Ajker Patrika

মানিকগঞ্জে লাল কদম

মাহিদুল ইসলাম মাহি, হরিরামপুর (মানিকগঞ্জ) 
মানিকগঞ্জে লাল কদম

‘বাদল-দিনের প্রথম কদম ফুল করেছো দান, আমি দিতে এসেছি শ্রাবণের গান’। আষাঢ় পেরিয়ে চলে এসেছে শ্রাবণ। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণের মাস। বর্ষা এলেই চিত্তে আলোড়ন তোলে তাঁর কথামালা। সবুজ পাতার ফাঁকে উঁকি দেয় হলদে-সাদা কদম ফুল। কবিগুরুর প্রতিনিধিত্ব করে যেন। তাঁর লেখা বাদল দিনের কবিতার মতো করে।

বাংলা সাহিত্যে বর্ষা যেমন গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করে আছে, তেমনই জায়গা দখল করে আছে কদম ফুল। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম এবং কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদও লিখেছেন কদম ফুল নিয়ে। দ্বিজেন শর্মা কদম ফুল সম্পর্কে তাঁর ‘শ্যামলী নিসর্গ’ বইয়ে লিখেছেন, ‘বর্ণে গন্ধে সৌন্দর্যে কদম এ দেশের রূপসী তরুর অন্যতম।’ 
সচরাচর আমরা সাদা আর হলুদ মিশ্রিত কদম ফুল দেখে থাকি। ভিন্নধর্মী লাল কদম বাংলাদেশে খুব একটা চোখে পড়ে না। নারায়ণগঞ্জ এবং বরিশালে রয়েছে লাল কদম গাছ। মানিকগঞ্জের হরিরামপুরের তরুণ উদ্যোক্তা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী তানভীর আহমেদের বাগানেও ফুটেছে লাল কদম। উপজেলার সুলতানপুর গ্রামে ৫ শতাধিক প্রজাতির ফুল আর ফল গাছের বাগান করেছেন তিনি। 

তানভীর আহমেদ জানান, তিনি জানতে পারেন জাহিদ নামের একজনের কাছে লাল কদম গাছ আছে। সেখান থেকে তাঁর পরিচিত এক আন্টি গাছ নেন। সে আন্টির কাছ থেকে ২টি ছোট চারা গাছ ৪ হাজার টাকায় কেনেন তিনি। লাল কদম বীজের চারা থেকে কদম হলে সাদা হয়। কিন্তু কলম দিয়ে চারা করলে লাল হয়।

তাঁর বাগানে অনেকে কদম ফুল দেখতে আসেন। অন্যদের দেখানোর জন্য ছবি তুলে নিয়ে যান অনেকে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক সাব্বির আহমেদের সঙ্গে মুঠোফোনে লাল কদম নিয়ে কথা হলে তিনি জানান, লাল কদম প্রায় বিলুপ্তির পথে। বিভিন্ন জার্নালে লাল কদম সম্পর্কে তেমন কিছু জানা যায় না। 
কদমের আবাস মূলত দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো হলেও লাল কদম বাংলাদেশে এখন বিলুপ্তির পথে। এটি Anthocephalus গণ এবং Rubiaceae পরিবারের অন্তর্ভুক্ত একটি উদ্ভিদ। বর্তমানে এটি Neolamarckia গণের অন্তর্ভুক্ত এবং বাংলাদেশে একটি বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদ।  

লাল কদমের গাছ নরম কাষ্ঠল হওয়ায় কাঠের তেমন অর্থনৈতিক গুরুত্ব নেই। তবে জ্বালানি হিসেবে এবং দেশলাইয়ের কাঠি তৈরিতে এ কাঠ ব্যবহার করা হয়। এ গাছের ছাল জ্বর ও কৃমিনাশক হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

হরিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম মোবাইল ফোনে জানান, মেধাবী তানভীরের বাগানে অনেক প্রজাতির দেশি–বিদেশি ফুল রয়েছে। লাল কদম ফুল দেখতে শিগগিরই তাঁর বাগানে যাব। প্রয়োজন হলে হরিরামপুর উপজেলা প্রশাসন তাঁকে সহায়তা করবে। 

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত