
রান্নার ইতিহাস মানবজাতির ইতিহাসের মতোই পুরোনো। আগুন আবিষ্কারের পর মানুষ তার আঁচে খাবার সেঁকে খাওয়া শুরু করে। এরপর ধীরে ধীরে বিভিন্ন পাত্র ব্যবহার করে খাবার সেদ্ধ এবং রান্না করার পদ্ধতি আবিষ্কার করে।
এ সময় থেকে শুরু হয় মানুষের খাদ্য গ্রহণ পদ্ধতির পরিবর্তন। এরপর তারা খাদ্যকে বিভিন্নভাবে প্রক্রিয়াকরণ করতে শেখে।
বিভিন্ন সভ্যতা; যেমন মিসর, গ্রিক, রোম, ভারতীয় এবং চীনা সভ্যতায় রান্নার বিভিন্ন পদ্ধতির প্রচলন ছিল। এসব সভ্যতায় বিভিন্ন ভেষজ ও মসলার ব্যবহার শুরু হয়, যা খাবারের স্বাদ ও গন্ধকে ভিন্নতা দেয়। মধ্যযুগে মসলার বাণিজ্য প্রসারিত হলে বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে মসলার আদান-প্রদান হয় এবং রান্নার পদ্ধতিতে নতুনত্ব আসে।
খাবার সংরক্ষণ করে রাখার পদ্ধতি বেশ প্রাচীন। ক্রমান্বয়ে প্রযুক্তির উন্নতি হলে মানুষ রান্না করা ঠান্ডা খাবার গরম করে খাওয়ার পদ্ধতিও আবিষ্কার করে। সে যন্ত্রের আধুনিক সংস্করণ মাইক্রোওয়েভ ওভেন এখন আমাদের জীবনের বাস্তবতা।
মাইক্রোওয়েভ ওভেন মূলত একটি যন্ত্র, যা বিদ্যুৎ ব্যবহার করে খাবার গরম করে। এটি মাইক্রোওয়েভ নামক একপ্রকার তড়িৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ ব্যবহার করে, যা আমাদের চারপাশে বিদ্যমান। এই তরঙ্গগুলো সাধারণত ২.৪৫ গিগাহার্টজ ফ্রিকোয়েন্সিতে থাকে। মাইক্রোওয়েভ ওভেনের ভেতরে একটি ম্যাগনেট্রন নামক যন্ত্র থাকে, যা এই মাইক্রোওয়েভ তৈরি করে।
এই মাইক্রোওয়েভগুলো খাবারের সংস্পর্শে এলে খাবারের মধ্যে থাকা পানির অণুগুলোতে কম্পন তৈরি হয়। এই কম্পনের ফলে তাপ উৎপন্ন হয় এবং খাবার
গরম হতে শুরু করে। মাইক্রোওয়েভ ওভেনের ভেতরে একটি ধাতব জাল থাকে, সেটি মাইক্রোওয়েভগুলোকে বাইরে বের হতে বাধা দেয়। ফলে খাবার গরম করার সময় কোনো ধরনের ঝুঁকি থাকে না।
মাইক্রোওয়েভ ওভেনের কার্যকারিতা অনেক বিষয়ের ওপর নির্ভর করে, যেমন খাবারের পরিমাণ, উপাদান এবং মাইক্রোওয়েভের ক্ষমতা। সাধারণত মাইক্রোওয়েভ ওভেন খুব দ্রুত খাবার গরম করতে পারে, যা ব্যস্ত জীবনে উপযোগী হলেও এই নিয়ে মিশ্র কথা চালু আছে।
মাইক্রোওয়েভ ওভেন ব্যবহারের সুবিধা ও অসুবিধা
সুবিধা
খাবার খুব দ্রুত গরম হয়: মাইক্রোওয়েভ ওভেনের প্রধান সুবিধা হলো, এর মাধ্যমে খুব কম সময়ের মধ্যে খাবার গরম করা যায়। ব্যস্ত জীবনে এটা খুবই উপযোগী।
সহজ ব্যবহার: এটি ব্যবহার করা খুব সহজ। যে কেউ নির্দেশিকা পড়ে এটি ব্যবহার করতে পারেন।
বিভিন্ন ধরনের রান্না: মাইক্রোওয়েভ ওভেনে শুধু খাবার গরম করাই নয়; বরং কেক, পপকর্নসহ বিভিন্ন খাবার তৈরি করা যায়।
সময় সাশ্রয়: দ্রুততম সময়ে রান্না হয় বলে এটি আমাদের প্রতিদিন অনেক সময় বাঁচিয়ে দেয়।
খাবার গরম রাখার সুবিধা: মাইক্রোওয়েভ ওভেনে খাবার গরম করার পর বেশ কিছু সময় পর্যন্ত তা গরম থাকে।
অসুবিধা
স্বাস্থ্যঝুঁকি: কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, মাইক্রোওয়েভ রেডিয়েশন স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। ইলেকট্রোম্যাগনেটিক বিকিরণের ফলে এটি একাধিক শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন ঘটায়। কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে অনেক জটিল বৈদ্যুতিক কার্যকলাপ ঘটে। মানুষের শিখন প্রক্রিয়া এবং স্মৃতিশক্তি ইলেকট্রোম্যাগনেটিক বিকিরণের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
ভিটামিন নষ্ট হওয়া: মাইক্রোওয়েভ ওভেনে খাবার গরম করলে কিছু ভিটামিন নষ্ট হয়ে
যেতে পারে।
গঠনগত সমস্যা: মাংস কিংবা শাকসবজির মতো কিছু খাবারের জন্য মাইক্রোওয়েভ ওভেন আদর্শ না-ও হতে পারে।
সব ধরনের খাবারের উপযোগী নয়: মাইক্রোওয়েভ ওভেন সব ধরনের খাবার গরম করার জন্য উপযুক্ত নয়। ডিম, আলু ইত্যাদি মাইক্রোওয়েভ ওভেনে গরম করলে বিস্ফোরিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
পরিষ্কার করার ঝামেলা: মাইক্রোওয়েভ ওভেন নিয়মিত পরিষ্কার না করলে এতে খাবারের দাগ লেগে যেতে পারে। এটি ব্যবহারের জন্যও অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠতে পারে।
পরামর্শ দিয়েছেন: খাদ্যপথ্য ও আকুপ্রেশার বিশেষজ্ঞ, প্রধান নির্বাহী, প্রাকৃতিক নিরাময় কেন্দ্র

চিকিৎসা সেবাকে সাধারণ মানুষের জন্য সহজলভ্য করার ওপর গুরুত্বারোপ করে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেছেন, ‘ভবিষ্যতে মানুষকে আর চিকিৎসার জন্য ডাক্তারের পেছনে ঘুরতে হবে না, বরং ডাক্তাররাই মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেবেন।
৫ ঘণ্টা আগে
স্বাধীনতার পর পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। মাতৃ ও শিশুমৃত্যুর হার কমেছে, বেড়েছে গড় আয়ু। তবে অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ, জনস্বাস্থ্যের উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থাপনায় রয়েছে সীমাবদ্ধতা।
৪ দিন আগে
শীতকে বিদায় জানিয়ে চলে এসেছে ঋতুরাজ বসন্ত। প্রকৃতিতে ছড়াচ্ছে উষ্ণতা। এই অবস্থায় ঋতু পরিবর্তনজনিত কারণে অনেকেই এখন সর্দি-জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় অনুসরণ করলেই রোগীর কষ্ট কিছুটা কমানো সম্ভব।
৪ দিন আগে
প্যালিয়েটিভ কেয়ার সোসাইটি অব বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ নটর ডেম অ্যালামনাই অব নর্থ আমেরিকার উদ্যোগে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য প্যালিয়েটিভ কেয়ার সেনসিটাইজেশন অনুষ্ঠান হয়ে গেল। আজ ১৫ ফেব্রুয়ারি, নটর ডেম ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের সার্বিক সহায়তায় বিশ্ববিদ্যালয়টির ক্যাম্পাসে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়...
৫ দিন আগে