Ajker Patrika

নতুন রকেটের পরীক্ষা চালাল নাসা, কমবে মঙ্গলে যাওয়ার সময় 

অনলাইন ডেস্ক
নতুন রকেটের পরীক্ষা চালাল নাসা, কমবে মঙ্গলে যাওয়ার সময় 

মানুষ অনেক আগেই চাঁদের মাটিতে পা রেখেছে। এবার মানবজাতির পরবর্তী গন্তব্য মহাবিশ্বের অন্যান্য স্থান, বিশেষ করে মঙ্গল গ্রহ। তবে এই যাত্রার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জটি হলো, মহাকাশযানের গতি। মহাকাশযানের গতি যত বেশি হবে, মঙ্গলে যাওয়ার ক্ষেত্রে মানুষের সম্ভাবনা ততই বাড়বে। সে সম্ভাবনা উজ্জ্বল করতেই নাসার বিজ্ঞানীরা আরও একধাপ এগিয়েছেন। 

মার্কিন মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান নাসার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক নিবন্ধে বলা হয়েছে, নাসার বিজ্ঞানীরা যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামার মার্শাল স্পেস ফ্লাইট সেন্টারে এই পরীক্ষা চালানো হয়েছে। সেখানে বিজ্ঞানীরা রোটেটিং ডিটোনেশন রকেট ইঞ্জিনের (আরডিআরই) পরীক্ষা চালান। ইঞ্জিনটি থেকে বিজ্ঞানীরা প্রতি একক ক্ষেত্রফলের ওপর সেকেন্ডে ৫৮০০ পাউন্ড বা ২৫ হাজার ৮১০ নিউটনের সমান বল বা ধাক্কা দিতে সক্ষম হন। ইঞ্জিনটি টানা ২৫১ সেকেন্ড সময় ধরে একই পরিমাণ বল প্রয়োগ করে। 

এর আগে, ২০২২ সালে চালানো একই ধরনের ইঞ্জিন সর্বোচ্চ ১৭ হাজার নিউটন পর্যন্ত বল উৎপন্ন করতে পেরেছিল। তবে বিজ্ঞানীরা এখনই স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছেন না। তাদের লক্ষ্য এই আরডিআরই থেকে অন্তত ৪৪ হাজার নিউটন বল উৎপন্ন করা। এ বিষয়ে আরডিআরই প্রকল্পের পরিচালক থমাস টিজলি বলেন, ‘আমাদের এ ধরনের ইঞ্জিনের নকশার তৈরির দক্ষতায় দারুণ অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।’ 

রোটেটিং ডিটোনেশন রকেট ইঞ্জিনের মূল ধারণা তৈরি বাস্তবে আসতে দীর্ঘ কয়েক বছর সময় লেগেছে। প্রথমবারের মতো এই ধরনের ইঞ্জিনের পরীক্ষা চালানো হয় ২০২০ সালে। এর পর ২০২২ সালে আবারও এর পরীক্ষা চালানো হয়। এখন বিজ্ঞানীরা বলছেন, এ ধরনের ইঞ্জিনগুলো বেশ স্থিতিশীল। বিদ্যমান রকেটের চেয়ে দ্রুতগতিতে মহাকাশে যেতে হলে এ ধরনের ইঞ্জিনকে এখন কাজে লাগানো যেতে পারে। 

এই রোটেটিং ডিটোনেশন রকেট ইঞ্জিনের দারুণ বৈশিষ্ট্যগুলোর একটি হলো, এটি বিদ্যমান রকেট ইঞ্জিনের চেয়ে অনেক কম জ্বালানি ব্যবহার করে। বিদ্যমান রকেট ইঞ্জিনের চেয়ে এই আরডিআরইর যান্ত্রিক কাঠামো ও যন্ত্রপাতি অনেক ও বেশি সহজে ব্যবহার করা যায়। এর মানে হলো, এ ধরনের ইঞ্জিন খুব কম খরচেই মহাকাশে যাওয়ার রাস্তা খুলে দেবে। 

আরেকটি দারুণ বিষয় হলো, নাসা এই আরডিআরই তৈরি করতে থ্রি-ডি প্রিন্টিং টেকনিক ব্যবহার করেছে। তারপরও এই ইঞ্জিনের যন্ত্রাংশগুলো এতে উৎপন্ন তাপ ও ধাক্কা সহনীয় বলেই প্রতীয়মান হয়েছে। 

নাসার আশা, ২০৩০ সালের মধ্যে মঙ্গল গ্রহে মানুষ পাঠানোর যে পরিকল্পনা রয়েছে সেই সময় আসার আগেই এই আরডিআরই পুরোপুরি ব্যবহার উপযোগী হয়ে উঠবে। এ বিষয়ে টিজলি বলেন, ‘এই আরডিআরই আমাদের দেখাচ্ছে যে, আমরা আরও হালকা প্রপালশন সিস্টেম তৈরির কাছাকাছি রয়েছি। যা আমাদের আরও বেশি ভর নিয়ে গভীর মহাকাশে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করে দেবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

নয়াদিল্লি হাসিনা আমলের দৃষ্টিভঙ্গিই ধরে রেখেছে: ভারতীয় গণমাধ্যমকে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

বাংলাদেশি পণ্যে ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করলেন ট্রাম্প

বিমসটেক সম্মেলনে ড. ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদি বৈঠক হচ্ছে

বাবা ভাঙ্গার ভবিষ্যদ্বাণী কি সত্যি হলো, ২০২৫ সালে আরও কী হবে

ড. ইউনূসের সেভেন সিস্টার্স নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ

এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত