হোম > খেলা > ক্রিকেট

বাংলাদেশ বুঝল নেপালও ভয়ংকর

রানা আব্বাস, সেন্ট ভিনসেন্ট থেকে

নেদারল্যান্ডসকে হারানোর পরের দিনটা ছুটির মেজাজে কাটল বাংলাদেশ দলের। ক্যারিবীয় দ্বীপে এসে সমুদ্রবিলাস হবে না, তা কি হয়! মাহমুদউল্লাহরা তাই বিশ্রামের দিনে সমভিব্যাহারে বেরিয়ে পড়লেন সমুদ্রদর্শনে। দলের রোমাঞ্চপ্রিয় কেউ কেউ করলেন স্কুবা ডাইভিংও। 

কিন্তু আসল রোমাঞ্চকর দৃশ্য তো সমুদ্রে নয়, বাংলাদেশ দল সেটা দেখল সন্ধ্যায়, হোটেলে বসে। সেই রোমাঞ্চ উপহার দিল নেপাল দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুর্দান্ত খেলে। কী এক শ্বাসরুদ্ধকর লড়াই দেখা গেল সেন্ট ভিনসেন্টের আর্নস ভেলে। ঘুম ঘুম চোখে বাংলাদেশের দর্শক কাল সকালে উঠে যদি স্কোরকার্ডে দেখেন, মাত্র ১ রানে নেপালকে হারিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা, তাতে বোঝা যাবে না, আর্নস ভেলের এই রাতে কী রোমাঞ্চ উপহার দিয়েছেন নেপালিরা। 

সেন্ট ভিনসেন্টের মন্থর স্পিনসহায়ক উইকেটে স্পিনারদের ভেলকিতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১১৫ রানে আটকে ফেলে নেপাল। গ্যালারির বিপুল দর্শকদের সমর্থন নিয়ে স্নায়ুক্ষয়ী সব মুহূর্ত পেরিয়ে শেষ ওভারের ৮ রানের সমীকরণও প্রায় মিলিয়ে ফেলেছিল তারা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হলো না, তাদের হার মানতে হলো মাত্র ১ রানে। এত কাছে তবু কত দূরে! এত কাছে এসেও গড়া হয়নি নেপালি ইতিহাস, হিমালয়ের পাদদেশে একটুর জন্য হয়নি উৎসব। 

নেপালের এই অবিশ্বাস্য লড়াই দেখে স্বাভাবিকভাবেই টেনশন বেড়ে গিয়েছিল বাংলাদেশের। খেলা দেখতে দলের বেশির ভাগ সদস্যের সন্ধ্যার পর চোখ ছিল টেলিভিশন অথবা ফোনের পর্দায়। নেপাল জিতে গেলে একই মাঠে একই প্রতিপক্ষের সঙ্গে ঈদের দিন বাংলাদেশকে নামতে হতো বাঁচা-মরার ম্যাচ ধরে। ওই ম্যাচে নেপাল জিতে গেলে বাংলাদেশকে বিদায় নিতে হতো গ্রুপ পর্ব থেকে। 

তবে বাংলাদেশের সেই চিন্তা কমিয়ে দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। এই জয়ে শান্তরা ২ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে নিরাপদ অবস্থানে আছেন। ঈদের দিনে নেপালকে হারালেই সুপার এইটে চলে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সেটি হলে শান্তদের আর কোনো হিসাবই মেলাতে হবে না; তাকাতে হবে না একই দিনে হতে যাওয়া শ্রীলঙ্কা-নেদারল্যান্ডসের ম্যাচের দিকেও। 

চিন্তা কিছুটা কমলেও নেপাল কতটা বিপজ্জনক, সেই বার্তা পেয়ে গেছে বাংলাদেশ। নেপাল অধিনায়ক রোহিত পাউডেল ম্যাচ শেষে জানিয়ে রেখেছেন, দক্ষিণ আফ্রিকার মতো বাংলাদেশের বিপক্ষেও তাঁরা জিততে উন্মুখ। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, ‘আমরা পরিস্থিতি নিয়ে সচেতন। আজ জিতলে বাংলাদেশ ম্যাচটা আমাদের কাছে পরিষ্কার নকআউট হয়ে যেত। সামনের ম্যাচও আমাদের জন্য গৌরবের হবে। আমরা টেস্ট খেলুড়ে দলকে হারাতে চেয়েছি। এটা আজ হয়নি। আমরা পরের ম্যাচেও সেটাই চাই। আমরা যে আত্মবিশ্বাস পেয়েছি, সেটা ধরে রাখতে চাই।’ 

যতই পাউডেল ‘হুমকি’ দেন, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খুব কাছে গিয়ে হেরে যাওয়ায় নেপাল মানসিকভাবে একটু পিছিয়েই থাকবে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দুই দলের একটাই সাক্ষাৎ—সেটিতে ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানেই হারিয়েছিল বাংলাদেশ। ২০১৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চট্টগ্রামে নেপালের বিপক্ষে সেই ম্যাচ খেলা শুধু দুজন খেলোয়াড় আছেন বর্তমান বাংলাদেশ দলে—সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহ। নিশ্চয়ই দুই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার এই ম্যাচেও অনুজ সতীর্থদের পথ দেখানোর কাজটা করবেন। সুপার এইট নিশ্চিত করে দেশবাসীকে ঈদ উপহার দেবেন। 

তবে আর্নস ভেলের উইকেটের যে আচরণ, তাতে ঘূর্ণিশক্তিতেই জোর দিতে হতে পারে বাংলাদেশকে। একজন ব্যাটার কমিয়ে অর্থাৎ জাকের আলীকে বাদ দিয়ে শেখ মেহেদীর মতো স্পিনিং অলরাউন্ডার খেলাতে পারে বাংলাদেশ। 

বাংলাদেশের বিপক্ষে নেপাল যা-ই করুক, এরই মধ্যে তারা মুগ্ধতা ছড়িয়েছে। মাঠের পারফরম্যান্স আর খেলাটার প্রতি নেপালিদের এত আবেগ দেখে ভারতীয় ধারাভাষ্যকার সঞ্জয় মাঞ্জরেকারের ভবিষ্যদ্বাণী, ‘নেপাল একটা দল, তাদের দিকে আগামী ১০ বছর চোখ রাখতে হবে।’ 

 ১০ বছর অনেক সময়; সেন্ট ভিনসেন্টেই বাংলাদেশ গভীর দৃষ্টি রাখছে নেপালের দিকে—সুপার এইটের চাবি মিলবে যে এ ম্যাচেই! 

নতুন ঝামেলায় বিসিবি, স্থগিত প্রথম বিভাগ ক্রিকেট

ঢাকা ক্যাপিটালের বার্তা স্পর্শ করেছে লিটনকে

বুমরা, শামি, পান্ডিয়াকে নিয়েই চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ভারত

দাপুটে জয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু বাংলাদেশের

যেখানে শেষ করেছেন, সেখান থেকেই শুরু চান সৌম্য

আজ বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ নেপাল

বাকি সব ম্যাচে হারলেও সমস্যা নেই রংপুরের, নিশ্চিত প্লে-অফ

পাকিস্তানের খেলা শুরু হতে আজও একই সমস্যা, দেখবেন কোথায়

ভিন্ন ভেন্যুতেও অজেয় রংপুর

খুশদিলের তাণ্ডবে শেষ ৩৬ বলে ৮১ রংপুরের

সেকশন