Ajker Patrika

পৃথিবীর সবচেয়ে কাছের কৃষ্ণগহ্বর খুঁজে পেলেন বিজ্ঞানীরা 

প্রযুক্তি ডেস্ক
আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০২২, ২০: ৫৯
পৃথিবীর সবচেয়ে কাছের কৃষ্ণগহ্বর খুঁজে পেলেন বিজ্ঞানীরা 

বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করলেন পৃথিবীর নিকটতম কৃষ্ণগহ্বর। পৃথিবী থেকে কৃষ্ণগহ্বরটির দূরত্ব ১৬০০ আলোকবর্ষ। এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নিকটবর্তী কৃষ্ণগহ্বর থেকে প্রায় ৩ গুন কাছে অবস্থিত। কৃষ্ণগহ্বরটি সূর্যের প্রায় ১০ গুন বড়। বিজ্ঞানীরা এটির নাম দিয়েছেন ‘Gaia BH1 ’।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত মহাকাশ পর্যবেক্ষক কেন্দ্র ‘আন্তর্জাতিক জেমিনি অবজারভেটরি’ থেকে এটি আবিষ্কার করেন। যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় গবেষণাগার ‘নয়ের ল্যাব’ এই পর্যবেক্ষক কেন্দ্রটি পরিচালনা করে থাকে। কৃষ্ণগহ্বরটি আবিষ্কারে ব্যবহার করা হয়েছে ‘জেমিনি নর্থ’ টেলিস্কোপ।

কৃষ্ণগহ্বরের সৃষ্টি হয় বিশাল আকার ও ভরের নক্ষত্রের মৃত্যুর মাধ্যমে। জ্বালানি ফুরিয়ে গেলে সেই নক্ষত্র মহাকর্ষীয় বলের প্রভাবের নিজের মধ্যে সংকুচিত হয়ে ব্ল্যাকহোল বা কৃষ্ণগহ্বরে পরিণত হয়। ফলে কৃষ্ণগহ্বরের আয়তন অনেক কম কিন্তু ভর অত্যন্ত বেশি। এর ভর এত বেশি থাকে যে এর মহাকর্ষীয় শক্তি কোনো কিছুকেই এর ভেতর থেকে বের হতে দেয় না। এমনকি আলোও কৃষ্ণগহ্বরের মহাকর্ষীয় বল উপেক্ষা করে বেরিয়ে আসতে পারে না। ফলে টেলিস্কোপ দিয়ে সরাসরি কৃষ্ণগহ্বর দেখা যায় না। আশপাশের বস্তুর ওপর এর প্রভাব নির্ণয় করে বিজ্ঞানীরা কৃষ্ণগহ্বরের অস্তিত্ব বোঝেন।

ধারণা করা হয় শুধু আমাদের ছায়াপথেই প্রায় ১০ কোটি কৃষ্ণগহ্বর সুপ্ত অবস্থায় রয়েছেসাধারণত কৃষ্ণগহ্বরের যে অংশটি শনাক্ত করা যায় সেটি হলো ইভেন্ট হরাইজন বা ঘটনা দিগন্ত। বাইরে থেকে এই সীমারেখা অতিক্রম করলে কোনো বস্তুই আর কৃষ্ণগহ্বর থেকে বেরিয়ে আসতে পারে না। তাই কৃষ্ণগহ্বরের ভেতরে কী আছে, বা কী ঘটছে তা এখনো জানা সম্ভব হয়নি।

মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র, নাসা ২০১৯ সালে প্রথমবারের মতো কৃষ্ণগহ্বরের ছবি প্রকাশ করে। ধারণা করা হয়, আমাদের ছায়াপথেই প্রায় ১০ কোটি কৃষ্ণগহ্বর সুপ্ত অবস্থায় রয়েছে। যেগুলোর অনেকগুলো সূর্যের সমান, আবার কিছু আয়তনে সূর্যের দ্বিগুণ বা ১০০ গুন বড়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত