Ajker Patrika

বাড়তি খরচে কমছে আগ্রহ

মিন্টু মিয়া, নান্দাইল (ময়মনসিংহ)
আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২২, ১২: ০৬
বাড়তি খরচে কমছে আগ্রহ

জ্বালানি তেল ও ইউরিয়া সারের দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে ফসল উৎপাদনে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষ করতে খরচ আগের চেয়ে বেড়েছে। আর জমিতে ব্যবহারের জন্য ইউরিয়া সার আগের চেয়ে কেজিপ্রতি ছয় টাকা বেশি দাম দিয়ে কিনতে হচ্ছে। এ কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জমিতে সেচ দিতে হয় ডিজেলচালিত মেশিন দিয়ে। সেখানেও খরচ বেড়েছে। সব মিলিয়ে উৎপাদন খরচ আগের চেয়ে অনেকে বেড়েছে। খরচ বাড়ায় কৃষি উৎপাদনে আগ্রহ কমছে কৃষকদের।

উপজেলা কৃষি অফিস থেকে বলা হয়েছে, সার ও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় প্রান্তিক কৃষকদের কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। আমরা কৃষি প্রণোদনাসহ সব রকম সুযোগ-সুবিধা কৃষি অফিস থেকে দিচ্ছি ৷ খরচ কমাতে সারের যুক্তিগত ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

জানা গেছে, নান্দাইলে রোপা আমন ধান উৎপাদনের জন্য মাঠে কাজ করছেন কৃষকেরা। ইতিমধ্যে কেউ জমি চাষে ব্যস্ত, কেউ বীজতলা থেকে চারা ওঠাতে ব্যস্ত, আবার কেউ চারা রোপণে ব্যস্ত। সব মিলিয়ে আমন মৌসুমে পুরোদমে মাঠে কৃষকেরা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। গত সপ্তাহ থেকে বৃষ্টি না হওয়ায় কোথাও কোথাও জমি শুকিয়ে গেছে। অনেক কৃষক সেচের পানি দিয়ে জমি প্রস্তুত শুরু করেও বিদ্যুতে লোডশেডিংয়ের কারণে বেকায়দায় আছেন। ইউরিয়া সারের দাম কেজিতে ৬ টাকা বাড়িয়ে ২২ টাকা নির্ধারণ করেছে সরকার। ইউরিয়া সারের দাম ৫০ কেজির বস্তায় বেড়েছে ৩০০ টাকা। এদিকে জ্বালানি তেলের (ডিজেল) দাম ৩৪ টাকা বাড়িয়ে ১১৪ টাকা নির্ধারণ করেছে সরকার। ফলে ১০ শতাংশ জমি চাষ করতে ২২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩২০-৩৫০ টাকা করেছেন ট্রাক্টর মালিকেরা। জ্বালানি তেল, সার ও শ্রমিকের মূল্যবৃদ্ধিতে ফসল উৎপাদনে লোকসানের মুখে পড়েছেন কৃষক।

আরও জানা গেছে, উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় এ বছর ২২ হাজার ৩৮০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এতে ৬৩ হাজার ৬২৪ মেট্রিক টন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ বছর ১ হাজার ২৩০ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করা হয়েছে ৷ রোপা আমন মৌসুমে ৫৮০ জন কৃষককে বীজ ও সার প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। বি ও বিনা জাতের ১ হাজার কেজি বীজ সহায়তা দেওয়া হয়েছে ৷

উপজেলার মোয়াজ্জেমপুর, বীর বেতাগৈর, শেরপুর, নান্দাইল ইউনিয়ন ও পৌরসভার বেশ কয়েকটি গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকেরা আমন মৌসুমে বি-৮৭, বিনা ৪৯ ও বি-৪৯ জাতের ধান বেশি রোপণ করছেন।

উপজেলার মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়নের মোয়াজ্জেমপুর গ্রামের কৃষক মাসুদ মিয়া বলেন, ‘অনেক দিন বৃষ্টি না হওয়ায় জমিতে চাষ করা হয়নি। এখন বৃষ্টি হচ্ছে আমরা আর বসে নেই। আমন ধানের চারা রোপণে নেমে পড়েছি। তবে হতাশায় আছি, যে হারে সার ও ডিজেলের দাম বেড়েছে, ধান উৎপাদন করে লাভ হবে কি না।’

নান্দাইল পৌরসভার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান সুমন বলেন, ‘আমরা কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের সব রকম সহযোগিতা করছি। কীভাবে কম খরচে ফসল উৎপাদন করা যায়, সে ব্যাপারে মাঠ পর্যায়ে ঘুরে ঘুরে সব রকম পরামর্শ কৃষকদের দিয়ে যাচ্ছি।’

নান্দাইল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কৃষিবিদ মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান বলেন, ‘উপজেলায় এ বছর ২২ হাজার ৩৮০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধানের চাষ করা হবে। বর্তমানে সার ও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় প্রান্তিক কৃষকদের একটু সমস্যা হচ্ছে ৷ আমরা কৃষি প্রণোদনাসহ সব রকম সুযোগ-সুবিধা কৃষি অফিস থেকে দিচ্ছি। খরচ কমাতে সারের যুক্তিগত ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। এ ব্যাপারে ডিওপি সারের ব্যবহার বাড়াতে হবে। তা ছাড়া কৃষি অধিদপ্তর থেকে যত রকম সহযোগিতা আছে, সেগুলো আমরা কৃষকদের দেব।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

‘মিডিয়া ছুটায় দেব, চেনো আমাদের’—সাংবাদিককে হুমকি কুড়িগ্রামের এসপির

সৌদি রাষ্ট্রদূতের অভিযোগের ভিত্তিতেই মডেল মেঘনা কারাগারে

মডেল মেঘনাকে আটকের দিনই ঢাকা ছাড়েন সৌদি রাষ্ট্রদূত ঈসা

বান্দরবান, মণিপুর, মিজোরাম ও রাখাইন নিয়ে খ্রিষ্টান রাষ্ট্র করার ষড়যন্ত্র চলছে: বজলুর রশীদ

ইসলামপুর বিএনপির সহসভাপতি যোগ দিলেন জামায়াতে

এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত