Ajker Patrika

ঘরের খাবারই ভালো খাবার

শায়লা শারমীন
আপডেট : ১৫ মার্চ ২০২২, ১৩: ৫২
ঘরের খাবারই ভালো খাবার

ছোট্ট রিহান, নার্সারির ছাত্র। মা স্কুলে আনার পথে পাড়ার দোকান থেকে টিফিন কিনে দিচ্ছেন, চিপস কিংবা প্যাকেটজাত চকলেট কেক। একটু বড় ক্লাসের ছাত্রদের চিপস, পেস্ট্রি, হটডগ, বার্গার, ফুচকা আর কোমল পানীয় না হলে যেন জমেই না বন্ধুদের আড্ডা আর কোচিং।এ ক্ষেত্রে শুধু সন্তানদের দোষ দিয়ে লাভ নেই। বাবা-মায়েরা বরং সন্তানদের স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিচ্ছেন প্রতিনিয়ত। তাঁদের অপত্য স্নেহ, ভালোবাসাই সন্তানের স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। 

বাইরের খাবার কেন বাদ
এই বোতলজাত কিংবা প্যাকেটজাত খাবারগুলোতে কোনো না কোনো প্রিজারভেটিভ দেওয়া থাকে। কখনো থাকে অতিরিক্ত চিনি বা লবণ। এ ছাড়া অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল ছাড়া অন্য কোনো প্লাস্টিকের প্যাকেটে যদি খাবার প্যাকেটজাত করা হয়, তাতে প্লাস্টিসাইড মিশে যায়। দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারে যা ক্যানসার, পাকস্থলীর ক্যানসার, বদহজম, অ্যাসিডিটিসহ নানা রোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

অধিকাংশ ফাস্ট ফুড তৈরি করতে টেস্টিং সল্ট বা সোডিয়াম গ্লুটামেট ব্যবহার করা হয়। এটি শিশুদের হাইপার অ্যাকটিভ বা অতিরিক্ত চঞ্চলতা কিংবা কম বুদ্ধিসম্পন্ন হওয়ার কারণ থেকে শুরু করে ছেলে ও মেয়েদের বন্ধ্যত্ব তৈরি করে।

গরমে বেশি পরিশ্রম করার পরও কোনো এনার্জি ড্রিংকস খাওয়া যাবে না। সেগুলোতে থাকা অতিরিক্ত চিনি ও লবণ উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্‌রোগ, স্ট্রোকসহ হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায়। পাশাপাশি প্লাস্টিকের ব্যাগ কিংবা বোতলেও বেশি দিন প্রিজার্ভ করে খাবার খাওয়া যেমন অস্বাস্থ্যকর, তেমন মানবদেহে বিভিন্ন ধরনের ক্যানসার হওয়ার জন্য দায়ী। কেউ যদি ওজন কমানোর পরিকল্পনা করে নিয়মিত প্লাস্টিকের প্যাকেটে বাজারজাত করা ফ্রোজেন পরোটা বা রুটি খান, তাহলে কিন্তু হিতে বিপরীতই হবে। তাই প্যাকেটজাত বা বোতলজাত খাবার বর্জন করে ঘরে তৈরি স্বাস্থ্যকর খাবার খান। তাতে আপনার রক্তের কোলেস্টেরল বাড়বে না, থাকবে না হৃদ্‌রোগ বা স্ট্রোকের ঝুঁকিও।

লেখক: সিনিয়র নিউট্রিশনিস্ট, ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতাল, ঢাকা।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত