মহালছড়ি (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি
খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে ২০১৭ সালে একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণের জন্য ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। কিন্তু চার বছর পেরিয়ে গেলেও সেই স্টেশন নির্মাণের কাজ এখনো শুরু হয়নি। এতে স্থানীয় পর্যায়ে কোনো অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হন স্থানীয় বাসিন্দারা।
জানা গেছে, ২০১৭ সালে খাগড়াছড়ির গণপূর্ত বিভাগ মহালছড়িতে একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করে। এরপর স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজাতীয় শরণার্থীবিষয়ক টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। কিন্তু যেখানে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণের জন্য ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে, সেই জমি স্থানীয় আক্তার-উল আলম নামের এক ব্যক্তি ক্রয়সূত্রে মালিক হিসেবে দাবি করেন।
এরপর তিনি জমির মালিকানা দাবি করে হাইকোর্টে একটি রিট করেন। রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট ওই জমিতে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণকাজের ওপর স্থগিতাদেশ দেন। এর ফলে দীর্ঘ চার বছর ধরে ঝুলে আছে স্থাপনার কাজ।
এ বিষয়ে মহালছড়ি সদর ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রতন কুমাল শীল জানান, আক্তার-উল আলম যে জায়গার দাবি করছেন, তাঁর নামে বৈধ কোনো কাগজপত্র নেই। এই জায়গা ফ্রিজল্যান্ডের সরকারি জায়গা। আক্তার-উল আলমের নামে কোনো স্থায়ী বাসিন্দার সনদও নেই। ভূমি অফিসের রেজিস্ট্রারে তাঁর কোনো নামও নেই।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আক্তার-উল আলম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘মহালছড়ির কুমিল্লাটিলা এলাকায় ফ্রিজল্যান্ডের জায়গা আঞ্চলিক দলিলমূলে কয়েক দাগে চৌদ্দ একরের মতো স্থানীয়দের কাছ থেকে ক্রয় করেছি।’
মহালছড়ি উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. জসিম উদ্দিন জানান, ফায়ার সার্ভিস স্টেশনটি নির্মাণ এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি। মহালছড়ি বাজারে প্রতিবছরই কোনো না কোনো অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মহালছড়ি বাজার ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণ।
এ বিষয়ে খাগড়াছড়ি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক দিদারুল আলম বলেন, বদলিজনিত কারণে তিনি এখন খাগড়াছড়ির বাইরে আছেন।