নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
কাগজে-কলমে ২০২২-২৩ ফুটবল মৌসুম থেকে অবনমন হয়েছে একসময়ের দেশের ফুটবলের পরাশক্তি মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্রের। পেশাদার লিগে দুবারের রানার্সআপ ও ঢাকা লিগে দুবারের চ্যাম্পিয়ন দলটি তবু আবেগকে পুঁজি করে শীর্ষ লিগে টিকে থাকার চেষ্টা করে যাচ্ছে।
নিজেদের অবনমন ঠেকাতে গতকাল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) কাছে আবেদন করেছে মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের অনুমোদন নিয়ে সেই আবেদনপত্র গতকাল বিকেলে জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা ক্লাবের ম্যানেজার আরিফুল ইসলাম। বাফুফের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন তুষার চিঠির প্রাপ্তিস্বীকার করেছেন।
কী আছে সেই চিঠিতে? আরিফুল ইসলাম বললেন, ‘বাফুফের কাছে আমরা আবেদন করেছি, আমাদের অতীত ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের আবেগের কথা চিন্তা করে হলেও যেন আমাদের অবনমন না করানো হয়। এই দেশের ফুটবলে মুক্তিযোদ্ধা একটি ঐতিহ্য, একটি আবেগের নাম। সেই দলটা শীর্ষ লিগে না থাকা মানে ফুটবলে মুক্তিযোদ্ধাদের নামই মুছে যাওয়া। আমরা জাতীয় দলকে খেলোয়াড় দিই।’
২০২২-২৩ মৌসুম থেকে দুই দলের অবনমন এরই মধ্যে নিশ্চিত হয়ে গেছে। ১৯ ম্যাচে ১৫ পয়েন্টে অবনমিত মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে প্রথম মৌসুমেই অবনমন ঘটেছে আজমপুর উত্তরা ফুটবল ক্লাবের। মুক্তিযোদ্ধার চাওয়া আজমপুরকে দ্বিতীয় স্তরে নামানো হলেও তাদের যেন পরের মৌসুমে অন্তত আরেকটি সুযোগ দেওয়া হয়। আর সুযোগ পেলে আগামীবার শক্তিশালী দল গড়ার প্রতিশ্রুতি আরিফুলের। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর কাছ থেকে ভালো দল গড়ার আশ্বাস এসেছে বলেও জানালেন তিনি। বললেন, ‘বসুন্ধরা কিংস-আবাহনীর মতো দল গড়া সম্ভব নয়, তবে আমরা লিগে চার-পাঁচে থাকার মতো একটা দল গড়তে পারব।’
২০১১ ও ২০১২ সালে টানা দুই মৌসুমে রানার্সআপ হওয়া মুক্তিযোদ্ধার অবনতি টের পাওয়া যাচ্ছিল গত কয়েক মৌসুম ধরেই। ২০১৭-১৮ মৌসুমে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছিল ঢাকা লিগে দুইবারের সেরা দলটি। সেবার ১২ দলের মধ্যে ১১তম হয়েছিল মুক্তিযোদ্ধা, ১ পয়েন্টের জন্য ঠেকেছিল অবনমন। ক্রমাগত নিচে নামতে থাকার পরও টনক নড়েনি ক্লাব কর্তৃপক্ষের। দুই বছর আগে জাপানি খেলোয়াড় কাতো ইয়েসুকের মাধ্যমে পৃষ্ঠপোষকদের কাছে হাতও পাততে হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের সাহায্যে চলা লাগবে ক্লাবকে। ডুবতে থাকার সময় ক্লাবকে কেন টেনে তোলা হলো না—এমন প্রশ্নে আরিফুলের জবাব, ‘আমাদের সাত বছর ধরে কোনো নির্বাচন নেই। অবনমন হওয়ার পর মন্ত্রণালয়ের কাছে বিষয়টি লজ্জার ঠেকেছে। এবার তারা ভালো দল গড়তে চায়।’
এবারের মৌসুম শেষ হবে আগামীকাল। এই মৌসুমে কাল শেষ ম্যাচ খেলবে মুক্তিযোদ্ধা। এই দলটাকে অবনমন করানো হবে কি না, তা নিয়ে দ্বিধা-বিভক্তি আছে বাফুফের ভেতরেও। গুঞ্জন আছে, মুক্তিযোদ্ধাকে একটা সুযোগ দেওয়ার পক্ষে বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনও। আরেক পক্ষের দাবি, মুক্তিযোদ্ধাকে আনুকূল্য দেখালে অন্যায় করা হয় আরেক ঐতিহ্যবাহী ক্লাব ব্রাদার্স ইউনিয়নকেও। ২০২০-২১ মৌসুমে অবনমিত হওয়া ব্রাদার্সও আবেদন করেছিল নিজেদের অবনমন ঠেকানোর। সেই আবদারে কান দেয়নি বাফুফে। এবার কি মুক্তিযোদ্ধা ক্লাবের আবেদনে সাড়া দেবে বাফুফে? মুক্তিযোদ্ধার ভাগ্য তাই বাফুফের নির্বাহী কমিটির হাতেই তুলে দিয়েছেন সালাউদ্দিন। আজকের পত্রিকাকে তিনি বলেছেন, ‘মুক্তিযোদ্ধার সিদ্ধান্ত হবে নির্বাহী কমিটির সভায়। এখানে কোনো পক্ষের মতকে প্রাধান্য দেওয়ার সুযোগ নেই।’