম গর্ভধারণের অন্যান্য পদ্ধতির ব্যবহার তুলনামূলক কম এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সেগুলো ব্যবহৃত হয়।
অনেকেই প্রশ্ন করেন, কৃত্রিম উপায়ে গর্ভধারণের হার শতভাগ কি না। এ ক্ষেত্রে মনে রাখা প্রয়োজন, কোনো পদ্ধতিই শতভাগ সাফল্যের নিশ্চয়তা দেয় না। তা ছাড়া সাফল্যের হারের তারতম্যের বেশ কিছু কারণ রয়েছে। যেমন
কৃত্রিম উপায়ে গর্ভধারণের জন্য প্রথমেই একজন স্ত্রী ও বন্ধ্যত্বরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হতে হবে। তিনিই নির্ধারণ করবেন কোন পদ্ধতিটি আপনার জন্য উপযুক্ত। এ ধরনের চিকিৎসায় মনোবল শক্ত রাখা এবং ধৈর্য ধরা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। সঠিক পদ্ধতিতে ধৈর্যসহকারে চিকিৎসা নিলে সফল হওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে।
ডা. ফরিদা ইয়াসমিন সুমি, সহকারী অধ্যাপক, প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিভাগ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ
প্রকৃতিগতভাবে যৌনমিলনের ফলে নারীদেহের অভ্যন্তরে পুরুষের শুক্রাণু ও নারীর ডিম্বাণু নিষেকের মাধ্যমে ভ্রূণ সৃষ্টি হয়। এই ভ্রূণ গর্ভাশয় বা জরায়ুর ভেতরের প্রাচীরে সংস্থাপিত হয়ে দীর্ঘ ৯ মাস ধরে বড় হওয়ার পর ভূমিষ্ঠ হয়। কিন্তু যেসব দম্পতির ক্ষেত্রে এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া কোনো কারণে বাধাগ্রস্ত হয় বা সফল হতে পারে না, তাঁদের ক্ষেত্রে প্রয়োজন হয় কৃত্রিম উপায়ে গর্ভধারণের। এ ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের যৌনমিলন বাদ দিয়ে শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলন ঘটানো হয়।
বেশির ভাগ মানুষের জীবনের কোনো না কোনো সময় সন্তানের মা-বাবা হওয়ার প্রবল আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়। প্রায় ৮৫ শতাংশ দম্পতি চেষ্টা করার এক বছরের মধ্যে গর্ভধারণ করতে সক্ষম হন। প্রায় ৭ শতাংশ চেষ্টা করার দ্বিতীয় বছরের মধ্যে গর্ভাবস্থা অর্জন করেন। সঠিক নিয়মে চেষ্টা করার ১২ মাসের মধ্যে গর্ভাবস্থা অর্জন করতে ব্যর্থ হলে তাকে বন্ধ্যত্ব হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
কৃত্রিম উপায়ে গর্ভধারণ যাঁদের প্রয়োজন
পুরুষের ক্ষেত্রে
নারীর ক্ষেত্রে
কৃত্রিম গর্ভধারণ পদ্ধতি বন্ধ্য দম্পতিদের জন্য আশার আলো হিসেবে কাজ করে। বর্তমানে এ উপায়ে অনেক বন্ধ্য নারী-পুরুষ সন্তান লাভে সমর্থ হয়েছেন।
এর বাইরে আরেকটি পদ্ধতি রয়েছে, আইইউআই বা ইন্ট্রাইউটেরাইন ইনসেমিনেশন। অবশ্য আইইউআই কৃত্রিম গর্ভধারণ পদ্ধতির অন্তর্ভুক্ত নয়। তবে এই পদ্ধতিতেও যৌনমিলন ছাড়া স্বামীর শুক্রাণু স্ত্রীর গর্ভে প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে গর্ভধারণ করানো হয়। এটি অত্যন্ত সহজে, কম খরচে ও কম সময়ে করা যায়। এর গ্রহণযোগ্যতা তাই বেশি।
মূলত একজন দম্পতির ইতিহাস এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর স্ত্রীরোগ ও বন্ধ্যত্বরোগ বিশেষজ্ঞ সিদ্ধান্ত নেবেন কোন পদ্ধতি কার জন্য উপযুক্ত হবে। কৃত্রিম গর্ভধারণের প্রতিটি পদ্ধতিতেই উর্বরতা বৃদ্ধির ওষুধ প্রয়োগ করা হয়।
কৃত্রিম উপায়ে গর্ভধারণ পদ্ধতিগুলোর মধ্যে আইভিএফ বা ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন বহুল ব্যবহৃত ও জনপ্রিয়। সাধারণত এটি ‘টেস্টটিউব’ পদ্ধতি হিসেবে বেশি পরিচিত। এই পদ্ধতিতে স্ত্রীর ডিম্বাণু বড় করার জন্য ঋতুচক্রের প্রথম ১৪ দিন নির্দিষ্ট কিছু ইনজেকশন দেওয়া হয়। তারপর ট্রান্সভ্যাজাইনাল সনোগ্রাম বা টিভিএস করে দেখা হয় ডিম্বাণুগুলো কাঙ্ক্ষিত আকার-আয়তন, অর্থাৎ ১৮ মিলিমিটার বা এর থেকে বড় হয়েছে কি না। যদি হয়ে থাকে, তখন ডিম্বাণুর পরিপক্বতার জন্য আরেকটি ইনজেকশন দেওয়া হয়। এই ইনজেকশন দেওয়ার ৩৪ থেকে ৩৬ ঘণ্টা পর স্ত্রীর ডিম্বাশয় থেকে ডিম্বাণু সংগ্রহ করা হয়। ডিম্বাণু সংগ্রহের প্রক্রিয়াটি অপারেশন থিয়েটারে সম্পূর্ণ অজ্ঞান করার মাধ্যমে করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় স্ত্রীর যোনিপথের পেছন অংশ দিয়ে নিডল প্রবেশ করিয়ে আলট্রাসনোগ্রাফির সহায়তায় ডিম্বাশয় থেকে ডিম্বাণু সংগ্রহ করা হয়। সংগৃহীত ডিম্বাণু ল্যাবরেটরিতে স্বামীর শুক্রাণুর সঙ্গে নিষেকের জন্য রাখা হয়। নিষিক্তকরণের পর পাঁচ থেকে ছয় দিনের ভ্রূণটি স্ত্রীর জরায়ুতে স্থাপন করা হয়। একে ইটি বা এমব্রায়ো ট্রান্সফার বলা হয়।
আইসিএসআই/ইকসি (ইন্ট্রাসাইটোপ্লাজমিক স্পার্ম ইনজেকশন) পদ্ধতিতে স্বামীর শুক্রাণু স্ত্রীর ডিম্বাণুর সাইটোপ্লাজম বা কোষের দেহে সরাসরি প্রবেশ করিয়ে নিষিক্তকরণকে ত্বরান্বিত করা হয়। সাধারণত পুরুষের শুক্রাণুর পরিমাণ কম বা শুক্রাণুর অন্যান্য সমস্যায় এই পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়।
কৃত্রিম গর্ভধারণের অন্যান্য পদ্ধতির ব্যবহার তুলনামূলক কম এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সেগুলো ব্যবহৃত হয়।
অনেকেই প্রশ্ন করেন, কৃত্রিম উপায়ে গর্ভধারণের হার শতভাগ কি না। এ ক্ষেত্রে মনে রাখা প্রয়োজন, কোনো পদ্ধতিই শতভাগ সাফল্যের নিশ্চয়তা দেয় না। তা ছাড়া সাফল্যের হারের তারতম্যের বেশ কিছু কারণ রয়েছে। যেমন
কৃত্রিম উপায়ে গর্ভধারণের জন্য প্রথমেই একজন স্ত্রী ও বন্ধ্যত্বরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হতে হবে। তিনিই নির্ধারণ করবেন কোন পদ্ধতিটি আপনার জন্য উপযুক্ত। এ ধরনের চিকিৎসায় মনোবল শক্ত রাখা এবং ধৈর্য ধরা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। সঠিক পদ্ধতিতে ধৈর্যসহকারে চিকিৎসা নিলে সফল হওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে।
ডা. ফরিদা ইয়াসমিন সুমি, সহকারী অধ্যাপক, প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিভাগ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা এলাকায় যাত্রীবাহী বাসে ডাকাতি বেড়েই চলছে। এ কারণে চালক ও যাত্রীদের কাছে আতঙ্কের নাম হয়ে উঠছে এই সড়ক। ডাকাতির শিকার বেশি হচ্ছেন প্রবাসফেরত লোকজন। ডাকাতেরা অস্ত্র ঠেকিয়ে লুট করে নিচ্ছে সর্বস্ব। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়েও ঘটছে ডাকাতির ঘটনা।
০২ মার্চ ২০২৫বিআরটিসির বাস দিয়ে চালু করা বিশেষায়িত বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) লেনে অনুমতি না নিয়েই চলছে বেসরকারি কোম্পানির কিছু বাস। ঢুকে পড়ছে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। উল্টো পথে চলছে মোটরসাইকেল। অন্যদিকে বিআরটিসির মাত্র ১০টি বাস চলাচল করায় সোয়া চার হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্প থেকে...
১৬ জানুয়ারি ২০২৫গাজীপুর মহানগরের বোর্ডবাজার এলাকার ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীরা পিকনিকে যাচ্ছিলেন শ্রীপুরের মাটির মায়া ইকো রিসোর্টে। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক থেকে বাসগুলো গ্রামের সরু সড়কে ঢোকার পর বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে যায় বিআরটিসির একটি দোতলা বাস...
২৪ নভেম্বর ২০২৪ঝড়-জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষায় সন্দ্বীপের ব্লক বেড়িবাঁধসহ একাধিক প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৫৬২ কোটি টাকা। এ জন্য টেন্ডারও হয়েছে। প্রায় এক বছর পেরিয়ে গেলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ শুরু করছে না। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তাগাদায়ও কোনো কাজ হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন...
২০ নভেম্বর ২০২৪