Ajker Patrika

ওমর খৈয়াম

সম্পাদকীয়
ওমর খৈয়াম

সাহিত্য বোদ্ধাদের কাছে তিনি ওমর খৈয়াম নামে বেশি পরিচিত। তাঁর পুরো নাম গিয়াসউদ্দিন আবুল ফাতেহ ওমর ইবনে ইব্রাহিম আল-খৈয়াম নিশাপুরি। নামটি যেমন বড়, তেমনি এই মানুষটি অনেক ক্ষেত্রে বড় বড় কাজ করে গেছেন। ফারসি কবি হিসেবে পরিচিত হলেও তিনি একাধারে ছিলেন গণিতবেত্তা, দার্শনিক ও জ্যোতির্বিদ।

তিনি হাজার বছর আগের মানুষ। কিন্তু তাঁর সৃষ্টির প্রভাব এতটুকু কমেনি। তাঁর প্রতি সারা বিশ্বের সাহিত্যিক মহলে সৃষ্ট মোহ ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষে শুরু হয়ে এখন পর্যন্ত বিরাজমান।

ধারণা করা হয়, রনে দেকার্তের আগে ওমর খৈয়ামই বিশ্লেষণী জ্যামিতি আবিষ্কার করেছিলেন। স্বাধীনভাবে গণিতের দ্বিপদী উপপাদ্য আবিষ্কার করেছিলেন বীজগণিতে ত্রিঘাত সমীকরণের সমাধানও প্রথম তাঁর হাতেই হয়েছিল।

এখন থেকে প্রায় এক হাজার বছর আগে, যা ইসলামি সভ্যতার সোনালি যুগ নামে পরিচিত, সেই সময়ে বীজগণিতের অনেক উপপাদ্য এবং জ্যোতির্বিদ্যার অনেক কিছু তত্ত্বায়ন করেছিলেন। সেগুলো এখনো গণিতবিদ এবং জ্যোতির্বিদদের গবেষণার সূত্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তাঁর আরেকটি বড় অবদান হলো ইউক্লিডের সমান্তরাল স্বীকার্যের সমালোচনা, যা পরবর্তী সময়ে অ-ইউক্লিডীয় জ্যামিতির সূচনা করেছিল।

তিনি রুবাই লিখেছিলেন, যা চার লাইনের কবিতা। এর বহু বচন হলো রুবাইয়াৎ। তিনি এক হাজারের বেশি রুবাই লিখেছেন। তাঁর পুরো সংকলনই ‘রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম’ নামে পরিচিত।

প্রখ্যাত দার্শনিক ও সাহিত্যিক টমাস হাইড প্রথম তাঁর কাজ সম্পর্কে গবেষণা করেছিলেন। তবে বিশ্বে খৈয়ামকে সবচেয়ে জনপ্রিয় করেন এডওয়ার্ড ফিটজেরাল্ড। বাংলা সাহিত্যে ওমর খৈয়ামের রুবাইয়াৎ প্রথম অনুবাদ করেন কবি কাজী নজরুল ইসলাম। ১৯৫৯ সালে তাঁর অনুবাদ করা বইটি প্রকাশিত হয়।

পারস্যের বিখ্যাত দার্শনিক মোহাম্মদ মনসুরীর কাছে শিক্ষাজীবন সমাপ্ত করেছিলেন তিনি। দীক্ষা নিয়েছিলেন ধর্মীয় শাস্ত্র, দর্শন ও গণিতে। পারদর্শী হয়ে তারপর চলে যান খোরাসানের সবচেয়ে বিখ্যাত শিক্ষক ইমাম মোয়াফফেক নিশাপুরির কাছে। তাঁর পদতলে সমর্পণ করেন নিজেকে।

বিখ্যাত এই কবি ও মনীষী ১১৩১ খ্রিষ্টাব্দের ৪ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত