Ajker Patrika

কানাডায় মানব মস্তিষ্কে চিপ বসানোর অনুমোদন পেল ইলন মাস্কের নিউরালিংক

আপডেট : ২২ নভেম্বর ২০২৪, ১২: ৩১
নিউরালিংকের ‘ক্যান–প্রাইম’ স্টাডির অধীনে কোম্পানিটি চিপটি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীর মস্তিষ্কে প্রতিস্থাপন করবে ছবি: নিউরোসায়েন্ম
নিউরালিংকের ‘ক্যান–প্রাইম’ স্টাডির অধীনে কোম্পানিটি চিপটি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীর মস্তিষ্কে প্রতিস্থাপন করবে ছবি: নিউরোসায়েন্ম

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলকভাবে মানব মস্তিষ্কে চিপ স্থাপনের অনুমোদন পেল ইলন মাস্কের নিউরো প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠান নিউরালিংক। কানাডায় মানব ট্রায়াল চালানোর জন্য অনুমোদন পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এই প্রক্রিয়ার জন্য ‘প্রথম এবং একমাত্র সার্জিক্যাল সাইট’ হবে কানাডার টরন্টো ওয়েস্টার্ন হাসপাতাল।

চলতি বছরের মার্চে মস্তিষ্কে চিপ প্রতিস্থাপনের জন্য কানাডার রোগীদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু করে। তবে এটি এখন সক্রিয়ভাবে সম্ভাব্য অংশগ্রহণকারীদের খুঁজছে। এক্সের পোস্টের কোম্পানিটি বলেছে, নিবন্ধন প্রক্রিয়া এখনো চলমান।

নিউরালিংকের ‘ক্যান–প্রাইম’ স্টাডির অধীনে কোম্পানিটি চিপটি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীর মস্তিষ্কে প্রতিস্থাপন করবে, যাতে এটি রোগীদের স্নায়ু কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করতে পারে। এই চিপ মস্তিষ্কের মাধ্যমেই কম্পিউটার বা স্মার্টফোন নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। এ জন্য কোনো শারীরিক কার্যকলাপের প্রয়োজন হবে না। নিউরালিংক বলছে যে, এই স্টাডির লক্ষ্য হলো–কোম্পানিটির চিপ এবং সার্জিক্যাল রোবটের নিরাপত্তা মূল্যায়ন করা এবং মস্তিষ্ক কম্পিউটার ইন্টারফেস এর প্রাথমিক কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা। এর ফলে কোয়াড্রিপ্লেজিয়া বা পক্ষাগ্রস্ত রোগী তাদের চিন্তার মাধ্যমে কোনো ডিভাইস নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। এই পরীক্ষা থেকে যা কিছু শেখা হবে, তা কোম্পানিটিকে চিপটি মস্তিষ্কে সুরক্ষিতভাবে স্থাপন করার নিরাপদ উপায় খুঁজে বের করতে এবং প্রযুক্তির কার্যকারিতা উন্নত করতে সাহায্য করবে।

চলতি বছরের শুরুর দিকে নিউরালিংক প্রথমবারের মতো ২৯ বছর বয়সী নোল্যান্ড আরবার মস্তিষ্ক চিপ স্থাপন করে। সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁর শরীরের কাঁধের নিচের অংশ পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়ে। তবে মস্তিষ্কে চিপ বসানোর পর তাকে ল্যাপটপে দাবা খেলতে দেখা যায়। নিউরালিংকের ডিভাইস ব্যবহার করে তাকে চিন্তার মাধ্যমে কার্সার নিয়ন্ত্রণ করতে দেখা যায়। তবে তিনি কিছু জটিলতারও সম্মুখীন হন। চিপের কিছু সূক্ষ্ম তার বা থ্রেড মস্তিষ্ক থেকে সরে গিয়েছিল। তবে বর্তমানে তিনি ভালো আছেন বলে মনে হচ্ছে। এক্সের এক পোস্টে নোল্যান্ড বলেন, শিগগিরই তিনি নিজেকে চ্যালেঞ্জ করবে যেন টানা ৭২ ঘণ্টা চিপ ব্যবহার করে নিউরালিংক প্রযুক্তির ক্ষমতা প্রদর্শিত হয়।

তবে দ্বিতীয় রোগীর চিপের সূক্ষ্ম থ্রেড বা তার মস্তিষ্ক থেকে সরে যাওয়া প্রতিরোধ করতে নিউরালিংক প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। চিপ স্থাপনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ পরেই ওই রোগী কম্পিউটার-সহায়ক ডিজাইন (সিএডি) সফটওয়্যার ব্যবহার করছিলেন।

কানাডার ট্রায়ালে অংশগ্রহণের জন্য নিউরালিঙ্ক বিশেষভাবে এমন রোগী খুঁজছে যারা সার্ভাইক্যাল স্পাইনাল কর্ড ইনজুরি বা অ্যামিওট্রফিক ল্যাটারাল স্ক্লেরোসিস (এএলএস) এর কারণে উভয় হাত ব্যবহার করতে পারে না বা সীমিতভাবেব ব্যবহার করতে পারে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত