দেবিদ্বার প্রতিনিধি
দেবিদ্বারে মাদকের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। তাঁদের দাবি, মাদকের কারণে এলাকায় অনেক সংসার ভেঙেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে দেবিদ্বার পৌর এলাকার বড় আলমপুরে এ মানববন্ধন হয়। এ সময় মাদক নির্মূলে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে এককাট্টা হওয়ার ঘোষণা দেন তাঁরা।
তরুণ প্রজন্ম যুব সংঘ-এর আয়োজনে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন স্থানীয় খোরশেদ আলম মাস্টার, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবের আহম্মেদ, ওয়ার্ড কমিশনার মো. শহিদুল ইসলাম, পৌর যুবলীগের সহসভাপতি মো. আবুল হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান, সেলিম মিয়া, আরিফ হোসেন, ছাত্রলীগ নেতা মঞ্জুরুল হাছান, সেলিম সরকার, রাজিব সরকার প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, ‘এলাকা মাদকে ছেয়ে গেছে। কয়েকজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী পুরো এলাকায় মাদকের বিস্তার ঘটাচ্ছেন। তাঁদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে। বক্তারা, বড় আলমপুরের মোশারফ হোসেন ও বিনাইপাড় গ্রামের হাবিবের নাম উল্লেখ করে বলেন, ‘এই দুজন সব সময় ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থেকে মাদক সরবরাহের সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। আমরা এর থেকে নিস্তার চাই। মাদকের কারণে এলাকায় কেউ আত্মীয়তা করতে চান না। মাদকের কারণে এলাকার অনেক সংসার ভেঙেছে।’
বক্তারা আরও বলেন, মাদকের কারণে এলাকায় চুরি, ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়েছে। পরিবারে মারামারি হানাহানি হচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম মাদকে আসক্ত হয়ে পড়ছে। বিভিন্ন অপরাধমূলক কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়ছে তারা।
তরুণ প্রজন্ম যুব সংঘের সভাপতি মো. আবুল হোসেন বলেন, ‘গোমতীর বেড়িবাঁধসহ বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে বসে জুয়া ও মাদকের রমরমা আসর। উঠতি বয়সের যুবক ও তরুণেরা এ আসরে প্রতিদিন বসেন। মাদকের টাকার জোগাড় করার জন্য এলাকায় চুরি-ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে তারা। এলাকার যুবক ও তরুণদের নিয়ে মাদক নির্মূল কমিটি করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা প্রতিদিন বিভিন্ন স্থানে পাহারায় বসেন। কমিটির সদস্যরা সম্প্রতি দুই কেজি গাঁজাসহ একজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে।’
এ বিষয়ে কথা হলে বড় আলমপুরের অভিযুক্ত মোশারফ হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘তাঁরা আমাদের ফাঁসানোর জন্য মানববন্ধন করেছেন। আমি ভালো চলি, ভালো খাই এটা তাঁদের সহ্য হয় না।’ আলমপুরের ৯০ ভাগ মানুষ মাদকের সঙ্গে জড়িত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিনাইপাড় গ্রামের হাবিব বলেন, ‘আমি এসবের সঙ্গে জড়িত না।’