Ajker Patrika

লঞ্চ চলাচল বন্ধ, খরচ বাড়ছে পণ্য পরিবহনে

মো. হোসাইন আলী কাজী
আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০২৩, ১০: ৪৬
লঞ্চ চলাচল বন্ধ, খরচ বাড়ছে পণ্য পরিবহনে

বরগুনার আমতলী এবং ঢাকার মধ্যকার নৌপথে যাত্রী-সংকটের কারণে বন্ধ হয়ে গেছে লঞ্চ চলাচল। এতে বিশেষ করে বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। তাঁদের এখন অল্প খরচের নৌপথ ছেড়ে সড়কে পণ্য পরিবহন করতে হচ্ছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে দ্রব্যমূল্যের ওপর।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, গত বছরের জুনে পদ্মা সেতু চালুর পর যাত্রী-সংকটে পড়েন লঞ্চমালিকেরা। আমতলী-ঢাকা নৌপথে অনিয়মিত হয়ে যায় লঞ্চ চলাচল। গত ছয় মাস ধরে অনিয়মিতভাবে একটি লঞ্চ চলাচল করলেও চলতি বছরের ২০ জুলাই তাও বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে আমতলীর পাশাপাশি তালতলী, বরগুনা সদর, কলাপাড়া ও পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটার নৌপথের যাত্রী ও ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েন। ব্যবসায়ীরা নদীপথে ঢাকা থেকে স্বল্প খরচে দক্ষিণাঞ্চলে মালপত্র আনতে পারছেন না। ফলে বেশি খরচ দিয়ে সড়কে পণ্য পরিবহন করতে হচ্ছে তাঁদের।

আমতলী লঞ্চঘাট ঘুরে দেখা গেছে সুনসান নীরবতা। নেই কোনো যাত্রীর কোলাহল। টার্মিনালে জেলেরা নৌকা এবং বালু ব্যবসায়ীরা বাল্কহেড বেঁধে রেখেছেন। ঘাটের সিঁড়িতে ছাগল শুয়ে আছে।

এ সময় সবুজ, কামরুলসহ কয়েকজন জানান, তাঁদের কাজের সন্ধানে প্রায়ই ঢাকা যেতে হয়। এখন লঞ্চ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যেতে খুব সমস্যা হচ্ছে। হিরামনি আক্তার নামের এক নারী বলেন, ‘অসুস্থ থাকায় গাড়িতে উঠতে পারি না। তাই লঞ্চে ঢাকায় যেতাম। সেই লঞ্চ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় খুবই সমস্যায় পড়েছি।’

আমতলীর মাতৃছোঁয়া বস্ত্রালয়ের মালিক জি এম মুছা জানান, লঞ্চে অল্প খরচে ঢাকা থেকে মালপত্র আনা যেত। কিন্তু চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বেশি খরচে সড়কপথে তা আনতে হচ্ছে।

ঘাটের সুপারভাইজার শহীদুল ইসলাম হাওলাদার জানান, লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকায় ঘাটের শতাধিক শ্রমিক কঠিন সংকটে পড়েছেন। তাঁরা পরিবার নিয়ে বেশ কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন।

যোগাযোগ করা হলে ইয়াদ লঞ্চের মালিক মামুন-অর রশিদ বলেন, ‘যাত্রী-সংকটে লোকসানের মুখে পড়ে আড়াই মাস ধরে লঞ্চ সার্ভিস বন্ধ রেখেছি। লঞ্চ চালালে ওই রুটে দৈনিক এক লাখ টাকা লোকসান গুনতে হয়। এত লোকসান আর গুনতে পারছি না।’ তবে তিনি জানান, আবার উদ্যোগ নিয়ে লঞ্চ চালু করা হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত