Ajker Patrika

যে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা কৃষক

চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি
আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০২২, ১৩: ৫৮
যে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা কৃষক

সপ্তাহে ১ দিন বসে ক্লাস। শিক্ষার্থী সংখ্যা ২৫ জন। শিক্ষার্থীদের সবাই শেখেন চাষাবাদের আধুনিক প্রযুক্তি ও নিরাপদ ফসল উৎপাদনের কৌশল। পাবনা চাটমোহরে এ মাঠ স্কুলের শিক্ষার্থীরা হলেন স্থানীয় কৃষক-কৃষাণী। আর তাদের নিয়ে গড়ে তোলা এই স্কুলে ব্যবহারিক শিক্ষা, পাঠদান করেন উপজেলা কৃষি অফিসের দুজন অভিজ্ঞ প্রশিক্ষক।

আজ সোমবার পাবনার চাটমোহর উপজেলার গুনাইগাছা ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর এলাকায় সরেজমিনে দেখা মেলে এই কৃষক মাঠ স্কুলের। ছায়াঘেরা বাগানে পলিথিন শিট বিছিয়ে তার ওপর বসে কৃষক-কৃষাণীরা শিখছেন কীভাবে লিচু ঝরে যায় ও কীভাবে প্রতিকার সম্ভব। স্কুলের শিক্ষার্থীদের মতো তাঁদেরও রয়েছে প্রকল্প থেকে সরবরাহকৃত খাতা-কলম। কৃষকেরা তাতে লিখে রাখেন প্রতিদিনের পাঠ্য। 

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিভিন্ন কৌশলের মাধ্যমে নিরাপদ ফসল উৎপাদন প্রকল্পের আওতায় চাটমোহর উপজেলায় ৭টি স্কুল করা হয়। আর এসব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ১৭৫ জন কৃষক শিক্ষা নিচ্ছেন নতুন প্রযুক্তি গ্রহণের মাধ্যমে নিরাপদ ফসল উৎপাদনের পদ্ধতি। আর সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে বসতবাড়িতেই সবজি চাষসহ বাণিজ্যিকভাবে কৃষির ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে কৃষকেরা। প্রশিক্ষিত কৃষকেরা তাঁদের আশপাশের কৃষকদের অর্জিত জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে বিষমুক্ত ফসল উৎপাদক সহায়ক ভূমিকা রাখবে মনে করছেন উপজেলা কৃষি অফিস। 

স্কুলের শিক্ষার্থী কৃষক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা প্রচলিত পদ্ধতিতে চাষাবাদ করতাম। না বুঝে যখন-তখন জমিতে বিষ ছিটাতাম। এতে খরচ বাড়ত। স্কুল থেকে জেনেছি পরিবেশও দূষিত হয়।’ 

নিরাপদ উপায়ে সবজি চাষি ভাদড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল হামিদ বলেন, তারা এখন উপকারী ও ক্ষতিকর পোকা চিনেন। ফলে বিবেচনা করে কীটনাশক ছিটান। 

কৃষক মাঠ স্কুলের প্রশিক্ষক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাইদুর রহমান বলেন, প্রকল্প থেকে টিওটি (বিশেষ প্রশিক্ষণ) করে তিনি কৃষক মাঠ স্কুল পরিচালনা করছেন। চলতি অর্থবছরে উপজেলায় ৭টি আইপিএম কৃষক মাঠ স্কুল পরিচালিত হচ্ছে। ধান, সবজি, ভুট্টা ও ফলের স্কুলগুলোতে কৃষকদের কীটনাশক ব্যবহার না করে পরিবেশবান্ধব উপায়ে ফসল উৎপাদনের শিক্ষা দেওয়া হয়। 

চাটমোহর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ এ মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘দেশের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে। এখন নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের বিষয় নিয়ে ভাবার সময় এসেছে।’ সেই সঙ্গে এ ধরনের স্কুল, কৃষকদের সচেতনতা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন এই কৃষি কর্মকর্তা। 

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত