অনলাইন ডেস্ক
কালজয়ী লেখক দুই বাংলায় জনপ্রিয় সাহিত্যিক সমরেশ মজুমদার মারা গেছেন। আজ সোমবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয় বলে ভারতের বার্তা সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে।
৭৯ বছর বয়সী এই ভারতীয় বাঙালি ঔপন্যাসিক দীর্ঘদিন ধরে ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজে (সিওপিডি) আক্রান্ত ছিলেন। একমাসের বেশি সময় তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
সিওপিডি ফুসফুসের একধরনের জটিল রোগ। এতে শ্বাসপ্রশ্বাস নিতে মারাত্মক সমস্যা হয়।
হাসপাতালের এক কর্মকর্তা পিটিআইকে বলেন, ‘১২ বছরের বেশি সময় ধরে সিওপিডিতে ভুগছিলেন সমরেশ মজুমদার; একমাসের বেশি সময় ধরে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। সম্প্রতি তাঁর স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটলে তাকে কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাস যন্ত্র (ভেন্টিলেটর) দিয়ে বাঁচিয়ে রাখা হয়।’
সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কারজয়ী সমরেশ মজুমদার ১৯৭০ এর দশকে নকশালবাড়ি আন্দোলনের উত্তাল সময়কে চিত্রিত করে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। বাংলা সাহিত্যের প্রবাদপ্রতিম এই সাহিত্যিক ‘সাতকাহন’ থেকে ‘গর্ভধারিণী’, ‘উত্তরাধিকার’, ‘কালবেলা’, ‘কালপুরুষ’, অর্জুন, মেজরের অ্যাডভেঞ্চার— নামে একের পর এক ধ্রুপদি সাহিত্য সৃষ্টি করেছেন।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শোক করে বলেন, ‘সমরেশ মজুমদারের প্রয়াণে সাহিত্য জগতের এক অপূরণীয় ক্ষতি হল। আমি সমরেশ মজুমদারের আত্মীয়-পরিজন ও অনুরাগীদের আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি।’
যেভাবে অনিমেষ-মাধবীলতার স্রষ্টা সমরেশ
উত্তরাধিকার, কালবেলা, কালপুরুষসহ বেশ কয়েকটি কালজয়ী উপন্যাসের লেখক সমরেশের জন্ম ১৯৪৪ সালে উত্তরবঙ্গের গয়েরকাটায়।জলপাইগুড়ি জিলা স্কুলে তাঁর শিক্ষাজীবন শুরু। ষাটের দশকের গোড়ায় তিনি কলকাতায় এসে স্কটিশ চার্চ কলেজের বাংলা বিভাগের স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে ভর্তি হন।পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন।
১৯৭৫ সালে ‘দেশ’ পত্রিকায় তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘দৌড়’ প্রকাশিত হয়। তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে আছে- গর্ভধারিণী, সাতকাহন, তেরো পার্বণ, স্বপ্নের বাজার, ভিক্টোরিয়ার বাগান, আট কুঠুরি নয় দরজা, অগ্নিরথ ইত্যাদি। তাঁর লেখা কিশোর গোয়েন্দা চরিত্র অর্জুন বাংলা সাহিত্যে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। রুপোলি পর্দাতেও দেখা গিয়েছে অর্জুনকে। সমরেশের উপন্যাস ‘কালবেলা’ এবং ‘বুনো হাঁস’ অবলম্বনে তৈরি হয়েছে জনপ্রিয় বাংলা সিনেমা্ও।
নকশালবাড়ি আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে অনিমেষ ও মাধবীলতার চরিত্র ঘিরে তৈরি কাল্পনিক উপন্যাস কালবেলার জন্য ১৯৮৪ সালে সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার পান সমরেশ। তারও আগের ১৯৮২ সালে পেয়েছিলেন আনন্দ পুরস্কার। ‘কলকাতায় নবকুমার’- এর জন্য ২০০৯ সালে বঙ্কিম পুরস্কার পান তিনি।
পশ্চিমবঙ্গ সরকার ২০১৮ সালে সমরেশ মজুমদারকে 'বঙ্গবিভূষণ' সম্মান প্রদান করে। এছাড়া তিনি সাহিত্য অকাদেমি অ্যাওয়ার্ড, আনন্দ পুরস্কার, বিএফজেএ পুরস্কারসহ অজস্র সম্মানে ভূষিত হয়েছেন।
আরও পড়ুন: