Ajker Patrika

জালিয়াতি করে নিউজিল্যান্ডে বসবাস, ২০ বছর পর ধরা বাংলাদেশি দম্পতি

অনলাইন ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

তথ্য ও নথিপত্র জালিয়াতি করে প্রায় ২০ বছর ধরে নিউজিল্যান্ডে বসবাস করেছেন বাংলাদেশি দম্পতি। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। দুই দশক পরে হলেও তাদের জারিজুরি ফাঁস হয়ে গেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে। এই দম্পতির বিরুদ্ধে অভিবাসন ও পরিচয় জালিয়াতির ৪০টি অভিযোগ আনা হয়েছে।

নিউজিল্যান্ডের সংবাদমাধ্যম নিউজিল্যান্ড হেরাল্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিবারের অপর সদস্যের পরিচয় ব্যবহার করে, তথ্য জালিয়াতি করে ভিসা নিয়ে নিউজিল্যান্ডে কাজ করতে থাকেন ওই দম্পতি এবং শেষ পর্যন্ত নাগরিকত্বও পেয়ে যান। কিন্তু প্রতারণা ধরা পড়ার পর তাদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ আনা হয়। স্থানীয় একটি আদালত তাদের দোষী সাব্যস্ত করেছে।

বাংলাদেশি ওই দম্পতি হলেন—জাহাঙ্গীর আলম ও তাজ পারভীন শিল্পী। তাদের বিরুদ্ধে নিউজিল্যান্ডের অভিবাসন বিভাগের ছয় বছরের তদন্তের পর অভিযোগ আনা হয়। অকল্যান্ড জেলা আদালতে ১৩ দিন ধরে চলা বিচার শেষে গত শুক্রবার আলম ও শিল্পীকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।

তদন্তকারীরা আদালতকে জানিয়েছেন, আলম তাঁর ভাইয়ের পরিচয় ব্যবহার করে নিউজিল্যান্ডে ভিজিটর ভিসা পান এবং দেশটিতে প্রবেশ করেন। পরে তিনি একটি ওয়ার্ক পারমিট, রেসিডেন্স ভিসা এবং শেষ পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডের নাগরিকত্ব ও দুটি নিউজিল্যান্ডের পাসপোর্ট পান।

আলম তাঁর স্ত্রী শিল্পীর ১৪টি অভিবাসন পারমিট ও ভিসার আবেদন এবং তাঁর মায়ের জন্য একটি আবেদনের সমর্থনে এই পরিচয় ব্যবহার করেন। দম্পতি জানতেন যে, আলম নিউজিল্যান্ডের অভিবাসন বিভাগের কাছে ওই আবেদনগুলো করার সময় তাঁর আসল পরিচয় লুকানোসহ অন্যান্য মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ব্যবহার করছেন।

নিউজিল্যান্ডের অভিবাসন তদন্ত বিভাগের মহাব্যবস্থাপক স্টিভ ওয়াটসন বলেন, ‘এই দোষী সাব্যস্ত হওয়ার মাধ্যমে একটি শক্তিশালী বার্তা পাঠানো হলো যে, অভিবাসন নিউজিল্যান্ডকে প্রতারণামূলক তথ্য প্রদান সহ্য করা হবে না।’

ওয়াটসন আরও বলেন, ‘এ ধরনের অপরাধ অভিবাসন ব্যবস্থার মূলে আঘাত করে, এর সততা নষ্ট করে। আমরা আশা করি—আবেদনকারীরা ভিসা পাওয়ার জন্য বা নিউজিল্যান্ডে প্রবেশের অনুমতি পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা পূরণ করে তা দেখানোর জন্য সৎ সাহস দেখাবেন ও সম্পূর্ণ তথ্য প্রদান করবেন।’

ওয়াটসন আরও বলেন, ‘যারা নিউজিল্যান্ড অভিবাসন বিভাগকে মিথ্যা তথ্য দেয়, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করা হবে এবং তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এ ধরনের তদন্ত অত্যন্ত জটিল। আমি আমাদের নিবেদিত তদন্ত দলের জন্য অবিশ্বাস্যভাবে গর্বিত, যারা এই মামলার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করতে অভিবাসন ব্যবস্থা জুড়ে কাজ করেছে এবং অবশেষে ছয় বছর পর আদালতে নিয়ে এসেছে।’

নিউজিল্যান্ডের অভিবাসন বিভাগের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘আমরা এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড শনাক্ত করতে, আরও অপরাধ সংঘটিত হওয়া ঠেকাতে এবং শেষ পর্যন্ত আলম ও শিল্পীকে জবাবদিহির আওতায় আনতে সক্ষম হয়েছি।’

আলমের আসল নাম ও জন্ম তারিখ জানা যায়নি। একইভাবে, তিনি কেন তাঁর আসল পরিচয় গোপন করেছিলেন তাও অজানা। উল্লেখ্য, আলম ও শিল্পীর সাজা ঘোষণা করা হবে আগামী ২২ মে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা র-এর ওপর নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ মার্কিন ফেডারেল সংস্থার

‘মদের বোতল’ হাতে বৈষম্যবিরোধী নেতা-নেত্রীর ভিডিও, সদস্যপদ স্থগিত

আকরামদের প্রথম খবর দেওয়া হয়েছিল, তামিম আর নেই

১৫ লাখ টাকায় বিক্রি হলো এক পরিবারের সেই উমানাথপুর গ্রাম

ভারতকে ভয়ংকর মাদক ফেন্টানিলের কাঁচামাল সরবরাহকারী বলল তুলসী গ্যাবার্ডের দপ্তর

এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত